সংবাদদাতা, ঘাটাল: বাড়িতে পিত্তনালীতে স্টেন্ট বসানো অসুস্থ মেয়ে রয়েছে। এমন পরিবারের বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা। প্রায় ১০ সপ্তাহ গরমে থাকার পর সংস্থার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার আঞ্চলিক অভিযোগ নিষ্পত্তি আধিকারিকের দ্বারস্থ হয়ে সমস্যা মিটল। দাসপুর থানার রামদেবপুরের বাসিন্দা অনিমা জানা বাড়িতে বিদ্যুৎ-সংযোগ পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন।
বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার দাসপুর গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রের এক ইঞ্জিনিয়ার বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই অনিমাদেবীর বাড়িতে বিদ্যুৎ-সংযোগ দেওয়া হয়েছে।
অনিমাদেবীর বড় মেয়ে মন্দিরা অনেকদিন ধরে অসুস্থ। মন্দিরার দেহের পিত্তনালীতে একটি প্লাস্টিকের স্টেন্ট বসানো হয়েছে। তাঁকে গরমে রাখা যায় না। এসি বা পাখার ঠান্ডা হাওয়ায় রাখা প্রয়োজন। অনিমাদেবীর স্বামী তরুণ জানা পেশায় শ্রমিক। তাঁর পক্ষে বাড়িতে এসি বসানো সম্ভব নয়। তাই মেয়েকে সবসময় ফ্যানের হাওয়ায় রাখতেন।
এই পরিবারের পাশাপাশি দু’টি বাড়ি রয়েছে। একটি বাড়িতে অনিমাদেবীর নামে, অপর বাড়িতে তরুণবাবুর নামে বিদ্যুতের মিটার আছে। তরুণবাবু বলেন, আমার পুরনো মাটির বাড়ির মিটার বিকল। বারবার জানালেও তা পাল্টানো হয়নি। ওই বাড়ির বিদ্যুৎবিল বকেয়া ছিল। কিন্তু সেজন্য ওই বাড়ির পাশাপাশি আমার অপর বাড়িতে স্ত্রীর নামে যে মিটার আছে, সেটিরও বিদ্যুৎ-সংযোগ কেটে দেওয়া হয়।
ফেব্রুয়ারি থেকেই মেয়েকে নিয়ে অন্ধকার ঘরে কোনওভাবে ছিলেন এই দম্পতি। কখনও ব্যাটারি ভাড়া করে সাময়িকভাবে পাখার ব্যবস্থা করতেন। গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে অন্যের বাড়িতে সরিয়ে নিয়ে যেতে হয়। এই পরিবারের তরফে সমস্যার কথা দাসপুর-১ এর বিডিও দীপঙ্কর বিশ্বাস ও ঘাটালের মহকুমা শাসক সুমন বিশ্বাসের নজরে আনা হয়। তাঁরা অবিলম্বে বিদ্যুৎ-সংযোগ দেওয়ার নির্দেশ দিলেও বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা প্রশাসনিক আধিকারিকদের কথা মানেনি। এপ্রিল মাসে তরুণবাবু সংস্থার আঞ্চলিক অভিযোগ নিষ্পত্তি আধিকারিকের কাছে বিষয়টি জানান। তাঁর নির্দেশে অনিমাদেবীর বাড়িতে ফের বিদ্যুৎ-সংযোগ দেওয়া হয়েছে।