অন্ধ্রপ্রদেশে তাণ্ডব ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের,  মৃত অন্তত পাঁচ, ওড়িশায় প্রবল বর্ষণ
  • ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বিশাখাপত্তনম: রাত দু’টো থেকে সকাল আটটা। টানা ছ’ঘণ্টার তাণ্ডব। ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি) জানিয়েছে, বুধবার অন্ধ্রপ্রদেশ ও পুদুচেরির ইয়ানম উপকূলে আছড়ে পড়েছে ‘অতি প্রবল’ ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। শেষ হয়েছে তার ‘ল্যান্ডফল’ প্রক্রিয়া। প্রশাসন সূত্রে খবর, অর্ণবের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত অসংখ্য ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট। উপড়ে গিয়েছে কয়েকশো গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি। অন্ধ্রপ্রদেশে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া হয়েছে। এছাড়া, জলোচ্ছাসের আশঙ্কায় অন্ধ্রের ১৩টি জেলা ও ইয়ানমে হড়পা বানের সতর্কতা জারি করেছে সাইক্লোন ওয়ার্নিং সেন্টার। বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত এই সতর্কতা জারি থাকবে। ঝড়ের দাপটে বিপর্যস্ত বিদ্যুৎ পরিষেবা। বাতিল বহু ট্রেন ও বিমান। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার বিভিন্ন জায়গা অতি ভারী বৃষ্টিপাতের মুখে পড়েছে। ঝোড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত দক্ষিণ ওড়িশার জেলাগুলি। উত্তাল সমুদ্র। একাধিক উপকূলীয় জেলায় বৃষ্টির পরিমাণ ২০০ মিলিমিটার ছাড়িয়ে গিয়েছে। 

Advertisement

আইএমডি জানিয়েছে, স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সময় ঘূর্ণিঝড়ের গতি ছিল ঘণ্টায় ১২৫-১৩৫ কিলোমিটার। দমকা হাওয়ার সর্বোচ্চ গতি পৌঁছে যায় ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত। অর্ণবের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ‘ল্যান্ডফল’ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে থেকেই শুরু হয় ঝড়ের তাণ্ডব। আগেই বিভিন্ন রাজ্যের ১ লক্ষ ৮০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যায় প্রশাসন। আইএমডি জানিয়েছে, বুধবার সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত অন্ধ্রপ্রদেশে সর্বাধিক বৃষ্টিপাত হয়েছে বিশাখাপত্তনমে। প্রবল বৃষ্টি হয়েছে বিজয়নগর, আনাকাপল্লি, শ্রীকাকুলাম ও কৃষ্ণা জেলায়। ঝড়ের তাণ্ডবে কাকিনাড়া জেলায় ভেঙে পড়েছে কয়েকশো গাছ, একশোর কাছাকাছি বিদ্যুতের খুঁটি। উপকূল এলাকায় উপ্পাড়া রোড সম্পূর্ণ ভেসে গিয়েছে। আল্লুরি সীতামাররাজু জেলার একটি পুরানো সেতু ভেসে গিয়ে তিদুগুড়া গ্রাম বিছিন্ন হয়ে পড়েছে। বিশাখাপত্তনম জেলায় ভেঙে পড়েছে প্রায় ৪০০টি গাছ। সেখানে রাস্তা পরিষ্কার ও বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক করার কাজ চলছে। 
বুধবার সকালে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে জেলাশাসক সহ প্রায় ৩২ হাজার কর্মীর সঙ্গে টেলিকনফারেন্স করেন অন্ধ্রের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু। তিনি নির্দেশ দেন, দু’ঘণ্টার মধ্যে রাস্তাগুলি থেকে ভেঙে পড়া গাছ সরিয়ে ফেলতে হবে। জাতীয় সড়ক অবিলম্বে চালু করতে হবে। ঝড়ের দাপট কমলে বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক করার কাজ শুরু করতে হবে। সাইক্লোন সেন্টারগুলিতে আশ্রয় নেওয়া মানুষের জন্য খাবার, পানীয় জল ও ওষুধের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন নাইডু। ফসলের ক্ষয়ক্ষতি কত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের জেরে ওড়িশায় রেড অ্যালার্ট জারি করা হয় মালকানগিরি, কোরাপুট, রায়গড়, গজপতি ও নবরঙ্গপুরে। উপকূলীয় এলাকাগুলিতে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় সরানো হয় ৩০ হাজারের বেশি মানুষকে। ২ গাজার ৩৭টি সাইক্লোন সেন্টারকে প্রস্তুত রেখে ৩১৩টি রেসপন্স টিম মাঠে নামায় ওড়িশা প্রশাসন। প্রশাসনের নির্দেশ মেনে ১৯ হাজারের বেশি মাছ ধরার নৌকা সমুদ্র থেকে ফিরে এসেছে। আইএমডি জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় অর্ণব ক্রমেই শক্তি হারিয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হবে ও গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে। এর প্রভাবে ছত্তিশগড় সহ বিভিন্ন রাজ্যে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে।