Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দেড় মাস আগে শেয়ালের কামড়, মৃত্যু হল প্রৌঢ়ের

দেড় মাস আগে শেয়ালের কামড়, মৃত্যু হল প্রৌঢ়ের
  • ৫ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: শেয়ালের কামড় খেয়েছিলেন দেড় মাস আগে। কিন্তু ভ্যাকসিন নেননি। জলাতঙ্কের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া জয়পুরের ওই রোগীর মৃত্যু হয়। মৃতের নাম নিতাই লোহার (৫৬)।  তাঁর বাড়ি জয়পুরের রাজগঞ্জে। রবিবার সন্ধ্যায় বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জলাতঙ্কের সম্ভাবনার কথা বললেও প্রকৃত কারণ জানতে মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বাঁকুড়া সম্মিলনি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। 
Advertisement
বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালের সুপার শুভঙ্কর কয়াল বলেন, নিতাই লোহার নামে এক রোগী জলাতঙ্কের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানার জন্য ময়নাতদন্ত করানো হচ্ছে। 
মৃতের ছেলে বুলেট লোহার বলেন, বাবাকে ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য বারবার বলা হলেও তিনি তা নেননি। ভ্যাকসিনের নাম শুনেই তিনি আর হাসপাতালে যেতে চাননি। জোরাজুরি করে ভ্যাকসিন দেওয়াতে পারলে হয়তো তিনি প্রাণে যেতেন। 
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজগঞ্জের বাসিন্দা নিতাই লোহার আগে হিমঘরে কাজ করতেন। তবে কয়েকবছর হল তিনি বাড়িতেই গোরু ছাগলের দেখাশুনা করতেন। প্রায় দেড় মাস আগে তিনি গ্রাম থেকে কিছুটা দূরে জঙ্গলে কাঠ কুড়াতে গিয়ে রাতে বাড়ি ফেরেননি। পরের দিন সকালে  জখম অবস্থায় জঙ্গলের মধ্যে উদ্ধার করা হয়। সারারাত ধরে জঙ্গলের মধ্যে পড়ে থাকার কারনে শেয়াল সহ বিভিন্ন বন্য জন্তুতে তাঁকে কামড়ে দেয়। চোখ, চোয়াল, পা সহ তাঁর শরীরের একাধিক জায়গায় কামড়ে ক্ষতবিক্ষত করে দেয়। সকালে উদ্ধার করে জয়পুর হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। ওই সময়েই চিকিৎসকরা ভ্যাকসিন নেওয়ার পরামর্শ দিলেছিলেন। কিন্তু তিনি তা নেননি। তবে চিকিৎসায় শরীরের ঘা গুলো প্রায় সেরে গিয়েছিল। কালীপুজোর দিন তাঁর প্রচণ্ড জ্বর আসে। জল দেখলে আতঙ্কে ভুগছিলেন। পরের দিন পরিবারের লোকেরা চিকিৎসার জন্য তাঁকে জয়পুর হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে ওইদিনই বিষ্ণুপুর সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রবিবার সন্ধ্যায় তাঁর মৃত্যু হয়। 
সম্পর্কিত সংবাদ