নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুজোর বাকি আর কয়েকটা দিন। রাজ্য থেকে বর্ষা এখনও বিদায় নেয়নি। কিন্তু নাছোড় বৃষ্টি কিছুটা থমকাতেই নিউমার্কেট, গড়িয়াহাট, হাতিবাগান সহ শহরের বাজারহাট, শপিং মলে কেনাকাটার জন্য জনতার যেন ঢল নেমেছে। এই ভিড়ের সুযোগ নিয়ে থাকে স্থানীয় ও ভিন রাজ্য থেকে আসা দুষ্কৃতী দল। ভিড়ের মধ্যে মিশে গিয়ে তারা কারও মোবাইল, কারও মানিব্যাগ বা সদ্য কেনা জামাকাপড়ের ব্যাগ হাতসাফাই করে। এই ধরনের অপরাধ ঠেকাতে অন্যান্য বারের মতো এবারও তৎপর রয়েছে লালবাজারের ওয়াচ শাখা। তাদের গোয়েন্দারা সদাসতর্ক নজর রাখছেন সার্বিক পরিস্থিতির উপর। তবে এবার ‘ডেলি প্যাসেঞ্জার’ ছিনতাইকারীদের উৎপাত বেড়েছে।
লালবাজারের দাবি, ইতিমধ্যে শহরের বিভিন্ন বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যার মধ্যে ৩-৪জন রয়েছে গুজরাতি গ্যাংয়ের মহিলাও। যারা হুগলি জেলার উত্তরপাড়ায় ঘরভাড়া নিয়ে কলকাতার বিভিন্ন বাজারে বাস, লোকাল ট্রেন বা মেট্রোতে এসে ‘অপারেশন’ চালাচ্ছিল। এখানেই গোয়েন্দারা মনে করছেন, তাঁদের চোখকে ফাঁকি দিতে এবার কিছুটা হলেও কৌশল বদল করেছে ভিন রাজ্য থেকে আসা গ্যাংয়ের সদস্যরা। পুলিশি ধরপাকড় বেড়ে যাওয়ায় পুজোর মুখে শহরে এসে আর তারা থাকছে না। তারা এখন পুজোর অনেক আগে থেকেই ব্যান্ডেল, উত্তরপাড়া, কাঁচরাপাড়া, চিত্তরঞ্জন, আসানসোল সহ বিভিন্ন জায়গায় ঘরভাড়া নিয়ে ডেরা বাঁধে। তারপর প্রতিদিন লোকাল ট্রেনে চেপে কলকাতায় এসে ‘অপারেশন’ চালায়। তাই ভিড়ের মধ্যে কেনাকাটার সময় চোখকান খোলা রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন লালবাজারের গোয়েন্দারা। বিশেষ করে, মেট্রো পরিষেবায় হাওড়া, শিয়ালদহ ও বিমানবন্দর জুড়ে যাওয়ার পর স্টেশনগুলিতে অস্বাভাবিক ভিড় বেড়েছে। মেট্রোর ভিড়ের পাশাপাশি বাস-মিনিবাসেও ‘গায়ে পড়া’ মহিলাদের থেকে সতর্ক থাকতে হবে। না হলে পুজোর মুখে পকেট ফাঁকা হয়ে যেতে পারে বলে আগাম সচেতন করে দিয়েছে পুলিশ।
আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে প্রতিদিন লালবাজারের বাছাই করা গোয়েন্দাদের ন’টি টিম নামছে কলকাতার রাজপথে। শনিবার-রবিবার সংখ্যাটা আরও বেড়ে যায়। এই নজরদারি চলবে পঞ্চমীর দিন পর্যন্ত। মূলত, নিউমার্কেট, লিন্ডসে স্ট্রিট, গড়িয়াহাট, হাতিবাগান, শিয়ালদহ, বড়বাজার, পোস্তা, এক্সাইড মোড়ে জনতার ভিড়ে মিশে নজরদারি চালাচ্ছেন গোয়েন্দারা। পাশাপাশি ওয়াচ শাখার গোয়েন্দাদের ভ্রাম্যমান টিম গাড়িতে চেপে নজরদারি চালাচ্ছে বিভিন্ন শপিং মলে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, গত বারের তুলনায় এবার এই ধরনের অপরাধ অনেকটাই কম। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলকাতা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, ‘এবার একটু কম হলেও আত্মতুষ্টির কোনও জায়গা নেই। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এখনও পর্যন্ত শহরের মার্কেট, মেট্রো স্টেশন, বাস-মিনিবাস থেকে মোট ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে অবশ্য সিংহভাগই দাগি।’ ধৃতদের মধ্যে ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জের পাশাপাশি এ রাজ্যের আসানসোল থেকে পুজোর মুখে কলকাতায় আসা চার-পাঁচজন রয়েছে। বাকিরা কলকাতা ও শহরতলির বাসিন্দা।