নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে অপহরণ এবং খুনের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মন। ওই ঘটনায় ইতিমধ্যেই বিডিও ঘনিষ্ঠ চারজনকে গ্রেফতার করেছে বিধাননগর কমিশনারেট। অপহরণ ও খুনের সঙ্গে বিডিওর বিরুদ্ধে সোনা চুরিরও অভিযোগ দায়ের করেছিল মৃতের পরিবার। ওই পরিবারের অভিযোগ, অপহরণের সময় সল্টলেক দত্তাবাদে স্বপনবাবুর দোকান থেকে সোনা নিয়ে পালিয়ে যান বিডিও এবং তাঁর অনুগামীরা। এমনকি, তাঁরা দোকানের সিসি ক্যামেরার স্টোরেজ মেশিনও নিয়ে পালিয়েছেন বলে অভিযোগ। সেই অভিযোগও খতিয়ে দেখছেন পুলিশ ও গোয়েন্দারা। তাই ষড়যন্ত্র, অপহরণ, খুনের ধারার সঙ্গে পুলিশ চুরির ধারাও যোগ করেছে।
সল্টলেকের দত্তবাদে স্বপনবাবুর সোনার দোকান। দোকান ঘরটি তিনি ভাড়ায় নিয়েছিলেন। তিনি এই ব্যবসার সঙ্গে বহু বছর ধরে যুক্ত। পরিবারের অভিযোগ, বিডিওর সোনা চুরি হয়েছিল। যে চুরি করেছিল, সে নাকি স্বপনবাবুর দোকানে বিক্রি করে যায়। ওই সোনা ফেরত পেতেই বিডিও সদলবদলে গত ২৮ অক্টোবর সল্টলেক দত্তাবাদ থেকে স্বপনাবাবুকে অপহরণ করেন বলে অভিযোগ। তারপর নিউটাউনের এ বি ব্লকের ফ্ল্যাটে তুলে নিয়ে গিয়ে পিটিয়ে খুন করা হয় স্বপনবাবুকে। পরদিন ২৯ অক্টোবর নিউটাউনের যাত্রাগাছি থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। ৩১ অক্টোবর পরিবারের পক্ষ থেকে বিডিও প্রশান্ত বর্মন-সহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে অপহরণ-খুনের অভিযোগ দায়ের হয়।
পরিবারের দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, অপহরণের দিন বিডিও পাঁচ-ছয়জন লোক নিয়ে সল্টলেকে দোকনের সামনে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে স্বপনবাবু এবং তাঁর দোকান মালিককে তুলে নিয়ে যান। মালিককে ছেড়ে দিলেও স্বপনবাবুকে তাঁরা ছাড়েননি। অভিযোগপত্রে বিডিওর প্রসঙ্গ তুলে লেখা হয়েছিল, ‘যাওয়ার সময় দোকানের সিসি টিভি মেশিন ও দোকানে থাকা সোনা নিয়ে চলে যায়।’ পুলিশ জানিয়েছে, চুরির অভিযোগ নিয়েও তদন্ত চলছে। বিডিওর সোনা এবং স্বপনবাবুর দোকানের সোনা নিয়েও যাবতীয় তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।