Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মিনিটে ৭৬১টি মোবাইল টার্গেট সাইবার অপরাধীদের

প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির হাত ধরে আম জনতার জীবনে ঢুকে পড়েছে নিত্যনতুন হরেক সমস্যা। সাইবার অপরাধ তার মধ্যে অন্যতম।

মিনিটে ৭৬১টি মোবাইল টার্গেট সাইবার অপরাধীদের
  • ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

স্বার্ণিক দাস, কলকাতা: প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির হাত ধরে আম জনতার জীবনে ঢুকে পড়েছে নিত্যনতুন হরেক সমস্যা। সাইবার অপরাধ তার মধ্যে অন্যতম। জগৎজোড়া ফাঁদ পেতে রেখেছে সাইবার অপরাধীরা! কখনো তাদের হাতিয়ার ভয়, কখনো লোভ। ‘টোপ’ গিললেই নিমেষে ফাঁকা হয়ে যাবে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট। লাগাতার চলছে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা।

Advertisement

টেলিকমিউনিকেশন মন্ত্রকের ২০২৫ সালের রিপোর্ট বলছে, ভারতে এখন মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০০ কোটি ছাড়িয়ে গিয়েছে। এই বিপুল জনতার যে কেউ যে কোনো সময় সাইবার জালিয়াতির শিকার হতে পারেন। কারণ, অপরাধীরা চেষ্টায় কোনো খামতি রাখছে না। দেশজুড়ে প্রতি মিনিটে তাদের টার্গেট গড়ে ৭৬১টি মোবাইল ফোন। ডেটা সিকিওরিটি কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া (ডিএসসিআই)-এর সাম্প্রতিক রিপোর্টে এই তথ্য সামনে এসেছে। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, প্রতিটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন মাসে অন্তত তিনবার হ্যাক করার চেষ্টা চালাচ্ছে জালিয়াতরা। ফোনের সিকিউরিটি সিস্টেম এখন অনেক উন্নত। তাই ম্যালওয়্যার প্রবেশ করানো রীতিমতো কষ্টসাধ্য। তারপরও চেষ্টায় ত্রুটি নেই প্রতারকদের।

কোন ইন্টারেনেট ব্যবহারকারীর গ্যাজেটে কত ম্যালওয়্যার, র‌্যানসামওয়্যার প্রবেশ করছে বা করানোর চেষ্টা হয়েছে, তা নিয়ে সমীক্ষা ও বিশ্লেষণ চালিয়েছে ডিএসসিআই। তাদের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, যেসব ব্যক্তি অটোমোবাইল সংস্থা, সরকারি মন্ত্রক বা দপ্তরে কর্মরত, তাঁদের মোবাইল ফোনই সবচেয়ে বেশি টার্গেট হচ্ছে। সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অটোমোবাইল সেক্টরের বিভিন্ন সাইটে সব বয়সের সম্ভাব্য ক্রেতাদের আনাগোনা থাকে। এরকম সাইটের মাধ্যমে পছন্দসই বাইক বা গাড়ি কেনার আগে অনলাইনে নিজের মোবাইল নম্বর ও লোকেশন দিয়ে ‘লগ-ইন’ করতে হয়। ডিএসসিআইয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, অটোমোবাইল সেক্টরের সাইট থেকে তাদের গ্রাহকের তথ্য গায়েব হয়ে যাচ্ছে। সেই মোবাইল নম্বরগুলি হাতে পেয়ে তাতে ম্যালওয়্যার ঢোকানোর চেষ্টা করছে প্রতারকরা। এসব ক্ষেত্রে প্রতারকরা সংশ্লিষ্ট বাইক বা গাড়ি কোম্পানির এজেন্ট পরিচয় দিয়েই ফাঁদ পাতছে।

সরকারি মন্ত্রক ও দপ্তরের ক্ষেত্রে প্রতারণার ধরন কিছু আলাদা। অনেক সময় দপ্তরের আধিকারিকদের মোবাইল সরকারি দপ্তরের তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে যুক্ত থাকে। মোবাইলের মাধ্যমে ওই তথ্যভাণ্ডারে ঢুকতে প্রয়োজন হয় ক্রেডেনশিয়াল বা লগ-ইন আইডি’র। এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের ফোনে হ্যাকিং সফটওয়্যার বা র‌্যানসামওয়্যার ঢুকিয়ে গোপন তথ্য বা নথি হাতিয়ে নেওয়াই প্রতারকদের মূল উদ্দেশ্য থাকে। সবচেয়ে বেশি টার্গেট করা হয় অ্যান্ড্রয়েড ফোনকে। কারণ, ভারতে এই ধরনের ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যাই সর্বাধিক। তাছাড়া, আইওএস ফোনের তুলনায় অ্যান্ড্রয়েড ফোনের নিরাপত্তা বেষ্টনী কিছুটা হলেও কমজোরি। অটোমোবাইল ও সরকারি দপ্তরের সাইটের পরই সবচেয়ে বেশি সাইবার থ্রেটের তালিকায় রয়েছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল ব্যবহারকারীরা।

রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের মধ্যে সুরাত ও বেঙ্গালুরুতে সবচেয়ে বেশি মোবাইল ফোন সাইবার দুষ্কৃতীদের টার্গেট হচ্ছে। ট্রোজান ও ইনফেক্টরস জাতীয় ম্যালওয়্যার প্রবেশ করানোর চেষ্টা হচ্ছে, যা মোবাইলের সিস্টেম সফটওয়্যারের পাশাপাশি সব অ্যাপের ডেটাও হাতিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা রাখে। ৫০ শতাংশ সাইবার অ্যাটাকের ক্ষেত্রে মোবাইলে ঢুকে বিভিন্ন নেটওয়ার্ক ড্রাইভ থেকে তথ্য হাতানোর চেষ্টা করেছে জালিয়াতরা। ২৫ শতাংশ সাইবার হানায় টার্গেট হচ্ছে গ্রাহকের ই-মেল ও ব্রাউজারে থাকা ওয়েবসাইটের তথ্য।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ