Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঘাটালে স্লুইস গেট তৈরি করতে কাটা হয়েছে বাঁধ

ঘাটালে স্লুইস গেট তৈরি করতে কাটা হয়েছে বাঁধ
  • ২০ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ঘাটাল: স্লুইস গেট তৈরির জন্য পাঁচপাঁচটি জায়গায় কাটা হয়েছে নদীবাঁধ। তাই মঙ্গলবার বর্ষা শুরু হতেই ঘাটাল মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের রাতের ঘুম ছুটে গিয়েছে। কারণ শিলাবতী, কংসাবতী কিংবা রূপনারায়ণ নদে একটু জলস্ফীতি হলেই ওই কাটা অংশগুলি দিয়ে জল ঢুকে ঘাটাল মহকুমা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।যদিও বিষয়টি নিয়ে এতটা আতঙ্কের কোনও কারণ নেই বলে জানিয়েছেন ঘাটাল মহকুমা সেচ ও জলপথ দপ্তরেরঅ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার উজ্জ্বল মাখাল। তিনি বলেন, পাঁচটি স্লুইস গেট তৈরির জন্য বাঁধ কাটা অবস্থায় থাকলেও দু’টি গেট প্রায় সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে।বাকি তিনটি গেট তৈরির কাজ দ্রুত গতিতে চলছে।তাছাড়া, প্রত্যেকটি জায়গায় মাটি মজুত রয়েছে। নদীর জলস্ফীতি হলে তা রুখে দেওয়ার মতো পরিকাঠামো তৈরি রয়েছে। ঘাটাল মহকুমার দাসপুর-১ ও দাসপুর-২ ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা, ঘাটাল ব্লকের দু’টি গ্রামপঞ্চায়েত এবং ঘাটাল পুরসভার পাঁচটি ওয়ার্ড  শিলাবতী, রূপনারায়ণ এবং কংসাবতী নদী বাঁধ দ্বারা ঘেরা রয়েছে। ওই ঘেরা এলাকাটিকে ৮১ মৌজা বলা হয়। ৮১ মৌজার মধ্যেই তিনটি বড় সরকারি হাসপাতাল, মহকুমা শাসকের কার্যালয়, দু’টি থানা, দু’টি ব্লক, দু’টি কলেজে, বহু স্কুল, বিদ্যুৎ দপ্তরের তিনটি সাবস্টেশন সহ বহু সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ওবসতবাড়িরও রয়েছে। এর আগে ওই নদীগুলির বাঁধ ভাঙলে তবেই ৮১ মৌজা প্লাবিত হতো। কিন্তু এবার নদী বাঁধ কাটা থাকায় জল বাড়লেইমহকুমা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে বাসিন্দারা মনে করছেন।

Advertisement

বর্তমানে প্রায় সাড়ে দশ কোটি টাকা ব্যয়ে রূপনারায়ণ নদের কৈজুড়ি, কুমারচক, রানিচক এবং জোৎকানুরাম গড়ে একটি করে মোট চারটি এবং ঘাটাল শহর লাগোয়া গোবিন্দপুরে শিলাবতীর বাঁধে একটি স্লুইস গেট তৈরি করার কাজ চলছে। ওখানে পুরনো স্লুইসগেট ছিল। সেগুলোরই আধুনিকীকরণ করার কাজ চলছে।
গেটগুলি তৈরি করার জন্য বাঁধটিকে আড়াআড়ি ভাবে কেটে দেওয়া হয়েছে। সেখানেই কংক্রিটের ঢালাই করে স্লুইসগেট তৈরি হচ্ছে। নদীর জল একটু বাড়লেই ওই  পাঁচটি কাটা জায়গা দিয়ে ৮১ মৌজা ভেসে যাবে।কারণ, এই বর্ষায় আর ওই গেট তৈরির কাজ শেষ করে কাটা বাঁধ মেরামতি করা সম্ভব হবে না বলে সবার আশঙ্কা।
ঘাটালমাস্টারপ্ল্যানরূপায়ণসংগ্রামকমিটি সম্পাদক নারায়ণ নায়েক বলেন, শুধু তাই নয়, গেটগুলি তৈরি হওয়ার জন্য বাঁধের সমান্তরাল নদীগর্ভে একটি এবং বাইরের দিকে একটি করে ক্রস বাঁধ করা হয়েছে। ওই ক্রস বাঁধগুলি তৈরির ফলে ৮১ মৌজা এলাকার বৃষ্টির জল আগের মতো নদীতে নেমে যেতে পারবে না। সেটাও আতঙ্কের আর একটা কারণ।
ঘাটাল মহকুমার বাসিন্দাদের অভিযোগ, স্লুইস গেটের প্রয়োজন ছিল কিন্তু বর্ষার মুখে নদী বাঁধ কেটে স্লুইস গেট তৈরির কাজ শুরু করা ঠিক হয়নি। আর তা করতে গিয়েই ৮১ মৌজার বাসিন্দাদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে।রানিচকের বাসিন্দা জগদীশ মণ্ডল অধিকারী, হরিসিংহপুরের বাসিন্দা মানিক মাইতি প্রমুখ বলেন, বাঁধ ভাঙার দরকার হবে না। নদীতে একটু জল বাড়লেই ৮১ মৌজা এবছর বারে বারে প্লাবিত হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ