Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হাতির ছবি তুলতে গিয়ে বিপদ বাড়ছে: প্রধান মুখ্য বনপাল

হাতির ছবি তুলতে গিয়ে বিপদ বাড়ছে: প্রধান মুখ্য বনপাল
  • ২৭ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বাগডোগরা: সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার মোহ। সেজন্য লোকালয়ে হাতি ঢুকলে মোবাইল ফোনে সেই ছবি-ভিডিও তোলার প্রবণতা বাড়ছে। বিপদ জেনেও ছবি তুলতে অনেকে হাতির কাছাকাছিও পৌঁছে যাচ্ছেন। আর এতে হাতি-মানব সংঘাত বাড়ছে বলে মত রাজ্যের প্রধান মুখ্য বনপালের। ডুয়ার্সের পাশাপাশি তরাই অঞ্চলেও বারবার হাতি-মানব সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনায় কার্শিয়াং বনবিভাগের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে এমনই জানালেন রাজ্যের প্রধান মুখ্য বনপাল (বন্যপ্রাণ) সন্দীপ সুন্দ্রিয়াল। 

Advertisement

২৪ তারিখ থেকে কার্শিয়াং বনবিভাগ ও ডুয়ার্সের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করছেন তিনি। সোমবার বনদপ্তরের বাগডোগরা ব্যাঙডুবি ফরেস্ট বাংলোতে এসে মুখ্য বনপাল জানান, বিভিন্ন এলাকায় হাতি মানব সংঘর্ষে যে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে তা দেখতেই এসেছি। বনদপ্তরের কার্শিয়াং ডিভিশনে যেভাবে অত্যাধুনিক টেকনোলজি ব্যবহার করে কন্ট্রোল রুমের দ্বারা হাতির গতিবিধির উপর নজর রাখা হচ্ছে তা এই রাজ্যে প্রথম। হাতির গতিবিধির উপর নজর রাখার পাশাপাশি কোথাও লোকালয়ে হাতি বেরিয়ে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে ক্যুইক রেসপন্স টিম চলে যাচ্ছে। এছাড়াও নকশালবাড়ির কলাবাড়িতে হাতির হানায় মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে তিনি জানান, বিভিন্ন জায়গায় দেখা যাচ্ছে মানুষজন মোবাইল ফোনে হাতির ছবি তুলতে উদ্যত হচ্ছেন। এসব কারণেই হাতি-মানব সংঘাত ঘটছে। এশিয়ান হাইওয়ের পাশে বর্জ্য ফেলা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও গ্রাম পঞ্চায়েতের সহযোগিতায় এ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে গতবছর কার্শিয়াং বন বিভাগের বিভিন্ন রেঞ্জ মিলিয়ে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে হাতির হানায় মৃতের পরিবারকে ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সহ দোকানদারদের। তবে এই সংঘাত রুখতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান মুখ্য বনপাল। তিনি জানিয়েছেন, বনবিভাগ বরাবর স্থানীয় গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করে। সাধারণ মানুষ যথেষ্ট সহযোগিতা করে বনদপ্তরকে। তবে কিছু কিছু জায়গায় সাধারণ মানুষকে আরও অনেকটা সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে লোকালয়ে হাতি ঢুকে পড়লে হাতির সামনে গিয়ে ছবি না তোলা সহ বিভিন্ন বিষয়ে সচেতন হতে হবে। কিরণচন্দ্র এলিফ্যান্ট করিডরে রেল লাইনে ট্রেনের গতি কমানোর জন্য রেলকে চিঠি করা হয়েছে। পুনরায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে। 
এদিন মুখ্য বনপালের সঙ্গে কার্শিয়াং বন বিভাগের ডিএফও দেবেশ পান্ডে, বাগডোগরার রেঞ্জার সোনম ভুটিয়া সহ বনদপ্তরের অন্য আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ