Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হরিণঘাটায় সিভিক ভলান্টিয়ারের দাদাগিরি, ‘পুলিশের চাকরি করি’ হুমকিতে মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ, বিক্ষোভ

সামান্য সিভিক ভলান্টিয়ার। কিন্তু তার দাপটে ত্রস্ত গোটা গ্রাম। ক্ষমতার জোরে কখনও প্রতিবেশীকে হুমকি, কখনও তোলাবাজি।

হরিণঘাটায় সিভিক ভলান্টিয়ারের দাদাগিরি, ‘পুলিশের চাকরি করি’ হুমকিতে মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ, বিক্ষোভ
  • ২৭ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কল্যাণী: সামান্য সিভিক ভলান্টিয়ার। কিন্তু তার দাপটে ত্রস্ত গোটা গ্রাম। ক্ষমতার জোরে কখনও প্রতিবেশীকে হুমকি, কখনও তোলাবাজি। অত্যাচার মাত্রাছাড়া হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়লেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রবিবার দুপুরে হরিণঘাটা থানার কাষ্ঠডাঙা ২ পঞ্চায়েতের অন্তর্গত উত্তর ব্রহ্মপুরের গ্রামবাসীরা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের অভিযোগ, ওই সিভিক ভলান্টিয়ার দীর্ঘদিন ধরে গ্রামজুড়ে একচ্ছত্র আধিপত্য চালিয়ে যাচ্ছে। তার অত্যাচারের শিকার গ্রামের বাচ্চা থেকে বয়স্ক প্রত্যেকেই।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি হরিণঘাটা ব্লকের নিমতলা উত্তর ব্রহ্মপুর বাগপাড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দা বলরাম দাস। সে হরিণঘাটা থানার নগরউখড়া ফাঁড়ির সিভিক ভলান্টিয়ার। সম্প্রতি সে কালীপুজোর বিসর্জনকে ঘিরে এক প্রৌঢ়ের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে। প্রতিমা নিরঞ্জনের সময়ে অমর দাস নামে ওই প্রৌঢ়ের সঙ্গে বচসা শুরু হয় বলরামের। ক্রমে তা হাতাহাতিতে পৌছয় বলে অভিযোগ। এরপর বিষয়টি মিটে গেলেও কিছুদিনের মধ্যেই পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হয়। অভিযোগ, প্রতিশোধ নিতে বলরাম নিজের স্ত্রীকে দিয়ে অমর ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি ও খুনের চেষ্টার মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে। 
গ্রামবাসীদের দাবি, এ ধরনের ঘটনা গ্রামে নতুন নয়। আগেও বিভিন্ন সময়ে বলরাম নিজের সিভিক ভলান্টিয়ার পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়েছে। কখনও মাইক ব্যবসায়ীর সঙ্গে, কখনও প্রতিবেশীদের সঙ্গে সামান্য বিবাদে পুলিশ ডেকে এনে মানুষকে হয়রান করেছে বলেও দাবি তাঁদের। এক বাসিন্দার কথায়, ও সিভিক বলে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে চলেছে। পুলিশে বললে উল্টে আমাদেরই ফাঁসিয়ে দেয়। আমরা অসহায় ওর অত্যাচারে।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কাষ্ঠডাঙা ২ পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য রেক্সোনা দাস বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। পুজোর সময় কিছু অশান্তি হয়েছিল। গ্রামের মানুষ অভিযোগ করেছেন যে, ওই সিভিক ভলান্টিয়ার তাঁদের সঙ্গে অন্যায় ব্যবহার করছে। আমি ঘটনাটি প্রশাসনের কাছে জানিয়েছি।
অন্যদিকে, বলরামের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার রাতে পুলিশ অমর দাসকে গ্রেফতার করে। রবিবার তাঁকে কল্যাণী আদালতে তোলা হলে বিচারক জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। অমরের স্ত্রী ললিতা দাস বলেন, যে শোভাযাত্রায় শতাধিক মানুষ ছিল, সেখানে শ্লীলতাহানি অসম্ভব। ও আমাদের উপর রাগ করে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে। গোটা গ্রামের মানুষ জানে যে, আমার স্বামী কিছুই করেননি। 
যদিও পাল্টা বলরামের দাবি, আমি মানুষের পাশে দাঁড়াই, কারও ক্ষতি করতে চাই না। লোকজনের গাড়ি আশেপাশের থানার পুলিশে ধরলে আমি ছাড়িয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করি। আমার সামনেই আমার স্ত্রীর উপর হামলা হয়েছে। তাই আমি প্রতিবাদ করেছি। গোটা গ্রাম আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে। 
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, সিভিক ভলান্টিয়ারের তরফে দায়ের করা মামলার প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে বলেই সেই অভিযোগ গৃহীত হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধেও যে অভিযোগ সেটিও অন্যতম বিচার্য বিষয়। উভয় পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, রবিবার বিকেলে গোটা গ্রামের তরফে ওই সিভিক ভলান্টিয়ারের বিরুদ্ধে গণস্বাক্ষরিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ