নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: উত্তরপাড়ার মাখলার রাস্তায় নিত্য যানজটে জেরবার স্থানীয় বাসিন্দারা। স্কুল-কলেজের সময় ও অফিস টাইমে প্রতিদিন যানজট ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। মাঝেমাঝে পরিস্থিতি এতটাই জটিল আকার নিচ্ছে যে, উত্তরপাড়া স্টেশন থেকে ডানকুনির দিকে চলে যাওয়া টিএন মুখার্জি রোড ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্তব্ধ হয়ে থাকছে। এর প্রতিবাদে বুধবার নাগরিকদের একাংশ বিক্ষোভ দেখান। কিন্তু তাতেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে পুলিশ, প্রশাসন কোনো মহলেই হেলদোল দেখা যায়নি। বৃহস্পতিবার একইভাবে যানজটের কবলে পড়ে টিএন মুখার্জি রোড। কবে সমস্যার সমাধান হবে, কেউ জানে না।
বৃহস্পতিবার চন্দননগরের পুলিশ কমিনারেটের এক কর্তা দাবি করেছেন, সমস্যা মেটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিজেপির শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুমন ঘোষ বলেন, নাগরিক সমস্যা মেটাতে যাবতীয় পদক্ষেপ করা হবে। যদিও ভোগান্তির মুখে পড়া নিত্যযাত্রীরা আর আশ্বাসবাণীতে ভুলতে চাইছেন না। এই রাস্তা দিয়ে অফিস-স্কুল টাইমে নিয়মিত যাতায়াত করেন সৌরভ রায়। তিনি বলেন, ওটা যানজট নয়, নরকযন্ত্রণা। একবার জটে জড়িয়ে গেলে তিন ঘণ্টার আগে মুক্তি মেলে না। পরিকল্পনার অভাবে ট্রাফিকের সমস্যা জটিল হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বিধায়ক খুবই সক্রিয়, কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, শহরের বুকে ঘটে যাওয়া প্রতিদিনের সমস্যা তাঁর চোখে পড়ে না। খুদে শিক্ষার্থীকে স্কুলে পাঠাতে গিয়ে প্রতিদিন যানজটে আটকে পড়েন মাখলার এক অভিভাবক। তিনি বলেন, সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টে পর্যন্ত টিএন মুখার্জি রোড মানেই যানজট। বাচ্চাদের স্কুলে নিয়ে যাওয়া কিংবা ছুটির পর নিয়ে আসা অসম্ভব হয়ে উঠেছে। শিশুরা যানজটে আটকে গিয়ে কষ্ট পাচ্ছে। প্রতিদিন একই ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন, পুলিশ নির্বিকার। এনিয়ে স্থানীয় বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, ইতিমধ্যেই পুলিশ ও প্রশাসনকে নিয়ে বৈঠক করেছি। ওই রাস্তা আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ভরসা রাখুন, দ্রুত সমস্যা মিটে যাবে।
উত্তরপাড়া রেল স্টেশনের ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মের দিকে মাখলা ও টিএন মুখার্জি রোড। স্টেশনের গা থেকে ওই রাস্তা বেরিয়ে ডানকুনির দিকে গিয়েছে। স্টেশন থেকে বেরিয়ে যাত্রীরা যেমন ওই পথে যান, তেমনই ভারী যানবাহন চলে। এই রাস্তার ধারে অন্তত ছ’টি স্কুল আছে। সেখানে সকাল থেকে দুপুরের পর পর্যন্ত যাতায়াত লেগেই থাকে। এই বিপুল যানবাহনের সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকায় রোজই যানজট হচ্ছে। পড়ুয়াদের স্কুল-কলেজে যাওয়া কিংবা চাকরিজীবীদের অফিসে যাওয়া লাটে উঠেছে। সব দেখেও পুলিশ, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিরা নির্বিকার থাকায় নাগরিকদের ক্ষোভের মাত্রা বাড়ছে।