


নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: লক্ষাধিক ভক্ত সমাগমে উপচে পড়ল কালীক্ষেত্র দক্ষিণেশ্বর। পুণ্যার্থীদের লম্বা লাইন একদিকে বালি ব্রিজ, অন্যদিকে আদ্যাপীঠ মন্দির ছাড়িয়ে যায়। সোমবার সকাল থেকে উত্তর শহরতলির প্রতিটি স্থায়ী কালীমন্দিরে ভক্তদের ভিড় উপচে পড়ে। রাত যতই বেড়েছে প্রতিটি মন্দিরে পুজো দেওয়ার লাইন ততই দীর্ঘ হয়েছে। শুধু স্থায়ী মণ্ডপ নয়, থিমের মণ্ডপ ও প্রতিমা দর্শনে দক্ষিণ দমদম, ঘোলা, নিমতায় ভিড় উপচে পড়েছিল। ভোর পর্যন্ত প্রতিটি প্যান্ডেলে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। দমদম রোডের যানজটে নাকাল হতে হয় সাধারণ মানুষকে।
সোমবার ভোরে মঙ্গলারতি দিয়ে দক্ষিণেশ্বরে ভবতারিণী মায়ের বিশেষ পুজো শুরু হয়। সকালে মায়ের মনমোহিনী রূপ দর্শনের জন্য আগের রাত থেকে দীর্ঘ লাইন পড়েছিল। বেলা যত বেড়েছে সেই লাইন ততই দীর্ঘ হয়েছে। রাত ১০টার পর মায়ের বিশেষ পুজোর সাক্ষী থাকতে ভক্তদের ভিড় কার্যত ভেঙে পড়ে। রাতভর নাটমন্দিরে বসে মায়ের পুজো, আরতি ও হোম দেখেন ভক্তরা। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এদিন মন্দির চত্বরে পুলিশি নিরাপত্তাও ছিল চোখে পড়ার মতো। দক্ষিণেশ্বরের মতো সকাল থেকে বরানগরের সিদ্ধেশ্বরী কালীবাড়ি, জয়মিত্র কালীবাড়ি, বিরাটি কালীবাড়ি, নিমতা কালীবাড়িতে ভিড় উপচে পড়ে। বরানগরের কালীতলা মাঠের কালীপুজো মণ্ডপে ভক্তদের জোয়ার নামে।
অন্যদিকে, বারাসতের কালীপুজোর মতোই থিম যুদ্ধে জমজমাট দক্ষিণ দমদম। বিকেল থেকে সেইসব থিমের পুজোয় ভিড় জমান দর্শনার্থীরা। দমদম স্টেশন থেকে নাগেরবাজার পর্যন্ত দমদম রোড ও যশোর রোড রঙিন আলোয় সেজে উঠেছে। তারমধ্যে কয়েক হাত অন্তর চন্দননগরের আলোর সুদৃশ্য গেট আলাদা মাত্রা এনে দিয়েছে। দমদম রোডে শীলবাগানের মিত্র সংঘ পরিচালিত সর্বজনীন শ্যামাপুজোর থিমের মণ্ডপে জনজোয়ার তৈরি হচ্ছে। ‘মোদের উড়তে মানা’র থিমে পাখিদের কান্না ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। হাজারো পাখির বাসার পাশাপাশি ম্যাকাও, পায়রা, বদ্রী সহ বিভিন্ন পাখি রাখা হয়েছে। হনুমান মন্দির লাগোয়া জ’পুর জয়শ্রীর বোধিসত্ত্ব থিমের মণ্ডপেও জনজোয়ার। ১৪ নম্বর ওয়ার্ড কমিটি পরিচালিত সর্বজনীন শ্যামাপুজোর ‘জলজ’ থিমেও দর্শনার্থীদের ভিড় উপচে পড়ছে। এখানে মৎস্যজীবীদের জীবনযুদ্ধ, আনন্দ, উৎসব ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। নৌকায় মাছ ধরা, মাছের জাল রেখে উৎসবে মেতে ওঠার দৃশ্যে আকর্ষিত হচ্ছেন আট থেকে আশি। প্রাইভেট রোড লক্ষ্মীনগরে বৃন্দাবনের ১১০ ফুটের চন্দ্রদ্বয় মন্দির দর্শনের আশপাশের এলাকার দর্শনার্থীরাও ভিড় জমাচ্ছেন। দমদম রোডে অগ্রগামী ক্লাবের সর্বজনীন শ্যামাপুজো, খামখেয়ালি সংঘের পুজো, মধুগড়ের একাধিক থিম মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
ঘোলা বিদ্যাসাগর পল্লি ফ্রেন্ডস অ্যাসোসিয়েশনের পুজো মণ্ডপে জনজোয়ার দেখা যায়। দার্জিলিংয়ের সৌন্দর্য, টয় ট্রেন, ঝরনা দেখতে কচিকাঁচাদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। নিমতা জোনাকির রথের মণ্ডপের মায়াবী রূপে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ স্রোতের মতো হাজির হচ্ছেন মায়াবি আলোর খেলা প্রত্যক্ষ করতে। বহু জায়গায় আবার সন্ধ্যা থেকেই বসেছে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আসর।