Bartaman Logo
৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

টাকা ঢোকেনি অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণাদের বিক্ষোভে উত্তাল দাসপুর

দাসপুরে অন্নপূর্ণা প্রকল্পের টাকা না পেয়ে মহিলাদের তুমুল বিক্ষোভ। প্রশাসনের গাফিলতির অভিযোগে উত্তাল পরিস্থিতি। বিস্তারিত পড়ুন।

টাকা ঢোকেনি অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণাদের বিক্ষোভে উত্তাল দাসপুর
  • ৪ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ঘাটাল: অন্নপূর্ণায় বঞ্চিত মহিলাদের তুমুল বিক্ষোভের জেরে তেতে উঠল দাসপুর। পয়লা জুলাই সরকারের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা দেওয়া হয়। ঘাটাল-দাসপুরের বহু মহিলার অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা করে ঢুকেছে। কিন্তু, দাসপুর-১ ও দাসপুর-২ ব্লকের বিভিন্ন এলাকার বহু মহিলা অন্নপূর্ণার টাকা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হন। শুক্রবার দাসপুর-১ বিডিও অফিসে এবং ওই ব্লকের পাঁচবেড়িয়া গ্রামপঞ্চায়েত, দাসপুর-২ ব্লকের সাহাচক গ্রামপঞ্চায়েত কার্যালয়ে বঞ্চনার অভিযোগে শামিল হন দলে দলে মহিলা। তুমুল বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তাঁরা। মুহূর্তেই ধুন্ধুমার পরিস্থিতির তৈরি হয়। দাসপুর-১ ব্লক অফিসে পরিস্থিতি এতটাই ঘোরালো হয়ে ওঠে যে বিক্ষোভরত মহিলাদের সামাল দিতে বিশাল পুলিশ বাহিনীকে নামতে হয় ময়দানে। নামানো হয় মহিলা পুলিশও। শেষে আসরে নামেন জয়েন্ট বিডিও সুজন দলুই। তিনি মাইক হাতে বেশ কয়েক শ’মহিলাদের আশ্বস্ত করেন। তিনি বলেন, ‘সমস্ত যোগ্য আবেদনকারীরাই টাকা পেয়ে যাবেন। একটু ধৈর্য্য ধরুন।’ সুজনবাবুর কথায় পরিস্থিতি খানিক স্বাভাবিক হয়। 

Advertisement

জানা গিয়েছে, গত জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে বহু উপভোক্তা টাকা পেয়েছিলেন। কিন্তু এবার তাঁদের অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা ঢোকেনি। আবার জুন মাসে যাঁরা নতুন করে আবেদন করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে একাংশ টাকা পেলেও বহু আবেদনকারী তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। আর তাতেই ক্ষোভ গিয়ে পড়েছে স্থানীয় প্রশাসনের ওপর। ক্ষুব্ধ উপভোক্তাদের অভিযোগ, সরকারি কর্মীদের চরম গাফিলতি, তথ্য এন্ট্রিতে ভুল অথবা ইচ্ছে করে এন্ট্রি না করার ফলেই তাঁরা প্রাপ্য অনুদান থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। প্রকল্পের সুবিধা না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন দাসপুর গঞ্জের মিতালি বাগ, শ্যামসুন্দরপুরের সুমিতা দলুইরা। তাঁরা আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘আমরা গত জুন মাসে তিন হাজার করে টাকা পেয়েছিলাম। এবার একটা টাকাও পাইনি। আমাদের অনেক পরিচিতরা আবেদন করেও টাকা পাননি।’ পাঁচবেড়িয়া গ্রামপঞ্চায়েতের সুলতাননগরের বাসিন্দা পম্পা ঘোষ, দিশা পাত্রদের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, ‘শাসকদলের সমর্থক মহিলারা সবাই টাকা পেয়ে গিয়েছেন। বেছে বেছে বিরোধী দলগুলির সমর্থকদের টাকা আটকে দেওয়া হয়েছে।’ ক্ষুব্ধ মহিলাদের দাবি, পঞ্চায়েত কার্যালয়ে গিয়ে তাঁরা দেখেছেন, তাঁদের জমা দেওয়া আবেদনপত্রের ওপর লাল কালিতে লেখা রয়েছে ‘সোনার কাজ করেন’ বা ‘সমবায়ে চাকরি করেন’। কে বা কারা সরকারি ফর্মে লাল কালি দিয়ে এই ধরনের বিরূপ মন্তব্য করল, তা নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। যদিও পঞ্চায়েত প্রধান কল্যাণী দলই ফর্মে লাল কালি দিয়ে ওই ধরনের মন্তব্য লেখার কথা স্বীকার করলেও এই বিষয়ে সম্পূর্ণ দায় এড়িয়ে গিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আবেদনপত্রে কে বা কারা ওইভাবে মার্কিং করেছে, সেটা আমাদের পক্ষে বলা কোনওভাবেই সম্ভব নয়।’
জয়েন্ট বিডিও বলেন, ‘এই ব্লকে মোট ৩৯ হাজার আবেদন জমা পড়েছিল। তার মধ্যে ৩১ হাজার মহিলা ইতিমধ্যেই টাকা পেয়ে গিয়েছেন। বাকিদের নথিপত্র যাচাইয়ের কাজ এখনও চলছে। এন্ট্রির কাজে কোনো ভুল হয়নি। সমস্ত শর্তাবলী পূরণ হলে প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টেই টাকা ঢুকে যাবে।’ পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে ডিবিটি লিঙ্ক করা নেই, তাঁদের দ্রুত সেই লিঙ্ক করিয়ে নিতে হবে। অন্যথায় টাকা ঢুকতে সমস্যা হতে পারে। সব মিলিয়ে অন্নপূর্ণা যোজনার অনুদান ঘিরে এদিন প্রশাসনিক কার্যালয় চত্বরগুলি দিনভর রীতিমতো সরগরম ছিল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ