Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দেড় কোটির কেলেঙ্কারি! গ্রেপ্তার কৃষি উন্নয়ন সমিতির ম্যানেজার 

দেড় কোটির কেলেঙ্কারি! গ্রেপ্তার কৃষি উন্নয়ন সমিতির ম্যানেজার 
  • ৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: কৃষি উন্নয়ন সমবায় সমিতিতে বড়সড় দুর্নীতির পর্দা ফাঁস। সমবায়ের ফান্ড থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা গায়েব করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ দায়ের করেছে খোদ সমবায় দপ্তরই। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে ধানতলা থানার পুলিস। গ্রেপ্তার করা হয় উন্নয়ন সমিতির ম্যানেজারকে। ধৃতকে বৃহস্পতিবার রানাঘাট মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক চার দিনের পুলিস হেফাজতে নির্দেশ দেন।
Advertisement
ধানতলা থানার তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, গত ৩ ডিসেম্বর ধানতলা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের হয়। তাতে ধানতলা থানা এলাকার হেমায়েতপুর কৃষি উন্নয়ন সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে ফান্ড তছরূপের অভিযোগ আনা হয়। দপ্তরের কো-অপারেটিভ ইন্সপেক্টর এবং কো-অপারেটিভ ডেভেলপার অভিযোগ করে বলেন, হেমায়েতপুর হাজরা পাড়ার ওই কৃষি উন্নয়ন সমিতির ১ কোটি ৫৪ লক্ষ টাকা গায়েব করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তারা ২০২১, ২০২২, এবং ২০২৩ জুড়ে দপ্তরের মধ্যে আভ্যন্তরীণ তদন্ত করেন। তাতে এই টাকা তছরূপের বেশ কিছু তথ্য প্রমাণ হাতে উঠে আসে। সেই মতো বিষয়টি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালে দপ্তরের পদস্থ কর্তা অর্থাৎ অ্যাসিস্ট্যান্ট রেজিস্টার অফ কো-অপারেটিভ সোসাইটি তদন্তের প্রয়োজনে শুনানিতে ডেকে পাঠায় সমবায় সমিতির চেয়ারম্যান, ম্যানেজার এবং সেক্রেটারিকে। কিন্তু দপ্তরের অভিযোগ, কেউই এই দেড় কোটি টাকা কোথায় গেল, তার কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি। একাধিকবার শুনানির পরও উধাও হয়ে যাওয়ার টাকার হদিস না পেয়ে ধানতলা থানায় অভিযোগ দায়ের করে দপ্তর নিজেই। অভিযুক্তের তালিকায় রয়েছেন সমিতির চেয়ারম্যান, সেক্রেটারি এবং ম্যানেজার।  অবশেষে ধরা পড়ল  ম্যানেজার নরেশ বিশ্বাস। স্থানীয় এলাকাতেই তাঁর বাড়ি। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিস হেফাজত নেওয়া হয়েছে। যদিও টাকা কীভাবে তছরুপ হল, তার সঠিক অনুসন্ধান এখনও করতে পারেনি পুলিস। 
রানাঘাটের অ্যাডিশনাল এসপি লাল্টু হালদার বলেন, ‘আমরা দপ্তরের কাছ থেকেই অভিযোগটি পেয়েছিলাম। ওরা জানিয়েছে, একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদেও ১ কোটি ৫৪ লক্ষ টাকার হদিস তারা দিতে পারেনি। নির্দিষ্ট অভিযোগ পেয়ে গ্রেফতার করেছি ম্যানেজারকে। তবে, এই আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে বাকি দু’জন কতখানি জাড়িয়ে, তা এখনও স্পষ্ট হয়নি। উপযুক্ত প্রমাণ পেলে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব। টাকা কিভাবে তছরূপ হয়েছে এবং তা কোথায় গিয়েছে, সে বিষয়ে জানার চেষ্টা চলছে। ধৃত ম্যানেজারকে আমরা হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। তছরূপ হওয়া টাকা উদ্ধারের চেষ্টাও হবে।’
সম্পর্কিত সংবাদ