Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বর্ষার আগে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে আড়াই কিমি বাঁধ কালুটোনটোলায়

বর্ষার আগে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে আড়াই কিমি বাঁধ কালুটোনটোলায়
  • ৯ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, মানিকচক: বন্যায় ভেঙে যাওয়া ভূতনির কালুটোনটোলা কেশরপুরের বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষের সময়সীমা বেঁধে দিলেন মানিকচকের তৃণমূল বিধায়ক সাবিত্রী মিত্র। শুক্রবার মানিকচক ব্লক প্রশাসনিক ভবনে জেলা আধিকারিক, সেচদপ্তর ও ব্লক প্রশাসনের উপস্থিতিতে বৈঠকটি হয়। প্রায় ছয় কোটি দশ লক্ষ টাকায় ২.৪ কিমি নতুন বাঁধ নির্মাণ, পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের নতুন জমি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। গত বর্ষায় ভাঙন ও বন্যার ভয়াবহ স্মৃতি এখনও তাজা ভূতনির বাসিন্দাদের মনে। প্রায় তিন মাস ধরে জলমগ্ন ছিল গোটা ভূতনি এলাকা। বাড়ি ছেড়ে ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন দুর্গতরা। যে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার কারণে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সেই কালুটোনটোলা কেশরপুরের বাঁধ তৈরি করতে উদ্যোগ নিল প্রশাসন। 

Advertisement

বর্তমানে বাঁধটি ভাঙাচোরা অবস্থাতেই রয়েছে। নদীর তীরবর্তী এলাকা একেবারে উন্মুক্ত থাকায় দুশ্চিন্তায় প্রহর গুনছেন বাসিন্দারা। বিগত কিছুদিন আগেই শুখা মরসুমে কাজের দাবিতে সরব হয়েছিলেন তাঁরা। এদিন মানিকচক ব্লক প্রশাসনিক ভবনে বৈঠকে বসেন মানিকচকের বিধায়ক সাবিত্রী মিত্র, বিডিও অনুপ চক্রবর্তী, মালদহ জেলা সদর মহকুমা শাসক পঙ্কজ তামাং সহ জেলা সেচদপ্তরের আধিকারিকরা। 
ঘণ্টাখানেক ধরে চলা এই বৈঠকে কাজের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে সেচ আধিকারিকদের কাছে কাজ কত দিনে শেষ হবে, জানতে চান বিধায়ক সাবিত্রী। আধিকারিকরা জানান, আগামী জুন মাসের মধ্যেই বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ করা হবে।
বিধায়ক বলেন, বন্যার পর থেকেই বাঁধ নির্মাণে তৎপর মুখ্যমন্ত্রী। ইতিমধ্যে প্রায় ছয় কোটি ১০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছে বাঁধের জন্য। ২.৪ কিমি বাঁধ নির্মাণ হবে। কোশি নদী সংলগ্ন এলাকায় জলের ধাক্কা রুখতে স্পার করা হবে। জুলাই মাসে কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে সেচ আধিকারিকদের। তারাও সহমত পোষণ করেছেন। তার মধ্যে কাজ শেষ না হলে, বর্ষায় কোনও কাজ করা যাবে না। একই সঙ্গে এলাকার ৭৮ পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রায় ২ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা ও পাট্টাও দেওয়া হবে। এমনকী মানিকচকঘাট ও গোপালপুর পঞ্চায়েতের কামালতিপুরেও ভাঙন রোধের কাজ দ্রুত শুরু হবে।
মালদহ জেলা সেচদপ্তরের আধিকারিক শিবনাথ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ভূতনির কালুটোনটোলা কেশরপুরের ভাঙা বাঁধের অংশে মাটির বাঁধ নতুন করে নির্মাণ করা হবে। ইতিমধ্যে এবিষয়ে আলোচনা হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু হবে।
শুখা মরসুমে কাজ শুরু হওয়ায় খুশি নদীপাড়ের বাসিন্দারা। স্থানীয় বীরবল মাহাত, অঙ্গদ মাহাতরা বলেন, আমাদেরও দাবি ছিল, যাতে শুখা মরসুমে বাঁধের কাজ হয়। জুনের আগে বাঁধ নির্মাণ হলে আমরা রেহাই পাব।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ