সঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিলিগুড়ি: ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বাম প্রার্থী জোরকদমে প্রচারে নেমে পড়েছেন। অভিযোগ, বিরোধী প্রার্থীদের মতো বিজেপি প্রার্থীকে প্রচারে দেখা যাচ্ছে না। একথা অস্বীকার করেননি বিজেপি প্রার্থী শিখা চট্টোপাধ্যায়। দলের নির্দেশ ও কৌশল মতো তাঁর এই অবস্থান বলে জানান শিখাদেবী। এনিয়ে বিজেপি প্রার্থী যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তাতে দলের সাংগঠনিক দুর্বলতার দিকটি প্রকাশ্যে এসেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই এই কেন্দ্রের তৃণমূল এবং সিপিএম প্রার্থী বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংযোগ, ছোট ছোট বৈঠকের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। ভোট যুদ্ধের পরিচিত এই চিত্রে ব্যতিক্রম বিজেপি প্রার্থী। ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী শিখা চট্টোপাধ্যায়কে সেভাবে প্রচারে দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন যে, বিরোধী প্রার্থীদের তুলনায় তিনি এখনও প্রচারে কিছুটা গুটিয়ে রয়েছেন। তবে এর পিছনে দলীয় কৌশল এবং নির্দেশই প্রধান কারণ বলে তিনি জানান।
শিখা চট্টোপাধ্যায় বলেন, দলের নির্দেশ অনুযায়ী এই মুহূর্তে সরাসরি জনসংযোগের বদলে সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর উপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শুধু আমি নই, দল থেকে আমাদের সমস্ত প্রার্থীকেই প্রথমে সংগঠন মজবুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাই শক্তি প্রমুখ কেন্দ্রিক বৈঠক এবং কর্মীদের সঙ্গে আলোচনায় বেশি জোর দিচ্ছি। যাতায়াতের পথে কয়েকটি এলাকায় মানুষের সঙ্গে কথা বললেও, বড় আকারে প্রচারে এখনও নামিনি।
অন্যদিকে বাম প্রার্থী দিলীপ সিং দাবি করেছেন, ইতিমধ্যেই ৫০ হাজারের বেশি ভোটারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে ফেলেছেন। তৃণমূল প্রার্থী রঞ্জন শীল শর্মা এবিষয়ে বলেন, আমি সারা বছরই মানুষের সঙ্গে থাকি। ভোটের প্রচারেও সেই ধারা বজায় রেখে প্রতিটি এলাকায় ঘুরে মানুষের সঙ্গে কথা বলছি। অন্যরা কী করছে, তা দেখার সময় নেই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপি এই কেন্দ্রে অতীতে ভালো ফল করলেও সাম্প্রতিক সময়ে সংগঠন দুর্বল হয়েছে। প্রার্থী নির্বাচন নিয়েও দলের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। দলের প্রাক্তন জেলা সম্পাদক অলোক সেন নির্দল প্রার্থী হওয়ার হুমকি দিয়েছেন। যা শিখাদেবীর উপর চাপ বাড়িয়েছে।
যদিও এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে শিখা চট্টোপাধ্যায় বলেন, দলের মধ্যে কোনো ক্ষোভ নেই। মানুষ আবারও বিজেপিকে জেতাবে। দলীয় সূত্রের খবর, সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার পর পুরোমাত্রায় প্রচারে নামার পরিকল্পনা নিয়েছে বিজেপি। শিখাদেবী বলেন, এটাই স্বাভাবিক। বুথ কমিটির উপরই ভোটের সাফল্য নির্ভর করে।