Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কর্মতীর্থ, সদভাবনা কেন্দ্র পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে

দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কর্মতীর্থ, সদভাবনা কেন্দ্র পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে
  • ২৫ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: তারাপীঠ থেকে ময়ূরেশ্বর যাওয়ার রাস্তায় নিত্যানন্দ মহাপ্রভুর জন্মস্থান বীরচন্দ্রপুর গ্রামের কাছে দেখা মেলে বেশ কিছুটা জায়গা নিয়ে গড়ে ওঠা নীল সাদা রঙের ভবনটি। প্রায় সাত বছর আগে তৈরি হয়েছিল এই ‘কর্মতীর্থ’। দোকানঘর বিলিও হয়েছিল স্থানীয় স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মধ্যে। কিন্তু ঘটা করে উদ্বোধনই সার, সব দোকানঘরই তালাবন্ধ। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের অভিযোগ, রাস্তার ধার ঘেঁষে হলেও লোকালয় থেকে দূরে গিয়ে ফাঁকা জায়গায় কেউ জিনিস কিনতে আসছেন না। তাই বিক্রিবাট্টা না থাকায় দোকান বন্ধ। স্বভাবতই ৭০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত কর্মতীর্থ পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। সেই সময় ময়ূরেশ্বর ১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ছিলেন ধীরেন্দ্রমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়। এখনও তিনি সভাপতি রয়েছেন। ধীরেন্দ্রবাবু বলেন, বীরচন্দ্রপুরে তখন জায়গা পাওয়া যায়নি। তাই দূরবর্তী ফাঁকা জায়গায় তা করা হয়েছিল। বোঝা যাচ্ছে, ওখানে কর্মতীর্থ করাটাই ভুল হয়েছিল।
Advertisement
রাজ্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১৪ সালের জুলাইয়ে প্রতি ব্লকে অন্তত একটি করে ‘কর্মতীর্থ’ নামে ‘মার্কেট কমপ্লেক্স’ তৈরির কথা ঘোষণা করেছিলেন। বলা হয়েছিল— স্বনির্ভর গোষ্ঠী, গ্রামীণ কারিগর এবং ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীরা নিজেদের উৎপাদিত পণ্য সেখানে বিক্রি করতে পারবেন। এদিকে নিত্যানন্দ মহাপ্রভুর জন্মস্থান বীরচন্দ্রপুর, যা একচক্রাধাম নামে পরিচিত। রয়েছে ইস্কনের মন্দির।  বৈষ্ণব ধর্মের পীঠস্থান হওয়ায় প্রতিদিন এখানে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আনাগোনা রয়েছে। সেখানে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা যাতে তাঁদের হাতের তৈরি সামগ্রী বিক্রি করতে পারেন, সেই লক্ষ্যে ২০১৭ সালে ৭০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে কর্মতীর্থ গড়ে তোলা হয়। কিন্তু আজও তা বাস্তবায়ন হল না। পরিকল্পনার অভাবে সরকারি উদ্দেশ্য বিফলে যাচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বনির্ভর গোষ্ঠীর এক মহিলা বলেন, ফাঁকা জনবসতিহীন এলাকায় কে কিনতে আসবেন বলুন! মন্দির থেকে বেরিয়েই বাজার। পর্যটকরা সেখান থেকে জিনিস কিনে বাড়ি ফিরছেন। ফলে দোকান না চলায় বন্ধ করে দিয়েছি। 
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফাঁকা ওই ভবন এখন দুষ্কৃতীদের আখড়া হয়েছে। অন্ধকার নামলেই ভবন তাদের দখলে চলে যায়। ওই ভবনগুলি চালুর বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। না হলে এলাকার শান্তি বিঘ্নিত হচ্ছে। শুধু তাই নয়,  একই সময়ে বীরচন্দ্রপুর আরও ৭০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে দ্বিতল ‘সদ্ভাব কেন্দ্র’ গড়ে তোলা হয়। রয়েছে দু’টি হল ঘর ও আটটি গেস্ট রুম। বিয়ে থেকে শ্রাদ্ধ সমস্ত অনুষ্ঠানের জন্য স্বল্প মূল্যে সদ্ভাব কেন্দ্রটি ভাড়া দেওয়া হবে বলে ঠিক হয়। কিন্তু সেটিও বন্ধ থেকে নষ্ট হতে বসেছে। বিরোধীরা বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলা সাধারণ সম্পাদক শান্তনু মণ্ডল বলেন, তৃণমূল সরকারের শুধুই গালভরা প্রতিশ্রুতি। যে সমস্ত জায়গায় ‘কর্মতীর্থ’ প্রকল্প হয়েছে, সেটা ব্যবসা চলার জায়গা নয়। যেখানে-সেখানে প্রকল্প তৈরি করে তৃণমূল নেতারা কাটমানি খেয়েছেন। বেকার-সমস্যা আদৌ মিটেছে কি?
যদিও পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বলেন, কর্মতীর্থ ও সদভাবনা কেন্দ্রটি চালু করার জন্য ইতিমধ্যে বৈঠকে ডাকা হয়েছে। আজ শুক্রবার সেই বৈঠক হবে। দেখি কী সিদ্ধান্ত হয়। প্রয়োজনে কাউকে লিজ দিয়ে দেব। পড়ে পড়ে নষ্ট হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকার সম্পত্তি।
সম্পর্কিত সংবাদ