নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ম্যাট্রিমনিয়াল সাইটে পরিচয়। তারপর বন্ধুত্ব ও ঘনিষ্ঠতা। চারহাত এক করার পরিকল্পনা সাজাতে যুবককে হোটেলে ডেটিংয়ে ডেকেছিলেন তরুণী। তারপর তরুণী প্রস্তাব দিয়েছিলেন, ‘চা খাবেন? আমি নিজের হাতে বানাব’। ডেটিংয়ে এসে এমন প্রস্তাবে না বলার কোনও কারণ খুঁজে পাননি যুবক! গরম চায়ে চুমুক দিয়েই অচেতন! পরদিন যখন তাঁর জ্ঞান ফিরল, দেখলেন হোটেলের বিছানায় পড়ে রয়েছেন! হবু স্ত্রী উধাও। লুট হয়েছে মানিব্যাগ ও স্মার্টফোন। যুবক বুঝতে পারলেন, হবু স্ত্রী নয়, আসলে তিনি প্রতারকের খপ্পরে পড়েছেন। বিমানবন্দর থানা এলাকার এই ঘটনায় অভিযুক্ত তরুণীকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিস। প্রাথমিক তদন্তে পুলিসের অনুমান, শুধু এই ঘটনাই নয়, অনেক যুবকের সঙ্গেই এই ঘটনা ঘটিয়েছেন ধৃত তরুণী।
পুলিস জানিয়েছে, ধৃত তরুণী সংশ্লিষ্ট ম্যাট্রিমনিয়াল সাইটের প্রোফাইলে জিয়া সিং নাম ব্যবহার করেছিলেন। তাঁর আসল নাম রমা কুমারী সাউ। প্রতারিত যুবকের বাড়ি নিউবারাকপুর এলাকায়। জিয়া সিংয়ের প্রোফাইল দেখে পছন্দ হয় ওই যুবকের। তারপর দু’জনে ফোন নম্বর বিনিময় করে কথা বলেন। বিয়ের পরিকল্পনাও করেন। যুবক তরুণীকে তাঁর বাড়িতে আমন্ত্রণ করেছিলেন। কিন্তু তরুণী জানান, বাড়িতে নয়। তাঁরা ডেটিং করবেন হোটেলে। সেই মতো বিমানবন্দর আড়াই নম্বর গেট এলাকায় একটি হোটেলে রুম বুকিং করেছিলেন ওই তরুণী।
ডেটিংয়ের দিনটি ছিল ১ জুলাই। ওইদিন সন্ধ্যায় দু’জনে হোটেলে ওঠেন। এক ঘণ্টা সেখানে থাকার কথা ছিল। সামান্য কিছু কথাবার্তার পরই চায়ের অফার করেন তরুণী। সন্ধ্যা ৬টা পর তরুণী চা বানিয়ে তাঁকে দেন। সেই চা পানের পরই যুবক অচেতন হয়ে পড়েন। অভিযোগ, চায়ের সঙ্গে মাদক জাতীয় কিছু খাইয়ে যুবককে অচেতন করে দেন তরুণী। পরদিন সকালে যুবকের জ্ঞান ফেরে। তিনি পুলিসকে বলেছেন, ‘আমি উঠে দেখি, তরুণী নেই। আমার মানিব্যাগে সাড়ে ৪ হাজার টাকা ছিল। সেই টাকা এবং আমার দামি স্মার্টফোন নিয়ে পালিয়েছে।’
ওই যুবক হোটেলের রিসেপশনে গিয়ে জিজ্ঞাসা করেন, তরুণী কখন চলে গেলেন? রিসেপশন থেকে জানানো হয়, ভোররাত ৩টে নাগাদ তিনি বেরিয়ে গিয়েছেন। পুরো বিষয়টি উল্লেখ করে ওই যুবক বিমানবন্দর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিস ওই তরুণীকে গ্রেপ্তার করার জন্য ছদ্মনাম ব্যবহার করে চাকরির টোপ দেয়। সেই টোপ গিলে নেন তরুণী। তারপরই রবিবার সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এক পুলিস আধিকারিক বলেন, ধৃত তরুণী কতজন যুবকের সঙ্গে এই প্রতারণা করেছেন, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।