সংবাদদাতা, কান্দি: একবছরেও মেরামত হয়নি ভেঙে যাওয়া বাঁধ। তাই বন্যায় প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় এবছর আমন চাষ করছেন না খড়গ্রাম থানার পলাশী গ্রামের চাষিরা। একইসঙ্গে গ্রামের ১৯ জন পুকুর মালিকও মাছ চাষ করছেন না। পলাশীর কাছে দ্বারকা নদের একটি ক্যানেলের বাঁধ ভেঙে যায় গতবছর বন্যায়। ফলে প্রায় ৪০০ বিঘে জমির ফসল বন্যায় নষ্ট হয়ে গিয়েছিল বলে দাবি। সেই ভাঙা অংশ আজও তেমনই পড়ে। যার জেরেই এবছর বাসিন্দাদের বর্ষায় চাষ না করার সিদ্ধান্ত। গত শনিবার সন্ধ্যায় গ্রামের মণ্ডপে চাষিরা নিজেদের মধ্যে আলোচনায় ঠিক করেন বাঁধ মেরামত না হওয়ায় এবছর বর্ষায় তাঁরা ধান চাষ করবেন না। চাষি নিতাইচন্দ্র মণ্ডল, সাগর মণ্ডল প্রমুখ জানিয়েছেন, বর্ষায় দ্বারকা নদে জল বাড়লেই গ্রামে হু হু করে জল ঢুকবে। প্রায় ৪০০ বিঘে জমির পুরোটাই জলের নীচে চলে যাবে। তাই ধান না লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। গ্রামের এক পুকুর মালিক সমীরণ মণ্ডল বলেন, শুধু ধানের ব্যাপার নয়, গ্রামের ১৯টি পুকুরে মাছ চাষ করা হয়। এখনই সমস্ত পুকুর থেকে মাছ তুলে নেওয়া হচ্ছে। বর্ষার পর ফের পুকুরে মাছ চাষ করার কথা ভাবা যাবে।
খড়গ্রাম ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্যানেলের ওই বাঁধটি এক্স জমিদারি বাঁধ বলে উল্লেখ রয়েছে। তাই সেচদপ্তরকে জানানো হলেও কিছু করা যায়নি। তবে ভাঙা বাঁধ মেরামতের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে খড়গ্রাম ব্লক প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা বিমানচন্দ্র মণ্ডল বলেন, ভাঙা বাঁধ মেরামতির জন্য বারবার প্রশাসনের কাছে গ্রামের মানুষ দল বেঁধে গিয়েছেন। আশ্বাসও মিলেছে। কিন্তু সংস্কার হল না। এখন বর্ষায় গ্রামে জল ঢোকার অপেক্ষায় রয়েছি। তাই জমিতে চাষ করার কোন কথাই নেই। খড়গ্রাম বিধায়ক আশিস মার্জিত বলেন, নবান্নে লিখিতভাবে এই সমস্যার কথা জানানো হয়েছে। আশাকরি ভালোভাবে বর্ষা শুরুর আগেই বাঁধ মেরামত হয়ে যাবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বীরভূমের বীরচন্দ্রপুর থেকে একটি ক্যানেল ওই গ্রামের কাছে দ্বারকা নদে মিশেছে। কয়েক কিলোমিটার বিস্তীর্ণ এলাকার প্রায় ৩০টি মৌজার জল ক্যানেল দিয়ে প্রবাহিত হয়। তার উপর দ্বারকায় জল বাড়লে, ক্যানেলের জল উল্টোদিকে বইতে থাকে। ফলে বর্ষায় জল থইথই করে ক্যানেলে। বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ২০০০ সালের পর থেকে ওই ক্যানেলের বাঁধ অন্তত আটবার ভেঙেছে। শেষবার ২০২৩ সালে ভেঙেছিল। ওইসময় স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে বাঁধ মেরামত করেছিলেন। এর আগেও অন্তত তিনবার বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে বাঁধ মেরামত করেন বলে দাবি। পারুলিয়া পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকেও ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে দু’বার ভাঙা বাঁধ মেরামত করা হয়েছিল। কিন্তু গতবার বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর মেরামতির দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা খড়গ্রাম বিডিও অফিসে গিয়ে বিক্ষোভ দেখালেও আজও মেরামত হয়নি।