নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: লাগাতার ধসের কবলে পড়ছে চুঁচুড়া শহর। রাস্তা থেকে পার্ক, পুরনো বাড়ির নীচের অংশ কিছুই বাদ পড়ছে না। গত একবছরে ধস নামার সংখ্যা বেড়ে গিয়েছে। অনেকের বক্তব্য, রীতিমতো ‘ধস-নগরী’ হয়ে উঠেছে চুঁচুড়া। এ নিয়ে নাগরিকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে তীব্র আতঙ্ক। নিরাপদ বোধ করছেন না চুঁচুড়ার বাসিন্দারা। এর পাশাপাশি আতঙ্ক তৈরি করেছে পুরসভার আধিকারিকদের বক্তব্য। সম্প্রতি একাধিকবার পুরকর্তারা দাবি করেছেন, ‘ডাচ আমলের ভূগর্ভস্থ নিকাশি ব্যবস্থা ভঙ্গুর হয়ে যাওয়ার কারণে ধসের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এই নিকাশি শক্তপোক্ত করার সুযোগ পুরসভার কাছে বিশেষ নেই। কারণ নিকাশির কোনও নকশাই নেই সরকারি দপ্তরে।’
ফলে সমাধানহীন পরিস্থিতি পুরবাসীকে শহরের ভবিষ্যত নিয়ে ভাবতে বাধ্য করাচ্ছে। পাশাপাশি এ বিষয়ে পুরসভার দায়দায়িত্ব নিয়েও সরব নাগরিকরা। শহরের বাসিন্দাদের অভিযোগ, ডাচ আমলের নিকাশিকে বারবার কাঠগড়ায় খাড়া করলে ধস নামা বন্ধ হবে না। নাগরিকদের উদ্বেগ মুক্ত করার দায়িত্ব পুরসভাকেই নিতে হবে। চুঁচুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান অমিত রায় বলেন, ‘সম্প্রতি যে দু’টি জায়গায় ধস নেমেছে তা বাড়ি বা রাস্তার ক্ষতি করবে না। কিন্তু রাস্তা সহ অন্যত্র ধস নামার পিছনে ডাচ আমলের নিকাশি ব্যবস্থার সংস্কার করতে না পারাটাই দায়ি। নাগরিকদের উদ্বেগ স্বাভাবিক। কিন্তু নিকাশি ব্যবস্থার নকশা আমাদের কাছে নেই। ফলে ত্রুটি চিহ্নিত করা যাচ্ছে না।’ তিনি জানান, যেখানে যেখানে সমস্যা হচ্ছে সেখানে মেরামত হচ্ছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য রাজ্যের কাছেও সাহায্য চাওয়া হয়েছে। লাগাতার দরবার করা হচ্ছে। এই শহরের ইতিহাস নিয়ে চর্চা করেন সপ্তর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘পুরকর্তাদের দাবি সঠিক। কিন্তু নাগরিকরা কার কাছে নিরাপত্তা চাইবে? বারবার ধসের সমস্যা প্রতিদিন শহরকে একটু একটু করে ধস-নগরীতে পরিণত করছে। ভূগর্ভস্থ কাঠামো আরও দুর্বল হওয়ার আগে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। সেই কাজ পুরসভাকেই করতে হবে।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুরসভার এক আধিকারিক বলেন, ‘চন্দননগরেও ফরাসি আমলের নিকাশি নিয়ে একই সমস্যা। সম্প্রতি জগদ্ধাত্রী পুজোর ভাসানের সময় রাস্তায় ধস নেমে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। কিন্তু চন্দননগর কর্পোরেশন শ্রেণিভুক্ত। তাদের পরিকাঠামো ও টাকার জোগান বেশি। ফলে সেখানে যা পদক্ষেপ নেওয়া যায় তা চুঁচুড়ায় হয় না। সেই বিষয়টিও সমস্যা তৈরি করছে।’
গত একবছরে বারবার ধসের কবলে পড়েছে চুঁচুড়া শহর। বড়সড় বিপর্যয় না হলেও নাগরিকদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত সপ্তাহে গঙ্গা তীরবর্তী এলাকায় এবং গঙ্গা লাগোয়া একটি পুরনো বাড়ির তলায় ধস দেখা দেয়। শহরের মুখ্য সড়কের গঙ্গার ধারে ধস নামা নিয়ে শহরের মাটি ভঙ্গুর হয়ে পড়ার আতঙ্ক তীব্র হয়েছে। -নিজস্ব চিত্র