Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দেড় লক্ষ টাকার গয়না পরে ‘রোমান্টিক’ প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে ত্রাহি অবস্থা বধূর

দেড় লক্ষ টাকার গয়না পরে ‘রোমান্টিক’ প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে ত্রাহি অবস্থা বধূর
  • ১ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: রাতবিরেতে রোমান্টিক গল্প করতে প্রেমিক জোগাড় করেছিলেন পটাশপুরের ২৫ বছরের এক বধূ। প্রায় দু’মাস ধরে রোমান্টিক গল্প চলাকালীন বন্ধুত্বের গণ্ডি পেরিয়ে দু’জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। গত ১৪ ডিসেম্বর ওই বধূ এগরা-২ ব্লকে গঙ্গাধরবাড় গ্রামীণ হাসপাতালে যান। সেখানে ওই যুবককে ডেকে নেন। তারপর হাসপাতাল থেকে দু’জনেই বেপাত্তা। বাড়ির লোকজন অনেক জায়গায় খোঁজাখুঁজির পরও হদিশ পাননি। ১৮ ডিসেম্বর ওই যুবতী বাড়ির লোকজনকে ফোন করে উদ্ধার করার আর্জি জানান। ওইদিন দীঘার একটি হোটেল থেকে বাড়ির লোকজন তাঁকে উদ্ধার করেন। সোনার চেন, কানের জোড়া ঝুমকা সহ ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের গয়না উধাও। প্রেমিকার গয়না বেচে হোটেলে ফূর্তি করা প্রেমিকের বিরুদ্ধে এগরা থানায় এফআইআর করেছেন ওই বধূ। অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিস। জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত যুবকের বাড়ি এগরা থানার সাহড়দা গ্রামে। অপরদিকে, বধূটির বাড়ি পটাশপুর থানার সাতশতমাল এলাকায়। দু’মাস আগে ফোনে সোশ্যাল মিডিয়ায় দু’জনের মধ্যে যোগাযোগ হয়। তারপর নিয়মিত মেসেঞ্জারে যোগাযোগ হতো। অনেক রাত পর্যন্ত দু’জনের কথাবার্তা হতো। এরপরই ওই যুবক ‘প্রেমিকার’ সঙ্গে দেখা করার বায়না করে। প্রেমিকের আব্দার পূরণ করতে হাসপাতালে যাওয়ার নাম করে ওই বধূ গঙ্গাধরবাড় গ্রামীণ হাসপাতালে যান। সেখানেই উভয়ের সাক্ষাৎ হয়।  এগরার হাসপাতাল থেকেই দু’জনে প্রথমে কলকাতায় রওনা দেয়। সেখানে একদিন কাটানোর পর সোজা দীঘা। এরমধ্যেই ওই বধূর শরীরে থাকা সব গয়না খুলে নেয় যুবক। আরও দামি গয়না কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেওয়া হয়। প্রথমে প্রলোভনের ফাঁদে পা দিলেও পরে ওই গৃহবধূর ভুল ভাঙে। চারদিন ওই যুবকের সঙ্গে থাকার পর ১৮ ডিসেম্বর ওই যুবতী বাবাকে ফোন করে উদ্ধার করার জন্য সাহায্য চান। দীঘার হোটেলে গিয়ে মেয়েকে উদ্ধার করেন গৃহবধূর বাবা। প্রেমিক এভাবে তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করবেন ভাবতেও পারেননি ওই যুবতী। গয়না ফেরত চেয়ে এবং প্রেমিকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিতে এগরা থানার দ্বারস্থ হয়েছেন ওই বধূ। এনিয়ে সাহড়দা গ্রামের ওই যুবকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছেন।
Advertisement
এর আগেও পূর্ব মেদিনীপুরের একাধিক জায়গায় এধরনের সম্পর্কের পরিণতি তিক্ত হওয়ায় বধূরা থানার দ্বারস্থ হয়েছেন। অশ্লীল ছবি নিয়ে ব্ল্যাকমেল কিংবা বধূর কাছ থেকে সোনা ও টাকা পয়সা হাতানোর ঘটনা আগেও ঘটেছে। তারপরও হুঁশ ফেরেনি। পটাশপুরের ওই বধূ প্রেমিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য প্রায় দেড় লক্ষ টাকার মূল্যে সোনার গয়না পরেছিলেন। তাঁর সেই রোমান্টিক আবেগের মূল্য চোকাতে হয়েছে।
এগরা থানার পুলিস জানিয়েছে, অভিযোগ দায়ের হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ