নিজস্ব প্রতিনিধি, চাপড়া: ‘জয় রবে যীশু গুণ করি গান/ মহীয়ান যীশু অমর প্রধান...’— কীর্তনের সুরে যিশুকে নিয়ে গান বাঁধা হয় বৎসরান্তে। একে বলা হয় ‘খ্রিস্টীয় কীর্তন’। খোল, করতাল, হারমোনিয়াম নিয়ে খ্রিস্টান কীর্তনিয়ারা গান করেন। শুনতে কিছুটা আশ্চর্য লাগলেও নদীয়া জেলায় এই কীর্তন শোনা যায়। চৈতন্য মহাপ্রভুর কীর্তন মিলেছে খ্রিস্ট ধর্মের আচারের সঙ্গে। সারা বছর টুকটাক বায়না এলেই কীর্তন গাইতে যান তাঁরা। বিভিন্ন সময়ে গ্রামেগঞ্জে আসর বসে। কিন্তু বড়দিন এলে এই কীর্তনিয়াদের দম ফেলার সময় থাকে না। বছরের শেষ ক’টা দিন যিশু সাধনায় কীর্তন করেন তাঁরা। জেলার মধ্যে চাপড়া ব্লকের এই খ্রিস্টীয় কীর্তন ও কীর্তনিয়ার আধিক্য বেশি। এবছরও চাপড়া ব্লকের চাপড়া-১ পঞ্চায়েতের কিং এডওয়ার্ড স্কুল গ্রাউন্ডে বিশাল মেলা বসেছে। আগামী এক সপ্তাহ মেলা চলবে। সেখানেও এই খ্রিস্টীয় কীর্তন পরিবেশিত হবে। পাশাপাশি রানাঘাট, তাহেরপুর, রানাবন্ধ, ভাতগাছি, গোংরা, চড়ুইঢিপি, লক্ষ্মীপুর, আড়ংশরিষা, বেদবেড়িয়া সহ বেশ কিছু জায়গায় এই খ্রিস্টীয় কীর্তন শোনা যায়।
Advertisement
‘কীর্তন’ শব্দটি হিন্দু ধর্মের সঙ্গেই সম্পৃক্ত। কীর্তন গেয়ে রাধাকৃষ্ণর আরাধনা করা হয়। সেই কীর্তন মিশেছে খ্রিস্ট ধর্মের সঙ্গে। নদীয়া জেলায় দশকের পর দশক ধরে প্রচলিত এই খ্রিস্টীয় কীর্তন। এর শিকড় অবিভক্ত বাংলার নদীয়া জেলার মাটিতে। কমবেশি দেড়শো বছর ধরে এই খ্রিস্টীয় কীর্তন বাংলায় রয়েছে। উল্লেখ্য, বৈষ্ণব ধর্মের মতো, নামকীর্তন ও পালকীর্তন রয়েছে এই খ্রিস্টীয় কীর্তনে। খোল, করতাল, হারমোনিয়ামে যখন সুর ওঠে, দূর থেকে শুনলে হরিনাম সংকীর্তনের থেকে আলাদা করা যায় না। কিন্তু গানের কথা মন দিয়ে শুনলে সে ভুল ভাঙে। টের পাওয়া যায় ঈশ্বর যিশুর উপস্থিতি। কীর্তনে শোনা যায় ভৈরবী, দরবারি, আশাবরী, শিবরঞ্জনী, পূরবী, ভাটিয়ালি, ঠুংরি সহ নানা সুর। নদীয়া জেলার বিখ্যাত খ্রিস্টীয় কীর্তন শিল্পী বাসুদেব মণ্ডল বলেন, ‘আমাদের সারা বছরই বিভিন্ন অনুষ্ঠান থাকে। যেখানে আমরা কীর্তনের মাধ্যমে যিশুকে স্মরণ করি। এবছরও আমাদের ভালোই ডাক এসেছিল। চাপড়ার মেলাতে আগামী সাতদিন ধরে খ্রিস্টীয় কীর্তন হবে।’ ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়, ১৮৩০ সাল নাগাদ নদীয়া জেলায় খ্রিস্ট ধর্মের প্রচার শুরু হয়। মিশনারি রেভারেন্ড জেমস ডিয়ার নদীয়া জেলায় এসেছিলেন। উঠেছিলেন নবদ্বীপে। সেইসময়ে কৃষ্ণনগরে ইউরোপীয়ানদের উপস্থিতি ভালোই ছিল। তিনি কৃষ্ণনগরে খ্রিস্টধর্মের প্রচার শুরু করেন।



