নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: দুর্গাপুজোর পর বাঁকুড়া শহরে রাস্তার পাশে থাকা ‘বিপজ্জনক’ জীর্ণ বাড়িগুলি ভেঙে ফেলা হবে। এমনটাই জানালেন বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানা। কয়েকদিন আগে শহরের ভৈরবস্থান এলাকায় রাস্তার পাশে থাকা বিধায়কের পুরানো কার্যালয় ভেঙে পড়ে। কেউ হতাহত না হলেও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়। ফলে নীলাদ্রিবাবু এব্যাপারে সক্রিয় হয়েছেন। বিজেপি বিধায়ক বলেন, পুজোর আগে বাড়ি ভাঙার কাজ করা হবে না। তবে পুজো মিটলেই শহরের বিপজ্জনক বাড়িগুলি ভেঙে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এনিয়ে বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের বিপর্যয় মোকাবিলা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে।
বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, বাড়ি ভাঙার আগে মালিককে নোটিস পাঠানো সহ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়। বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। তবে এখনো এব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, বাঁকুড়া শহরের কেন্দ্রস্থল মাচানতলা সহ ইন্দারাগোড়া, কালীতলা, স্কুলডাঙা, ফিডার রোড এবং আশপাশের এলাকায় বহু পুরনো বাড়িঘর রয়েছে। সেগুলির বেশিরভাগই পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। কিছু বাড়িতে লোক বসবাস না করলেও নীচে দোকানপাট রয়েছে। যে কোনো সময় ওই সব ভবন হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়তে পারে। এব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার পুরসভা ও প্রশাসনের আধিকারিকদের জানানলেও কাজের কাজ কিছু হয়নি। সম্প্রতি খোদ বিধায়কের পুরানো কার্যালয় ভেঙে পড়ায় বিষয়টি নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। গত দু’মাস ধরে প্রায়ই বৃষ্টি হচ্ছে। সেই সময় জীর্ণ বাড়ির আশপাশের বাসিন্দারা চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে থাকেন। ওই সব বাড়ির পাশে রাস্তা ধরে যাওয়ার সময় পথচারী ও যানবাহনের চালকরা ভয়ে থাকেন।
শহরের মাচানতলা এলাকার বাসিন্দা নির্মল দত্ত বলেন, ব্যক্তি মালিকানাধীন বাড়িঘরের পাশাপাশি কিছু সরকারি পরিত্যক্ত ভবনও বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। মাচানতলা ট্রাফিক মোড়ের পাশে পুরাতন এফসিআই গুদামের পাশের ভবনটির অবস্থা খুবই খারাপ। একসময় সেখানে তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরের অফিস ছিল। এখন ভবনের দ্বিতল ভেঙেচুরে গিয়েছে। নীচের তলায় কয়েকটি দোকান রয়েছে। দুর্ঘটনা ঘটলে অনেকে হতাহত হবেন। বাঁকুড়া পুর ভবন লাগোয়া একটি বাড়িও বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। এব্যাপারে অবিলম্বে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।