Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সমুদ্রে দানা বেঁধেছে ঘূর্ণিঝড় ‘মন-থা’, বড়সড় ক্ষতির আশঙ্কায় আলুচাষিরা

হাওয়া দপ্তরের বৃষ্টির পূর্বাভাস আলু চাষিদের আতঙ্ক বাড়িয়েছে। পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় ‘মন-থা’র প্রভাব নিয়ে চাষিদের মনে চিন্তার মেঘ ঘনীভূত হতে শুরু করেছে।

সমুদ্রে দানা বেঁধেছে ঘূর্ণিঝড় ‘মন-থা’, বড়সড় ক্ষতির আশঙ্কায় আলুচাষিরা
  • ২৭ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বহরমপুর: হাওয়া দপ্তরের বৃষ্টির পূর্বাভাস আলু চাষিদের আতঙ্ক বাড়িয়েছে। পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় ‘মন-থা’র প্রভাব নিয়ে চাষিদের মনে চিন্তার মেঘ ঘনীভূত হতে শুরু করেছে। আলুর জমিতে সেচ দিতে চাষিরা ইতস্তত করছেন। যাঁরা সদ্য আলু জমিতে বসিয়েছেন, তাঁরা হিসেব কষতে শুরু করেছেন, বৃষ্টি হলে আলুর কতটা ক্ষতি হবে। অনেকে বাড়িতে আলু বীজ এনেও অপেক্ষায় রয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, নিম্নচাপের প্রভাব কাটার পরই জমিতে আলু বসাব, তার আগে নয়।

Advertisement

আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ অবস্থান করছে। আজ সোমবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া দপ্তর। তার আগে রবিবার দুপুরে কলকাতায় এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গিয়েছে। সংবাদ মাধ্যমে সেই খবর দেখেই আলু চাষিদের মধ্যে দুশ্চিন্তা বাড়তে শুরু করেছে। গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো ঘূর্ণিঝড় ‘মন-থা’ অন্ধ্র উপকুলে ফুঁসছে। যদিও ঘূর্ণিঝড়ের ল্যান্ডফলের ইঙ্গিত অন্ধ্র উপকুলেই রয়েছে। তবে বাংলায় তার প্রভাব কতটা এবং কীভাবে পড়বে সেই শঙ্কা আলু চাষিদের ধন্দে ফেলেছে। আগামী শুক্রবার পর্যন্ত নিম্নচাপের প্রভাব দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলির আকাশে থাকবে বলেই আবহাওয়া দপ্তর ইঙ্গিত দিয়েছে। ফলে আলু চাষিরা এখুনি আলু বসাতে এবং জমিতে সেচ দিতে চাইছেন না।
মুর্শিদাবাদে বরাবর আগাম আলু চাষ হয়। রাজ্যে মুর্শিদাবাদের আলু প্রথমে বাজারে আসে। ইতিমধ্যে বহু চাষি জমিতে আলু বসিয়েছেন। কোথাও কোথাও গাছ বেরতেও শুরু করেছে। দুর্গাপুজোর পরপরেই আলু বসিয়েছেন নিত্যগোপাল ঘোষ। তিনি বলেন, গাছের উচ্চতা দেড়-দু’ ইঞ্চি হয়ে গিয়েছে। খুব বেশি বৃষ্টি না হলে আলুর ক্ষতি হবে না আশা করছি। তা সত্ত্বেও জমিতে সেচ দিতে আরও দু’-একদিন দেখব। শনিবার দেড় বিঘা জমিতে পাঞ্জাবের আলু বীজ বসিয়েছেন কয়ার শান্তিরাম মণ্ডল। শান্তিবাবু খুব চিন্তায় রয়েছেন। তিনি বলেন, ১৭০০ টাকা প্যাকেট (৫০ কেজি) হিসেবে পাঞ্জাবের বীজ কিনে বসিয়েছি। বৃষ্টিতে আলু নষ্ট হয়ে গেলে এবার আর মাথা তুলতে পারব না। ওই জমিতে দ্বিতীয়বার আলু লাগানোরও ক্ষমতা নেই। টিভি, রেডিওর খবর শুনে রাতের ঘুমই নষ্ট হয়ে গিয়েছে।
রবিবার আলু বসানোর প্রস্তুতি থাকলেও শেষ মূহূর্তে বহু চাষি মাঠমুখো হননি। তাঁদের দাবি, দু’ দিন অপেক্ষা করে নিম্নচাপের প্রভাব আঁচ করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। রবিবার কলকাতায় বৃষ্টি হয়েছে শুনে ওই চাষিরা তাঁদের সিদ্ধান্ত সঠিক বলেই মনে করছেন। বিরাজ শেখ জানালেন, আলু চাষ দু’-চারদিন পিছলে ক্ষতি হবে না। কিন্তু চাষের পর বৃষ্টি হলেই কমবেশি ধাক্কা খেতে হবে। গত বছর ফল ভুগেছি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ