সঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিলিগুড়ি: গত পাঁচ বছরে এলাকার উন্নয়নে বিধায়কের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ ছিলই। ভোটের প্রচারে নেমে সোটা ভালোই বুঝতে পারছেন। তাই রেলের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজকে সামনে রেখে নিজের ভাবমূর্তি রক্ষা করার চেষ্টা করছেন ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা আসনের বিজেপি প্রার্থী বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়।
গত পাঁচ বছরে বিধায়ক হিসাবে এলাকায় তাঁর কাজকর্ম নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। বিশেষ করে বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিলের অর্থ সম্পূর্ণ ব্যয় করতে না পারা এবং সাধারণ মানুষের পাশে সবসময় না থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
নির্বাচনি প্রচারে গিয়েও একাধিক জায়গায় তাঁকে এনিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বিতর্কিত, অস্বস্তিকর প্রশ্নকে বিরোধীদের চক্রান্ত বলছেন শিখাদেবী। তবে স্বীকার করেছেন, বিধায়ক তহবিলের পুরো অর্থ খরচ করতে পারেননি। একজন বিধায়ক পাঁচ বছরে তাঁর বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিলে ৩ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা পান। শিখাদেবী বলেন, ১ কোটি ৩৬ লাখের কাজ হয়েছে। আরও ৪৮ লক্ষ টাকার কাজ চলছে। বাকি টাকা খরচ করতে না পারার জন্য তিনি রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তৃণমূল সরকার উন্নয়নের কাজ বাধা সৃষ্টি করেছে।
কিন্তু যেটুকু টাকা খরচ করেছেন তাতে বলার মতো কাজ নেই। তাই তিনি প্রচারে বলছেন, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি এলাকায় এনজেপি রেল স্টেশনকে অমৃত ভারত প্রকল্পের আওতায় আধুনিকীকরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি অম্বিকানগরে আন্ডারপাস, এনজেপি ইনস্টিটিউট মাঠে স্টেডিয়াম নির্মাণ সহ একাধিক কাজ রেলের উদ্যোগে এগচ্ছে। বিজেপি প্রার্থীর দাবি, রেলের জমিতে রেল সরাসরি উন্নয়ন করছে, কিন্তু রাজ্য সরকারের জমিতে কাজ করতে গেলে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।
জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের এই বিধানসভা কেন্দ্রের সদস্য মণীষা রায় বলেন, বিজেপি প্রার্থী যে রেল প্রকল্পগুলির কৃতিত্ব দাবি করছেন, তার অনেকটাই অনুমোদিত হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন। বিশেষ করে এনজেপি ইনস্টিটিউট মাঠের স্টেডিয়াম প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুমোদন করা স্টেডিয়ামের কাজ এত দিনেও কেন শেষ করতে পারেনি বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্র সরকার। এখন সামান্য নির্মাণ কাজ দেখিয়ে স্টেডিয়াম তৈরির কৃতিত্ব দাবি কীসের? তৃণমূলের অভিযোগ, উন্নয়নের ব্যর্থতা ঢাকতেই রেলের কাজকে সামনে আনা হচ্ছে। ফলে নির্বাচনের মুখে এই ইস্যু ঘিরে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হচ্ছে।