Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রবিবার

ডানায় রৌদ্র মেখে

কী সুন্দর মায়াময় এই বিশাল পৃথিবী! সুনীল সাগর থেকে উত্তুঙ্গ পর্বতমালা, ঊষর মরুভূমি থেকে গহীন অরণ্য, গগনচুম্বী অট্টালিকার নগরী থেকে প্রাচীন জনপদ—সর্বত্রই ছড়িয়ে রয়েছে অপার সৌন্দর্য। তারই সন্ধানে ছুটে বেড়ায় ভ্রমণ পিয়াসী মন।

ডানায় রৌদ্র মেখে
  • ৩১ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

কী সুন্দর মায়াময় এই বিশাল পৃথিবী! সুনীল সাগর থেকে উত্তুঙ্গ পর্বতমালা, ঊষর মরুভূমি থেকে গহীন অরণ্য, গগনচুম্বী অট্টালিকার নগরী থেকে প্রাচীন জনপদ—সর্বত্রই ছড়িয়ে রয়েছে অপার সৌন্দর্য। তারই সন্ধানে ছুটে বেড়ায় ভ্রমণ পিয়াসী মন। তাই তো পাখির ডানায় রৌদ্রের গন্ধ মেখে উড়ে চলা।  দলবদ্ধভাবে কিংবা একা।

Advertisement

হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত: এক সময় দেশটির নাম ছিল কম্বোজ। বর্তমানে কম্বোডিয়া। রাজধানী নমপেন থেকে সিয়েমরিপ শহরের দূরত্ব তিনশো কিলোমিটার। সড়ক পথে পৌঁছতে পাঁচ-ছয় ঘণ্টা লাগে। সিয়েমরিপ শহর হিসাবে বেশি বড় নয়। তবে এ জায়গার গুরুত্ব মন্দির নগরী আঙ্করভাটের প্রবেশদ্বার হিসাবে। শহর লাগোয়া বেশ কয়েকটা জায়গায় ‘ক্রোকোডাইল ফার্ম’ বা কুমির খামারও আছে। কুমিরের মাংস এদেশে খাবার জন্য ব্যবহৃত হয়। এছাড়া চামড়া দিয়ে ওয়ালেট, ব্যাগ, বেল্ট ইত্যাদি প্রস্তুত করা হয়। ওল্ড মার্কেট অঞ্চলের একটা রেস্টুরেন্টে কুমিরের মাংসর রোস্ট আর বার্গারও খেয়েছি। স্বাদ মন্দ নয়। তবে এ দেশে মাংসই হোক বা সব্জি-তরকারি স্থানীয় খাবারে মশলার পরিমাণ, বিশেষত গোলমরিচের ব্যবহার খুব বেশি থাকে। অন্যদের মতো সিয়েমরিপে আমারও আগমনের উদ্দেশ্য ছিল বিখ্যাত প্রাচীন মন্দির নগরী আঙ্করভাট দর্শন করা। একদিন আগেই পৌঁছে গিয়েছিলাম সিয়েমরিপে। তাই শহরটা ঘুরে দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল।
পরদিন ভোরে উঠেই ব্রেকফাস্ট করে হোটেল ছেড়ে রওনা হলাম বহু আকাঙ্ক্ষিত আঙ্কর দর্শনের জন্য। সিয়েমরিপ থেকে আঙ্করের প্রবেশ তোরণের দূরত্ব পাঁচ-ছয় কিলোমিটারের মতো। আমার সস্তার বাহন ‘টুকটুক’। চালকের নাম ফাঙ। কথা হয়েছে সেই আমাকে মন্দির নগরীর প্রধান দ্রষ্টব্যগুলোতে নিয়ে যাবে, অর্থাৎ গাইডের মতো কাজ করবে। ফাঙের গাড়ি শহর ছেড়ে বেরবার আগে ট্যুরিজম সেন্টারে দাঁড়াল। এখান থেকেই মন্দির নগরীতে প্রবেশ করার জন্য টিকিট সংগ্রহ করতে হয়। দিন পিছু টিকিটের ব্যবস্থা। একটা টিকিট কাটলে মন্দির নগরীতে ও যে মন্দিরগুলিতে পর্যটকদের প্রবেশাধিকার আছে সে সব জায়গাতে দিনে যতবার খুশি প্রবেশ করা যায়। একসঙ্গে সাত দিন পর্যন্ত টিকিট কেনার ব্যবস্থা আছে। দেশ-বিদেশ থেকে বহু শিল্পী, ইতিহাস গবেষক, ফোটোগ্রাফার আসেন এই মন্দির নগরী নিয়ে কাজ করতে। তাঁরা তাঁদের কাজের প্রয়োজনমতো একসঙ্গে বেশি দিনের টিকিট সংগ্রহ করে রাখেন। আমি অবশ্য একদিনের টিকিটই কিনলাম কম্বোডিয়ান টাকাতে। হিসাব করে দেখলাম, ভারতীয় মুদ্রায় টিকিটের দাম সাতশো টাকা মতো পড়ল। ট্যুরিজম সেন্টার লাগোয়া বেশ কিছু খাবারের দোকান, জলের দোকান আছে। প্রয়োজন বোধে সেখান থেকেই শুকনো খাবার আর জল কিনে নিতে হয়। কারণ প্রাচীন মন্দির নগরীর ভিতর দোকানপাট বিশেষ নেই বললেই চলে। আমরা যখন যাত্রা শুরু করলাম, তখন সকাল আটটা বাজে। সিয়েমরিপের রাস্তা বেশ সুন্দর, মসৃণ, ঝকঝকে। দেখলাম আইল্যান্ডগুলোর মধ্যে প্রাচীন মূর্তি, ভাস্কর্যের অংশ বসানো আছে।
আঙ্করভাট বা আঙ্কর ওয়াট শব্দের অর্থই হল মন্দির নগরী। সেখানে প্রবেশের আগে তার ইতিহাস অন্তত সংক্ষেপে জেনে নেওয়া প্রয়োজন। সিয়েমরিপের উত্তরে অবস্থিত এই মন্দির নগরী এবং এই প্রাচীন নগরীর প্রধান বিষ্ণুমন্দির দ্বাদশ শতাব্দীতে খামের বংশের রাজা দ্বিতীয় সূর্যবর্মণ নির্মাণ করিয়েছিলেন। আঙ্কর নগরী তিনি উৎসর্গ করেন ভগবান বিষ্ণুর উদ্দেশে। সে সময় খামের সাম্রাজ্যের রাজধানীও ছিল আঙ্করভাট। কিন্তু পরবর্তীকালে চাম জনজাতির আক্রমণের ফলে মন্দির নগরীর প্রধান বিষ্ণুমন্দিরসহ বহু মন্দির ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারপর খামের রাজারা আবার মন্দিরগুলোর সংস্কার সাধন করেন ঠিকই, কিন্তু নিরাপত্তার কারণে তাঁরা তাঁদের রাজধানী কিছুটা দূরে বায়ুমে সরিয়ে নিয়ে যান। পঞ্চদশ শতাব্দীতে এ অঞ্চলে বৌদ্ধধর্ম বিস্তার লাভ করে। বিষ্ণু ও অন্য দেবতাদের মন্দিরগুলো বৌদ্ধ মন্দিরে রূপান্তরিত হয়। কোনও কোনও মন্দিরে একই সঙ্গে বিষ্ণু ও বুদ্ধের আরাধনা চলতে থাকে। যে কারণে নগরীর প্রধান বিষ্ণুমন্দিরটিকে ইউনেস্কো কর্তৃক ‘হিন্দু-বৌদ্ধ মন্দির’ নামে অভিহিত করা হয়েছে। কিন্তু এরপর নানান কারণবশত মানুষ এই মন্দির নগরী ত্যাগ করতে শুরু করে। পরিত্যক্ত জনশূন্য হয়ে যায় এই মন্দির নগরী। মাটির স্তূপ আর ঘন অরণ্য গ্রাস করতে থাকে কম্বোজের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ শিল্প সুষমা মণ্ডিত মন্দির নগরীকে। বেশ কয়েকশো বছর ধরে জঙ্গলাকীর্ণ অবস্থায় ঘুমিয়ে ছিল এই প্রাচীন নগরী। বিংশ শতাব্দীতে আবার এই নগরীর ঘুম ভাঙানোর কাজ শুরু হয়। জঙ্গল কেটে উদ্ধার করা হয় প্রধান বিষ্ণুমন্দিরসহ আরও বেশ কিছু মন্দির। শুরু হয় তাদের সংস্কারের কাজ। মানুষের চোখের সামনে আবার উন্মোচিত হতে থাকে পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাস্কর্য শিল্পকলার নিদর্শন। তবে সব মন্দিরের পরিচয় এখনও নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। কারণ, কাম্পুচিয়ার বিভিন্ন যুদ্ধের সময় বহু মন্দির ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অ্যান্টিকের চোরা কারবারিরাও মূর্তি, শিল্পকীর্তি চুরি করে। সাতের দশকে খামের রুজ বাহিনীর একনায়ক পলপটের আমলে বিদেশি মুদ্রা অর্জনের জন্য বেশ কিছু শিল্পকীর্তি বিক্রি করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। তবে, এখন সংস্কারের কাজ চলছে। যে কাজে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া।
সিয়েমরিপ ত্যাগ করে কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা পৌঁছে গেলাম মন্দির নগরীর প্রবেশ তোরণের সামনে। প্রায় হাজার বছরের প্রাচীন তোরণ। তার মাথার ওপর বসানো আছে কিরীটী শোভিত ভগবান বিষ্ণুর মুখমণ্ডল। একসময় এ নগরীর প্রাকার বা  পরিখা দিয়ে বেষ্টিত ছিল। এখন তার সামান্য মাত্র অবশিষ্ট আছে। তোরণের দু’পাশে সার বাঁধা রক্ষী মূর্তিদের কয়েকটি আজও রয়েছে কালের প্রভাবে অঙ্গহীন শরীর নিয়ে।
তোরণ অতিক্রম করে মন্দির নগরীতে প্রবেশ করল আমাদের টুকটুক। এ যেন অন্য এক পৃথিবীতে প্রবেশ করা। পথের দু’পাশে বিশাল বিশাল সব প্রাচীন গাছ। আর তার আড়াল থেকে উঁকি দিচ্ছে নানা প্রাচীন স্থাপত্যের অংশ বা ধ্বংসাবশেষ। চারপাশে কেমন যেন রহস্যময়, ছায়াঘেরা পরিবেশ। ফাঙ আমাকে জানাল যে, প্রথমে আমাকে বেশ কয়েকটা আকর্ষণীয় মন্দির দেখাবার পর নিয়ে যাবে বায়ুম বুদ্ধ মন্দিরে। আর সব শেষে নিয়ে যাবে এই মন্দির নগরীর সর্বশ্রেষ্ঠ স্থাপত্যকীর্তি বিষ্ণুমন্দির দেখাতে। খামের স্থাপত্যশৈলীতে তৈরি মন্দিরগুলো প্রধানত দু’ধরনের। কোনও মন্দির পর্বত আকৃতির এবং আবার কোনও মন্দির গ্যালারির মতো।
প্রথম যে মন্দিরের সামনে গেলাম তার নাম ‘তা ফাম’ মন্দির। বিশাল মন্দির চত্বরের সামান্য অংশই আজ অবশিষ্ট আছে। স্তম্ভসমৃদ্ধ এই মন্দিরের মাথার অংশটা আজ আর নেই। অজগর সাপের মতো মোটা কিছু গাছের শিকড় অথবা ঝুরি ধরে রেখেছে মন্দির কাঠামোকে। আর তারই আড়াল থেকে উঁকি দিচ্ছে আশ্চর্য সুন্দর মন্দির গাত্রের শিল্পকলা, কোথাও নর্তকীর মূর্তি আবার কোথাও নানা ধরনের অলঙ্করণ। আশ্চর্য সুন্দর সব কারুকাজ। ফাঙ জানাল এখানকার কোনও মন্দিরেই কোনও মূর্তি বা বিগ্রহ নেই। শুধু বায়ুম বুদ্ধমন্দিরে বুদ্ধমূর্তি আছে, আর প্রধান বিষ্ণুমন্দির বা বিষ্ণুলোকে একটি বিষ্ণূমূর্তি আছে।  ফাম মন্দির দেখে আমরা রওনা হলাম পরবর্তী মন্দির বা ফুল মন্দিরের উদ্দেশে। এ মন্দির পর্বতাকৃতির এবং মোটামুটি অক্ষতই আছে। এ মন্দিরের মাথায় বিষ্ণুর মুখমণ্ডল বসানো থাকলেও একসময় তা শিবমন্দির ছিল, পরবর্তীতে তা বুদ্ধমন্দিরে রূপান্তরিত হয়। এ মন্দিরে যে সিঁড়ি ছিল তা আজ আর অবশিষ্ট নেই। ওপরে ওঠার জন্য কাঠের পাটাতনের কিছু ধাপ আছে। তিনতলা পর্যন্ত ওই ধাপ বেয়ে রেলিং ধরে ওপরে উঠতে হয়। এই অস্থায়ী পাটাতনে পা রেখে ওঠানামা করা খানিকটা বিপজ্জনক আর বয়স্ক মানুষদের ক্ষেত্রে কষ্টকরও বটে। সেই সিঁড়ি বেয়েই ওপরে উঠে দেখলাম, গাছের মাথার আড়াল থেকে উঁকি মারছে বিভিন্ন মন্দিরের শীর্ষদেশ।
সময় এগিয়ে চলল। আরও বেশ কয়েকটা মন্দির দর্শন করলাম। তবে সব মন্দিরের ভিতরে প্রবেশ করা সম্ভব হল না। কারণ ওই একটাই। কাঠের সিঁড়ি বেয়ে মন্দিরের ভিতরে ঢোকা অত্যন্ত কষ্টকর। একসময় যে সব মন্দিরগুলো জনসমাগমে পরিপূর্ণ থাকত আজ তারা নীরবে নিভৃতে একাকী দাঁড়িয়ে আছে বিশাল বিশাল গাছের চাঁদোয়ার নীচে। আজ আর এসব মন্দির থেকে ঘণ্টাধ্বনি, নর্তকীদের নূপুরের ধ্বনি বা মন্ত্রোচ্চারণের শব্দ ভেসে আসে না। কালের নিয়মে সব কিছু আজ নিস্তব্ধ। শুধু মাঝে মাঝে চারপাশের নিস্তব্ধতা ভঙ্গ করে ডাকতে ডাকতে মাথার উপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে টিয়া পাখির ঝাঁক। আরও একটা প্রাণীর দেখা মেলে এখানে। বাঁদরের দল।
বায়ুম বুদ্ধমন্দিরে যখন উপস্থিত হলাম তখন সূর্য ঠিক মাথার ওপর। মন্দিরটা একটা ফাঁকা জায়গার মধ্যে অবস্থিত। তাই রোদ সরাসরি গায়ে এসে লাগছে। বেশ গরমও লাগছে। ফাঙ আগের মন্দিরগুলোর ভিতর ঢুকছিল না। এবার সে বলল, ‘আমি এবার আপনার সঙ্গে যাব। একটা অদ্ভুত জিনিস দেখাব, নইলে সেটা আপনি খুঁজে পাবেন না।’
মন্দিরের প্রবেশদ্বারের কাছেই একটা শেডের তলায় বিশালাকৃতির বুদ্ধমূর্তি আছে। স্থানীয় কিছু বৌদ্ধ ভিক্ষু পুজোপাঠ করছেন সেই মন্দিরের সামনে। সেই মূর্তিকে প্রণাম জানিয়ে আমরা প্রবেশ করলাম বুদ্ধমন্দিরে। এই প্রাচীন মন্দিরের একটা অংশ ধ্বংসপ্রাপ্ত হলেও যতটুকু অবশিষ্ট আছে তা যথেষ্ট আকর্ষণীয়। ঘুরতে ঘুরতে আমাকে নিয়ে এক জায়গায় উপস্থিত হল ফাঙ। সেখানে দেওয়ালের গায়ে বিভিন্ন প্রাণীর ছোট ছোট ভাস্কর্য খোদাই করা আছে। তারই একটার দিকে আঙুল তুলে দেখিয়ে ফাঙ বলল, ‘এটা দেখাবার জন্যই আমি আপনার সঙ্গে এলাম। ভালো করে সেই প্রাণীটির দিকে তাকিয়ে আমি বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলাম। লক্ষ কোটি বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া ডাইনোসর! স্টেগোসেরাসের ছবি! যার ছবি মাত্র কয়েকশো বছর আগে ফসিল আবিষ্কার হওয়ার পর পর জীব বিজ্ঞানীরা নির্মাণ করতে সমর্থ হয়েছেন। সেই ছবি প্রাচীন খামেরবাসীরা আঁকল কীভাবে? এই মন্দির নগরী শুধু শিল্পসমৃদ্ধ নয়, রহস্যময়ও বটে।
বায়ুম বুদ্ধমন্দির দেখার পর আমরা গিয়ে পৌঁছলাম আমাদের শেষ গন্তব্য পৃথিবীর পুরাকীর্তির অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন আঙ্করের বিখ্যাত বিষ্ণুমন্দিরের সামনে। উজ্জ্বল সূর্যালোকের নীচে দাঁড়িয়ে থাকা এত বিশাল মন্দির আমি আগে কখনও দেখিনি। যেন সেটা একটা শহর। দ্বাদশ শতাব্দীতে এ মন্দির নির্মাণ করান রাজা দ্বিতীয় সূর্যবর্মণ। এ মন্দিরকে তখন বলা হতো বিষ্ণুলোক। ভগবান বিষ্ণু নাকি স্বয়ং অবস্থান করতেন এই মন্দিরে। আর মৃত্যুর পর পুণ্যবান আত্মারা দেবতার কাছে ঠাঁই পেতেন এখানে। পরিখার ওপর রচিত সেতু অতিক্রম করে মন্দির প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে হয়। মন্দির নগরীতে যে সব মন্দির আছে তাদের মধ্যে একমাত্র এই মন্দিরটি পশ্চিমমুখী। ফাঙ এখানে গাইড নেওয়ার পরামর্শ দিল। তার পরামর্শ মতোই আমি গাইড নিলাম। এত বিশাল মন্দিরের বিশেষ দ্রষ্টব্যগুলো গাইড ছাড়া দেখা সম্ভব নয়। মূল মন্দিরের মাথার ওপর পাঁচটি শিখর দেবতাদের আবাসস্থল বা মেরু পর্বতের প্রতীক। কত কক্ষ, গ্যালারি, সোপান শ্রেণি যে এ মন্দিরে রয়েছে তার কোনও হিসাব নেই। আর তাদের গায়ে জেগে রয়েছে আশ্চর্য সব শিল্পকর্ম, অলঙ্করণ, মূর্তি বা প্রাচীন খামেরবাসীদের জীবনযাত্রার নানান দৃশ্য। এত আশ্চর্য সুন্দর সব ভাস্কর্য, যা লিখে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। আঙ্করভাটের বিষ্ণুমন্দিরের একমাত্র তুলনা যেন সে নিজেই। এ মন্দির দেখার জন্য যেন বারবার আসা যায় এ দেশে! তবুও যেন এ মন্দির দেখা ফুরাবে না!
কীভাবে যে মন্দির দেখতে দেখতে তিন-চার ঘণ্টা সময় কেটে গেল বুঝতেই পারলাম না। তবে একসময় বাইরে বেরতেই হল। তখন সূর্য পশ্চিমে ঢলতে শুরু করেছে। শেষ বিকেলের মায়াময় আলো তখন ছড়িয়ে পড়েছে বিষ্ণুলোকের গায়ে। একবুক তৃপ্তি নিয়ে, আনন্দ নিয়ে, বিস্ময় নিয়ে আমার এবার হোটেলে ফেরার পালা। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ