Bartaman Logo
৩১ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কল সেন্টারের আড়ালে সাইবার প্রতারণা, গ্রেপ্তার মূলচক্রী সহ ৯, রিষড়ায় বসেই দেশজুড়ে জালিয়াতি

রিষড়ায় দু’টি ফ্ল্যাট ও একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে চলছিল দেশব্যাপী সাইবার প্রতারণা চক্র। ভুয়ো কল সেন্টার খুলে পুলিশের চোখে ধুলো দেওয়ার কৌশলও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষপর্যন্ত পুলিশের অভিযানে পর্দা ফাঁস হল সাইবার প্রতারণা চক্রের।

কল সেন্টারের আড়ালে সাইবার প্রতারণা, গ্রেপ্তার মূলচক্রী সহ ৯, রিষড়ায় বসেই দেশজুড়ে জালিয়াতি
  • ৩১ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: রিষড়ায় দু’টি ফ্ল্যাট ও একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে চলছিল দেশব্যাপী সাইবার প্রতারণা চক্র। ভুয়ো কল সেন্টার খুলে পুলিশের চোখে ধুলো দেওয়ার কৌশলও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষপর্যন্ত পুলিশের অভিযানে পর্দা ফাঁস হল সাইবার প্রতারণা চক্রের। এই চক্রের মূল পান্ডা সহ ন’জনকে চন্দননগর কমিশনারেটের পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। বুধবার রাতে রিষড়ার এন এস অ্যাভিনিউ সহ তিনটি এলাকায় হানা দেয় রিষড়া থানার পুলিশ। নেতৃত্বে ছিলেন পুলিশকর্তা পরমেশ্বর প্রামাণিক। তারপরেই ধরা পড়ে ন’জন। ভুয়ো কল সেন্টারটি সিল করে দেওয়া হয়েছে। এদিনই ধৃতদের আদালতে পেশ করে হেপাজতে নিয়েছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, মোহিত পান্ডে নামে বিহারের এক বাসিন্দা এই চক্রের মাথা। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

Advertisement

তবে সাইবার প্রতারকরা যেমন গোটা দেশে জাল ছড়িয়েছিল, তেমনই তাদের দলে গোটা দেশ থেকেই প্রতারকরা এসে জুটেছিল। ধৃতদের মধ্যে বিহারের পাশাপাশি, ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্ণাটক ও এরাজ্যের লোকজন রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ২১টি মোবাইল, বিপুল সংখ্যক ডেবিট কার্ড, ব্যাংকের চেকবই বাজেয়াপ্ত হয়েছে। চন্দননগর কমিশনারেটের ডিসিপি অর্ণব বিশ্বাস বলেন, গোটা দেশে ৩৩টি জালিয়াতির হদিশ আমরা এখনও পেয়েছি। প্রায় ১৭ লক্ষ টাকা জালিয়াতি হয়েছে। তদন্ত চলছে। কুখ্যাত জামতাড়া গ্যাংয়ের আদলে এই দলটি কাজ করত। রিষড়ায় ভুয়ো কল সেন্টার চালানোর আড়ালেই চলত সাইবার প্রতারণা চক্র।
পুলিশ জানিয়েছে, ঋণ দেওয়া, লটারির টাকা পেয়েছেন বলে ফোন করে ফাঁদ পাতা হত। তারপর খুব সামান্য টাকা কমিশন চাওয়া হত। এসব বলে বিশ্বাস অর্জন করত প্রতারকরা। এই ফাঁদে পা দিলে একটি কিউআর কোড পাঠানো হত। তাতে কমিশনের সামান্য টাকা দিলেই ‘চিচিং ফাঁক’। ওই ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট ফাঁকা হয়ে যেত। তারপর জালিয়াতির টাকা নানা অ্যাকউন্টে পাঠানো হত। পুলিশ জানিয়েছে, ওই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম পোর্টালের সাহায্যে ভুক্তভোগীদের হদিশ পাওয়ার চেষ্টা চলছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ