সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: দেড় মাসেও মিলছে না সিটি স্ক্যান রিপোর্ট। সেই রিপোর্টের জন্য ঘুরে ঘুরে হয়রান হচ্ছেন রোগীর পরিবারের লোকেরা। রিপোর্টের জন্য তাগাদা দিলে জুটছে কর্মীদের কাছ থেকে দুর্ব্যবহার। কর্মীদের ইশারায় সাড়া দিয়ে হাতে ২০০ টাকা গুঁজে দিলেই আড়ালে নিয়ে রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেডিওলজি বিভাগের বিরুদ্ধে।
সোমবার হাসপাতালের সিটি স্ক্যান বিভাগের সামনে একদল লোক রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করে তা না পাওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা পরে জোটবদ্ধ হয়ে হাসপাতাল সুপারের কাছে নালিশ জানাতে এলে দেখেন সুপারের ঘর ফাঁকা। খোঁজাখুঁজি করে অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার গৌতম দাসের দেখা পান। তাঁকে বিষয়টি জানান সকলে। তিনি রেডিওলজি বিভাগের সঙ্গে ফোনে কথা বলে অভিযোগকারীদের আশ্বস্ত করেন মঙ্গলবার রিপোর্টের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।
মেডিকেলের আউটডোরের চিকিৎসকদের পরামর্শে চোপড়ার বাসিন্দা জীবন রায় দেড় মাস আগে বোনের সিটি স্ক্যান করিয়েছিলেন। এদিন তিনি বলেন, যেদিন যেদিন আসতে বলেছে এসেছি। কিন্তু প্রতিদিনই খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। এদিনও এসে রিপোর্ট পেলাম না। এভাবে ঘোরানোয় সমস্যা হচ্ছে বলতেই ইউনিটের এক ব্যক্তি দুর্ব্যবহার করে তাড়িয়ে দেন। বোন বাড়িতে বিনা চিকিৎসায় ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছে।
আরএক অভিযোগকারী খড়িবাড়ির উমেশচন্দ্র রায় বলেন, আমাদের অনেককে রিপোর্ট হয়নি বলে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। দু’মাস হয়ে গেল এখনও রিপোর্ট হয়নি, এটা বিশ্বাস হচ্ছে না। ওখানকার কর্মীরা ইশারায় ২০০ টাকা চাইছেন। যাঁরা টাকা দিচ্ছেন তাঁদের ভিতরে নিয়ে গিয়ে রিপোর্ট দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাই এদিন সুপারের কাছে জানতে এসেছিলাম, আমাদের অপরাধ কী? আমাদের কারও বোন, স্ত্রী, ছেলেমেয়ে সিটি স্ক্যানের রিপোর্ট না পেয়ে যন্ত্রণায় কষ্ট পাচ্ছেন। তাঁদের চিকিৎসা কবে শুরু হবে?
অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার গৌতম দাস বলেন, রেডিওলজি বিভাগের প্রধান সরকারি কাজে এদিন বাইরে ছিলেন। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। তাঁর দপ্তরে যোগাযোগ করে বলা হয়েছে মঙ্গলবার যাতে প্রত্যেকের রিপোর্ট দেওয়া হয়। তারা আশ্বস্ত করেছে। পাশাপাশি অভিযোগকারীদের পুরো ঘটনা লিখিত আকারে বিস্তারিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে। কেন এ ধরনের ঘটনা ঘটছে তা খতিয়ে দেখার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সেই লিখিত অভিযোগ দেওয়া হবে।
নিজস্ব চিত্র।