সংবাদদাতা, ইটাহার: সাইবার প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন ইটাহার ব্লক কংগ্রেসের যুব সভাপতি একরানূল হোসেন। এই ঘটনায় ঝাড়খণ্ড, বিহার সহ মালদহের আরও ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল রায়গঞ্জ সাইবার ক্রাইম থানা। ঘটনা সামনে আসতেই চরম অস্বস্তিতে পড়েছে ইটাহার ব্লক কংগ্রেস। একরামূল এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বিশ্বাস করতে পারছেন না ইটাহারের ব্লক কংগ্রেসের অনেক নেতাই। তাঁদের বিশ্বাস একরামূল নির্দোষ। কিন্তু এই ঘটনা সামনে আসাতে কংগ্রেসকে কটাক্ষ করছে শাসক ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের গোড়া পর্যন্ত যেতে পুলিশ ধৃতদের হেপাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে। তদন্ত চলছে।
ধৃত কংগ্রেস নেতার বাড়ি ইটাহারের কাপাশিয়া অঞ্চলে। দীর্ঘদিন থেকে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত একরামূল। বর্তমানে তিনি ইটাহার ব্লকের যুব কংগ্রেস সভাপতি। ধৃত কংগ্রেস নেতা সহ বাকিদের জামতারা গ্যাঙের সঙ্গে যোগ থাকতে পারে বলে অনুমান তদন্তকারীদের। বিভিন্ন প্রতারণা চক্রের তদন্ত করতে গিয়ে এই ধৃতরা পুলিশের নজরে আছে। ফলে দীর্ঘদিন থেকে এঁদের মোবাইলের টাওয়ার লোকেশনের উপরে নজর রাখছিল পুলিশ।
গত বৃহস্পতিবার হঠাৎ পুলিশকে সক্রিয় হতে দেখা যায়। সন্ধ্যায় গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রায়গঞ্জের ইটাল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হানা দিয়ে কংগ্রেস নেতা সহ ৮ জনের গ্যাঙকে জালে তোলে সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ। ধৃতদের কাছ থেকে একাধিক এটিএম কার্ড, ব্যাঙ্কের পাস বাই, মোবাইল সহ বেশকিছু সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, পুলিশের নজর এড়াতে বিশেষ করে সরকারি স্কুল, ফাঁকা মাঠে ভিপিএন নামক অত্যাধুনিক গ্যাজেট ব্যবহার করে ধৃতরা এই প্রতারণা চালাত। এই চক্রের সঙ্গে আন্ত:রাজ্য যোগ থাকতে পারে বলে পুলিশের অনুমান। পাশাপাশি এই চক্র শুধু উত্তর দিনাজপুর নয় সমগ্র রাজ্য জুড়েই অপারেশন চালাত।
ইটাহারে লড়াকু কংগ্রেস নেতা হিসাবে পরিচিত একরামূল। বাড়িতে স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। এই খবর জানতে পেরে হতবাক পরিজনেরা। বর্তমানে বাড়িতে চিন্তায় দিন কাটছে তাঁদের। ধৃতের স্ত্রীর দাবি, তাঁর স্বামী নির্দোষ। জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হক উদ্বেগের সুরে বলেন, দীর্ঘদিন থেকে সে আমাদের সঙ্গে দল করছে। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস একরামুল এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। সে চক্রান্তের শিকার হয়ে থাকতে পারে। তবে পুলিশি তদন্তে দোষী প্রমাণ হলে আইন আইনের পথে চলবে।
একরামুল গ্রেপ্তার হতেই কংগ্রেসকে একযোগে কটাক্ষ করেছে বিজেপি ও তৃণমূল। তৃণমূল বিধায়ক মোশারফ হোসেন বলেন, যাঁরা তৃণমূল নেতাদের দুর্নীতিগ্রস্ত বলে গলা ফাটাতেন আজকে তাঁদের নেতা সাইবার প্রতারণা কান্ডে গ্রেপ্তার। পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত করুক।
বিজেপির জেলা সম্পাদিকা সবিতা বর্মন বলেন, কংগ্রেস দলের নেতারা স্বচ্ছ ভাবমূর্তির মুখোশ নিয়ে চলেন। আজ তাঁদের মুখোশ খুলে গিয়েছে। আমাদের সরকার বাংলায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে। এখানে অপরাধীদের কোনো ছাড় নেই।