নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নরের আশঙ্কাই সত্যি হচ্ছে। ১৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়ে গেল মূল্যবৃদ্ধির হার। বিশেষ করে মূল্যবৃদ্ধির আঁচে দিশাহারা গ্রামীণ ভারত। সরকারি রিপোর্টে উঠে এল উদ্বেগজনক তথ্য। এপ্রিল থেকে লাগাতার মূল্যবৃদ্ধির হার বেড়েই চলেছে। আর এই প্রবণতার নেপথ্যে চালিকাশক্তি জ্বালানি এবং খাদ্যদ্রব্যের দামবৃদ্ধি। অর্থনীতির কোর সেক্টরের মূল্যবৃদ্ধি কমবেশি চড়াই উৎরাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও, খাদ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি প্রতিরোধে কেন্দ্রীয় সরকার ব্যর্থ। বিশেষ করে সবজি, ডিম, মাছ, মাংস, তেল প্রতিটি পণ্যের দাম ঊর্ধমুখী। পাশাপাশি সোনা ও রূপা। কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি রূপায়ণ মন্ত্রক খুচরো মূল্যবৃদ্ধির হার রিপোর্ট প্রকাশ করেছে বুধবার। জুলাই মাসের মূল্যবৃদ্ধির হার ১৯ মাসের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। ৪.৪৫ শতাংশ হয়েছে খুচরো মূল্যবৃদ্ধির হার। কিন্তু উদ্বেগজনক হল খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির হার। সেটি সর্বোচ্চ, ৫.৫২ শতাংশ। এখানেই শেষ নয়, গ্রামীণ ভারতের মূল্যবৃদ্ধির হার শহুরে মূল্যবৃদ্ধির তুলনায় অনেক বেশি। সবথেকে উচ্চ মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় যেগুলি আছে, সেগুলি হল, সোনা, রূপা, প্ল্যাটিনাম, আদা, রসুন, পিঁয়াজ এবং সবজি। তুলনায় আলু, টমেটো, ঢেঁড়সের দাম কমেছে। সরকারের রিপোর্টে তাৎপর্যপূর্ণ পরিসংখ্যান হল, নিত্যদিনের খাদ্যের দাম সবথেকে দ্রুতহারে বাড়ছে, আর মোটরগাড়ির দাম কমছে। হোটেলে থাকা, খাওয়া ও রেস্তরাঁর খাবার, এমনকী সাধারণ স্ট্রিট ফুডের দাম ক্রমেই বেড়ে গিয়েছে। এমনকী সাধারণ মানুষের স্ট্রিট ফুড ও জাঙ্ক ফুড খাওয়ার প্রবণতা কমছে। ঠিক উৎসবের মরশুমের প্রাক্কালে জামাকাপড় ক্রয়ের প্রবণতা কমে যাচ্ছে। বিলাসিতার আওতায় চলে যাচ্ছে জুতো, চর্মজাত দ্রব্য ক্রয়বিক্রয়। এই অবস্থা চলতে থাকলে আগামী আড়াই মাসের উৎসবের মরশুমের বাণিজ্য নিয়ে প্রবল উদ্বেগের কালো মেঘ থেকেই যাচ্ছে।



