নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ শক্তি বাড়িয়ে সোমবার নাগাদ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে চলেছে। শুক্রবার জানিয়ে দিল কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর। তবে ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিমবঙ্গ বা লাগোয়া উত্তর ওড়িশা উপকূলের দিকে সরাসরি সম্ভবত আসছে না। এটির অভিমুখ উত্তর অন্ধ্র-দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের দিকে হবে বলে আপাতত মনে করছে আবহাওয়া দপ্তর। তবে ঘূর্ণিঝড়ের পরোক্ষ প্রভাব যে দক্ষিণবঙ্গে পড়তে চলেছে, তার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়ের মতো একটি শক্তিশালী সিস্টেম সমুদ্রে তৈরি হলে তার প্রভাব বিরাট এলাকাজুড়েই পড়ে। ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতার মাত্রা কতটা হবে এবং পশ্চিমবঙ্গ উপকূল থেকে তা কত দূরে শেষ পর্যন্ত থাকবে, তার উপর নির্ভর করছে এখানে প্রভাবের মাত্রা। আপাতত ২৮-২৯ অক্টোবর (বুধ-বৃহস্পতিবার) দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া জেলার কিছু স্থানের উপর দিয়ে ভারী বৃষ্টি ও জোরালো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। বৃহস্পতি ও শুক্রবার ভারী বৃষ্টি হতে পারে উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও লাগোয়া এলাকায়। মঙ্গলবারও কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।
মঙ্গলবার থেকে, পরবর্তী বিজ্ঞপ্তি না-দেওয়া পর্যন্ত রাজ্যের উপকূলবর্তী এলাকায় মৎস্যজীবীদের জন্য ‘লাল’ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তাঁদের সমুদ্রে না-যাওয়ারই পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। জোরালো হাওয়ার জন্য উপকূলবর্তী এলাকা ও সমুদ্রের ভিতর উত্তাল হওয়ার জন্য এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বুধবার থেকে পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০-৬০ কিমি পর্যন্ত হতে পারে।
ঘূর্ণিঝড় তৈরি হলে এটির নাম হবে ‘অর্ণব’। এই নামটি দিয়েছে বাংলাদেশ। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার পূর্ব-মধ্য এবং লাগোয়া দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে যে নিম্নচাপটি তৈরি হয়েছে সেটি আজ শনিবার শক্তি বাড়িয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে। এটি পশ্চিম এবং উত্তর-পশ্চিম অভিমুখে এগোনোর পথে শক্তি বৃদ্ধি করবে। আগামীকাল রবিবার এটি অতিগভীর নিম্নচাপ ও সোমবার ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে। তারপরও দিনদুয়েক ধরে এটি শক্তি বৃদ্ধি করতে করতে উত্তর অন্ধ্র-দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের দিকে অগ্রসর হবে। যেহেতু ঘূর্ণিঝড় হওয়ার পর এটি দিনদুয়েক বঙ্গোপসাগরের উপর থাকবে, তাই তীব্রতাও বাড়বে। এটি কোন মাত্রার তীব্রতা নিয়ে উপকূলের ঠিক কোন জায়গায় কখন আছড়ে পড়বে, আবহাওয়া দপ্তর এদিন তা জানায়নি।
অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের শুরুর দিক পর্যন্ত সময়টি উত্তর ভারত মহাসাগর এলাকায় (বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগর যার মধ্যে পড়ে) ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির প্রবণতা থাকে। গতবছর এইসময়ে এই স্থানে চারটি ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়। তার মধ্যে ‘মন্থা’ আছড়ে পড়েছিল পূর্ব উপকূলের অন্ধ্রপ্রদেশে। বর্ষা আসার আগে এপ্রিল-মে’ও ঘূর্ণিঝড়প্রবণ মাস। এবছর ওইসময়ে বঙ্গোপসাগর বা আরব সাগরে কোনো ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়নি। এটি বছরের প্রথম ঘূর্ণিঝড় হতে চলেছে।



