নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ জয় করল দেশের অন্যতম তিনটি পর্বতারোহণ প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের যৌথ টিম। এই দলের সাতজন সদস্য শুক্রবার মাউন্ট এভারেস্টের শীর্ষে পৌঁছন। নেহরু ইনস্টিটিউট অব মাউন্টেনিয়ারিং (এনআইএম), জওহর ইনস্টিটিউট অব মাউন্টেনিয়ারিং (জেআইএম) এবং হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউট (এইচএমআই)—এই তিনটি সংস্থার যৌথ উদ্যোগে অভিযাত্রী দলটি কিছুদিন আগে দিল্লি থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সাত এভারেস্টজয়ীর এই দলের অন্যতম সদস্য হলেন পাশাং তেনজিং শেরপা। তিনি বিখ্যাত অভিযাত্রী কুশাং শেরপার ছেলে। বর্তমানে পাশাং এইচএমআইয়ের প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রসঙ্গত, পাশাংয়ের বাবা কুশাং তিন দিক দিয়ে এভারেস্ট শীর্ষে আরোহণের বিরল কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন প্রথম। এবার তিন সংস্থার যৌথ দলটির নেতৃত্বে ছিলেন কর্নেল অংশুমান অংশুমান ভাদাউরিয়া। বাকি সদস্যরা হলেন কর্নেল হেমচন্দ্র সিং, রাকেশ সিং রানা, বাহাদুর পাহান, রাজেন্দ্র মুখিয়া এবং থুপস্তান সেওয়াং। পাশাংয়ের এই সাফল্যে খুশির হাওয়া দার্জিলিং তথা গোটা রাজ্যে। উল্লেখ্য, এই মরশুমেই এনসিসি’র দলের হয়ে এভারেস্ট জয় করেছেন দার্জিলিংয়ের পর্বতারোহী প্রতিমা রাই। এছাড়া, এভারেস্ট অভিযানের চলতি মরশুমে এক অনন্য রেকর্ড গড়লেন নেপালের তাসি গ্যালজেং শেরপা। তিনি এক মরশুমে ১৫ দিনের মধ্যে চারবার এভারেস্ট সামিট পয়েন্টে সফল আরোহণ করেছেন। সংশ্লিষ্ট এজেন্সি ‘৮কে এক্সপিডিশন’-এর তরফে সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর লাকপা শেরপা জানিয়েছেন, নেপালের এই অভিযাত্রী চলতি মরশুমে ৯, ১৪ ১৯ এবং ২৩ মে এভারেস্ট শীর্ষে পৌঁছেছেন। এই সাফল্য ঐতিহাসিক বলে দাবি লাকপার। ৯ মে, অভিযান-পর্বের শুরুতেই রোপ ফিক্সিং টিমের সঙ্গে তিনি এভারেস্ট শৃঙ্গে পৌঁছন। ১৪ মে দ্বিতীয় সামিট শেষ করেন। ১৯ মে তিনি আরেক অভিযাত্রীকে ‘গাইড’ করতে গিয়ে এভারেস্ট সামিট পয়েন্টে পৌঁছন। ২৩ মে তিনি আরও একবার এই সাফল্য অর্জন করেন। এদিনই লোৎসে শৃঙ্গ (৮,৫৬১ মিটার) জয় করেছেন মহারাষ্ট্র পুলিসের কর্মী দ্বারিকা বিশ্বনাথ ডোকে। তাঁর সাহায্যকারী হিসেবে লোৎসে জয় করেন গুরু ভোতে। শৃঙ্গ জয়ের পর এদিনই তাঁরা ক্যাম্প-২তে নেমে এসেছেন বলে খবর। মহারাষ্ট্রের এই পুলিসকর্মী গত বছর এভারেস্ট জয় করেছিলেন। গত ১৮ মে বিশ্বের তৃতীয় উচ্চতম কাঞ্চনজঙ্ঘা শৃঙ্গ (৮৫৮৬ মিটার) ভারতীয় অভিযাত্রী কেভল হীরেন কাক্কা। এই শৃঙ্গ জয়ের মাধ্যমে তিনি নেপালের সবক’টি ‘আটহাজারি’ শৃঙ্গ জয় সম্পূর্ণ করলেন। আট হাজার মিটারের বেশি উচ্চতার মোট আটটি শৃঙ্গ জয় করেছনি তিনি। পর্বতারোহণের ইতিহাসে এই সাফল্য বিরল বলে মনে করছেন বর্ষীয়ান অভিযাত্রীরা।



