নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: তৃণমূল কংগ্রেসের দাপুটে নেতার বাড়িতে হানা দিল কাস্টমস কর্তাদের দল। প্রায় সাড়ে তিনঘণ্টার চিরুণি তল্লাশির পর ওই নেতার লেখা দু’টি কবিতার বই নিয়ে ফিরলেন কাস্টমস কর্তারা। ঘটনা হুগলির চণ্ডীতলার। মঙ্গলবার সাতসকালে হুগলি জেলা পরিষদের মেন্টর তথা জেলার অন্যতম দাপুটে নেতা সুবীর মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে অভিযান হয়। তাঁর বাড়ির পাশাপাশি তাঁর মেয়ের ডানকুনির বাড়িতেও অভিযান হয়। কিন্তু শেষপর্যন্ত কোথাও থেকে বেআইনি কিছু বাজেয়াপ্ত করা কাস্টমস কর্তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। তাৎপর্যপূর্ণভাবে ডেপুটি কমিশনার পদমর্যাদার এক অফিসার সুবীরবাবুর লেখা দু’টি বই নিয়ে ফিরেছেন। জানা গিয়েছে, ‘কবি’র স্বাক্ষরও নিয়েছেন ওই কাস্টমস কর্তা।
এদিকে, সকাল সকাল দাপুটে তৃণমূল কংগ্রেস নেতার বাড়িতে কাস্টমস হানা নিয়ে ঘরে-বাইরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অন্তর্ঘাত না কি বিরোধীদের ষড়যন্ত্র, তা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বরাবরই সুবীরবাবুর রাজনৈতিক ভিত্তি ভিন্নস্তরের। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে ফুরফুরা শরিফে এসে তাঁকে ডেকে কথা বলে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপরেই তাঁকে হুগলি জেলা পরিষদের মেন্টর করা হয়। চণ্ডীতলার দু’টি ব্লক সহ ডানকুনি এবং সংলগ্ন এলাকার তৃণমূলের বনেদি ‘হিন্দুমুখ’ও সুবীরবাবু। ফলে, ধর্মভিত্তিক রাজনীতির পরিমণ্ডলে বিরোধীদের কাছে সুবীরবাবু একটি ফ্যাক্টর। আবার, চণ্ডীতলার দলীয় বিধায়কের সঙ্গে তাঁর মিঠেকড়া সম্পর্কও চর্চিত। এদিন সুবীরবাবু বলেন, কাস্টমস কর্তারা নিজেদের কাজ করেছেন। নির্বাচন এগিয়ে আসছে বলে বিজেপি উগ্র হয়ে উঠেছে। তাদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা অনেকটাই স্পষ্ট। আমি সততার সঙ্গে রাজনীতি করি। সেটা কেন্দ্রীয় সংস্থা বুঝেছে। কিছুটা অনুতপ্ত হয়েই বোধহয় তাঁরা আমার একটি কবিতার বই সংগ্রহে রাখতে চেয়েছিলেন। ‘কুশীলব’ ও ‘কবিতাওয়ালা’ নামে দু’টি বই আমি দিয়েছি। কাস্টমস হানা নিয়ে তিনি আইনের দারস্থ হওয়ার পরিকল্পনা করছেন। এনিয়ে বিজেপির রাজ্য নেতা স্বপন পাল বলেন, কাস্টমস কার বাড়িতে হানা দেবে, তা বিজেপি ঠিক করে দেয় না। অতীতে তৃণমূল নেতাদের বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর হানার পরিণতি কী হয়েছে, সবাই দেখেছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল সাতটা নাগাদ অভিযান শুরু হয়। প্রথমেই কাস্টমস কর্তাদের বাস্তবিক পরিচয় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন সুবীরবাবু। স্থানীয় থানার পুলিস কর্তারা এসে কাস্টমস কর্তাদের পরিচয় নিশ্চিত করলে, তাঁরা অভিযান শুরু করেন। চলে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত। নিজস্ব চিত্র