নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কয়েকদিনের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে যে নিম্নচাপটি তৈরি হতে চলেছে, সেটি শেষপর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ হবে কি না তা শুক্রবার পর্যন্ত অনিশ্চিত। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর আপাতত জানিয়েছে, এটি মঙ্গলবার নাগাদ পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে। গভীর নিম্নচাপ শক্তিবৃদ্ধি করলে অতিগভীর নিম্নচাপ হয়। তারপর আরও শক্তিবৃদ্ধিতে পরিণত হয় ঘূর্ণিঝড়ে।
তীব্রতার মাপকাঠিতে ঘূর্ণিঝড়ের পাঁচটি শ্রেণি। গাণিতিক পদ্ধতিতে সম্ভাব্য সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস অনেক আগে থেকে দিয়ে থাকে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক মডেল। এর মধ্যে রয়েছে—আইএমডি-জিএফএস, এনসিএমআরডব্লুএফ, ইসিএমএম প্রভৃতি। এদিন পর্যন্ত কোনো মডেল, ঘূর্ণিঝড় হবেই এমনটা নিশ্চিত করে বলেনি। তবে গভীর নিম্নচাপটি আরও শক্তিশালী হতে পারে বলা হচ্ছে। তবে সব মডেল এবং আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, নিম্নচাপটির সম্ভাব্য গতিপথ দক্ষিণ ওড়িশা-উত্তর অন্ধ্র উপকূলের দিকে হবে।
কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের এই পূর্বাভাসের ভিত্তিতে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর আগামী দুসপ্তাহে রাজ্যের জন্য যে দীর্ঘকালীন পূর্বাভাস দিয়েছে, তাতে দক্ষিণবঙ্গের কোনো কোনো স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথাই বলা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানান, নিম্নচাপটি তৈরির পরই এর গতিপথ ও প্রকৃতির বিষয়টি পরিষ্কার হবে। তখন রাজ্য, বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের উপর এর পরোক্ষ প্রভাব কতটা পড়বে তা বোঝা যাবে। আপাতত আজ শনিবারও দক্ষিণবঙ্গে বজ্রগর্ভ মেঘ সৃষ্টি হয়ে বিভিন্ন জায়গায় বজ্রপাত ও বৃষ্টি হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আজ শনিবার সন্ধ্যা নাগাদ উত্তর আন্দামান সাগরে নিম্নচাপ তৈরি হবে। তারপর আগামী তিন-চারদিন ধরে এটি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম অভিমুখে অন্ধ্র-ওড়িশা উপকূলের দিকে এগোবে। ঠিক কবে নাগাদ এটি উপকূল অতিক্রম করবে সেটা এখনো বলা হয়নি। তবে ২৩-২৫ সেপ্টেম্বর সময়ে অন্ধ্র-ওড়িশা উপকূলের মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না-থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
উপকূল অতিক্রম করার পর এটি অভিমুখ কিছুটা পালটে উত্তর ছত্তিশগড় হয়ে পূর্ব উত্তরপ্রদেশ এবং লাগোয়া বিহারের দিকে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। আবহাওয়াবিদদের অনুমান, এটি শেষপর্যন্ত উত্তরাখণ্ডের দিকে যেতে পারে। পশ্চিম রাজস্থানের উপর থেকে যেহেতু বর্ষা বিদায়ের প্রক্রিয়া আজ থেকে শুরু হয়ে যাবে তাই এই নিম্নচাপটি আগেরটির মতো রাজস্থান-গুজরাতের দিকে যেতে পারবে না। কারণ ওইদিকে শুকনো বাতাস সক্রিয় হয়ে ওঠার কারণে নিম্নচাপটিকে এগোনোর পথে বাধা দেবে।