সংবাদদাতা, কাটোয়া: দাঁইহাটের রাস উৎসবে বড়মা কালীর পুজোয় মাতলেন শহরের বাসিন্দারা। অমাবস্যায় নয়, রাস পূর্ণিমাতেই বৈষ্ণব মতে পুজো হয় দক্ষিণা কালীর। এই পুজো কয়েকশো বছরের প্রাচীন। একসময় এই এলাকায় বিখ্যাত ভাস্কর্য শিল্পী নবীন ভাস্করদের পূর্ব পুরুষদের পাথর কাটার কারখানা ছিল। সেই ভাস্করদের কারখানাতেই প্রথম এই বড়মা কালীর পুজো শুরু হয়। ভাস্করদের কারখানায় কোনও এক তন্ত্র সাধকের হাত ধরেই প্রথম পুজো শুরু হয়। পরবর্তীকালে ভাস্কররাই বড়মা কালীর পুজো করতেন। এখন এই পুজো বারোয়ারির রূপ পেয়েছে। প্রাচীন রীতি মেনেই মা কালীর আরাধনা করা হয়। এখানে কোনও বলিদান হয় না। তবে, ঐতিহ্য মেনে মায়ের বিসর্জনের শোভাযাত্রা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ১৮৫৫ সালে রানি রাসমণির থেকে বরাত পেয়ে মা ভবতারিণীর মূর্তি তৈরি করেছিলেন দাঁইহাটের বিখ্যাত শিল্পী নবীন ভাস্কর। কলকাতায় গিয়ে পরম ভক্তি ও নিষ্ঠা সহকারে মা ভবতারিণীর মূর্তি গড়ার কাজ করেছিলেন তিনি। পুজো কমিটির সম্পাদক নীলেন্দ্র মণ্ডল বলেন, আগে কার্তিকী পূর্ণিমাতে এই কালীপুজো হতো। এখন রাস পূর্ণিমাতে পুজো হয়। বুধবার দাঁইহাটে রাস উৎসবে মেতে উঠেছেন বাসিন্দারা। প্রচুর পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। সুষ্ঠভাবে রাস উৎসব পালনের জন্য পুজো কমিটিগুলির কাছে আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ-প্রশাসন। শহর আলোয় সাজিয়ে তোলা হয়েছে। এই বড়মা কালীর পুজোই শহরবাসীর কাছে রাস উৎসবের মূল আকর্ষণ। আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু মানুষের ভিড় জমে বড় মা কালীর পুজোতে। শহরের বাসিন্দা অশেষ কয়াল বলেন, ভাস্কররা আগে যা উপার্জন করতেন, তা মায়ের পুজোতেই খরচ করতেন। পাশাপাশি কায়েত কালীর পুজো হতো ওই এলাকাতেই। এখন আর সেটা হয় না।-নিজস্ব চিত্র