সংবাদদাতা, পতিরাম: প্রায় দু’মাস আগে আত্রেয়ীর বাঁধ ভেঙেছে। কিন্তু এখনও মেরামত না হওয়ায় আত্রেয়ীর জল আর ধরে রাখা যাচ্ছে না। শুকিয়ে কাঠ হচ্ছে নদী। জল পাচ্ছেন না চাষিরা। এমন অবস্থায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন বহু চাষি। বুধবার সমস্যার সমাধান চেয়ে বালুরঘাটে বিডিওর দ্বারস্থ হন পতিরাম গ্রাম পঞ্চায়েতের পোল্লাপাড়ার চাষিরা। কারণ ওই এলাকায় প্রায় ১০০ একর জমির ফসল জলের অভাবে নষ্ট হওয়ার মুখে। ধান, লঙ্কা এবং বেগুন খেত শুকিয়ে যাচ্ছে। চাষিদের অভিযোগ, ওই এলাকায় সরকারি প্রকল্পের সেচ ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু পাইপের অভাবে দূরের জমিতে জল নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানিয়েও লাভ হয়নি। তাই বালুরঘাটের বিডিওর দ্বারস্থ হতে হয়েছে।
এবিষয়ে বিডিও সম্বল ঝা বলেন, আত্রেয়ী নদীর জল কমে যাওয়ার পর থেকে ওই গ্রামের প্রায় শতাধিক কৃষক জল পাচ্ছেন না। ওই জায়গায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে কথা বলব। পুরো বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।
ওই গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্য তথা চাষি চন্দন সরকারের কথায়, আমাদের গ্রামের প্রত্যেক চাষির জমির ফসল শুকিয়ে যাচ্ছে। লঙ্কা, বেগুন, ধান, সব্জি সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ওই জায়গায় একটি সরকারি প্রকল্পে সেচের ব্যবস্থা রয়েছে। সেখান থেকে কয়েকটি পাইপ দিয়ে গ্রামবাসীদের জমিতে দিলে সবাই জল পাবেন। বিষয়টি আমরা এক মাস আগে জানিয়েছি। কিন্তু এখনও কাজ হয়নি বলে বিডিওর কাছে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
গ্রামবাসী নন্দন সরকার ও নীরেন্দ্র সরকার বলেন, বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই নদীতে জল নেই। দু’একদিনের মধ্যে সমস্যা না মিটলে বৃহত্তর আন্দোলন করব।
এপ্রিল মাসে রোদের তেজ ক্রমশই বাড়ছে। এই সময় চাষের জমিতে জলের খুব প্রয়োজন। কিন্তু নদী তীরবর্তী জমিতে জল পাচ্ছেন না চাষিরা। এদিকে দুই মাস ধরে বাঁধ মেরামত না হওয়ায় নদী শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছে। সেচ দপ্তর সূত্রে খবর, ওই বাঁধ পুরোপুরি মেরামত করতে এখনও অনেক সময় লাগবে। সেই কাজের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে। তাই আপাতত নদীর জল পর্যাপ্ত পাওয়া সম্ভব নয়। আরএলআই প্রকল্পের জলই এখন ভরসা চাষিদের।
জেলা জলসম্পদ ও অনুসন্ধান বিভাগের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার প্রিয়তনু মালাকারের মন্তব্য, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।