Bartaman Logo
১৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সাইবার ক্রাইম উইংয়ের ডেটা সেন্টারেই র‍্যানসামওয়্যার, নথিপত্র লোপাটের শঙ্কা, কাঠগড়ায় বেসরকারি সংস্থা, অভিযোগ দায়ের

র‌্যানসামওয়্যার! খোদ রাজ্য সাইবার ক্রাইম উইংয়ের ডেটা সেন্টারেই ‘সাইবার হানা’র অভিযোগ! সমস্ত স্টোরেজ এবং ডেটা ফাইল এখন এনক্রিপ্টেড হয়ে গিয়েছে!

সাইবার ক্রাইম উইংয়ের ডেটা সেন্টারেই র‍্যানসামওয়্যার, নথিপত্র লোপাটের শঙ্কা, কাঠগড়ায় বেসরকারি সংস্থা, অভিযোগ দায়ের
  • ২ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর ও কলকাতা: র‌্যানসামওয়্যার! খোদ রাজ্য সাইবার ক্রাইম উইংয়ের ডেটা সেন্টারেই ‘সাইবার হানা’র অভিযোগ! সমস্ত স্টোরেজ এবং ডেটা ফাইল এখন এনক্রিপ্টেড হয়ে গিয়েছে! কিছুতেই খোলা যাচ্ছে না। দপ্তরের পরিষেবা বিপর্যস্ত। ফলে, এই সেন্টারে সঞ্চিত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র লোপাটের আশঙ্কা করছেন অফিসাররা। তবে, স্টোরেজের দায়িত্বে যে সংস্থা ছিল, সাইবার হানার অভিযোগ উঠেছে তাদেরই বিরুদ্ধে। কোনও অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে এই কাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ব্যাপারে সিসিডব্লু কর্তৃপক্ষ বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের হয়েছে। তার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

Advertisement

নিউটাউনে রাজ্য সাইবার ক্রাইম উইংয়ের অফিস রয়েছে। বড় বড় ঘটনা সমাধান করেছে এই দপ্তর। শুধু তাই নয়, সাইবার ক্রাইম সংক্রান্ত রাজ্যের ২৩টি জেলার গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রও এখানে আসে। বিভিন্ন মামলার কল ডিটেইলস রিপোর্ট (সিডিআর), ইন্টারনেট প্রোটোকল ডিটেইলস রিপোর্ট (আইপিডিআর) সহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র জমা রয়েছে। যেগুলি অন্যান্য মামলা সমাধনের ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এই সিসিডব্লু কর্তৃপক্ষের মেইন সার্ভার তথা স্টোরেজ ইউনিটের ইনস্টলেশন, রক্ষণাবেক্ষণ, সফটওয়্যার ডেলিভারি-সহ দেখভালের দায়িত্বে ছিল একটি বেসরকারি সংস্থা। সল্টলেকে তাদের অফিস। জানা গিয়েছে, গত ২৮ জুলাই সিসিডব্লু’র সমস্ত পরিষেবা আচমকা ব্যাহত হয়ে যায়। তারপর দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার কর্মীরা অফিসে গিয়ে মৌখিকভাবে জানায়, র‌্যানসামওয়্যার অ্যাটাক হয়েছে। সেই কারণেই সমস্ত ডেটা এবং স্টোরেজ এনক্রিপ্টেড হয়ে গিয়েছে। এত গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে কীভাবে র‌্যানসমওয়্যার অ্যাটাক হল? তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যেহেতু, দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার হাতে স্টোরেজ ইউনিটের অ্যাকসেস ছিল, তাই তারাই ‘সাবোতাজ’ করেছে বলে অভিযোগপত্রে লেখা হয়েছে। প্রসঙ্গত, র‌্যানসামওয়্যার অ্যাটাক্টড বিভিন্ন সংস্থা এবং ব্যক্তিগত স্টোরেজেও হয়ে থাকে। হ্যাকাররা এক ধরনের ভাইরাস ফাইল পাঠিয়ে সমস্ত ফাইল এনক্রিপটেড করে দেয়। তারপর মুক্তিপণ চায়। সেই টাকা পেমেন্ট করলে ফাইল খোলার পারমিশন দেয়। ডিটিট্যাল মুদ্রা তথা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে ওই মুক্তিপণ পাঠাতে হয়।
পুলিস জানিয়েছে, ঘটনাটি মারাত্মক। রাজ্যের অসংখ্য ডেটা খোলা যাচ্ছে না। তা বেহাত হয়ে বাইরে চলে যেতেও পারে। তাই লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানা দপ্তর করছে। সেই সঙ্গে সিসিডব্লু কর্তৃপক্ষও একটি বিভাগীয় অনুসন্ধান করছে। তবে, এই ঘটনায় এখনও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ