নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: নিজের পিএফ অ্যাকাউন্ট থেকে যথেচ্ছভাবে টাকা তুলে নেওয়ায় শেষ বয়সে চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে গ্রাহকদের বড় একটা অংশকে। শ্রমমন্ত্রকের আওতাধীন কর্মচারী ভবিষ্যনিধি সংগঠনের (ইপিএফও) তথ্যই বলছে, অবসর গ্রহণের সময় পিএফ তহবিলের অর্থ ২০ হাজার টাকারও কমে এসে ঠেকেছে, ইপিএফে এমন গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ। অন্যদিকে, এহেন জমা অর্থের পরিমাণ ৫০ হাজার টাকারও কম, এমন গ্রাহক রয়েছেন প্রায় ৭৫ শতাংশ।
এই মুহূর্তে সারা দেশে কর্মী পিএফের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় সাড়ে সাত কোটি। বেসরকারি সংস্থা-প্রতিষ্ঠানের চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের সময় ইপিএফ সংক্রান্ত যে ‘ফাইনাল সেটলমেন্ট’ হয়, তাতেই এই ছবি ধরা পড়েছে বলে দাবি কর্মচারী ভবিষ্যনিধি সংগঠনের। সামগ্রিক বিষয়টিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে তথ্যাভিজ্ঞ মহল। গত সোমবার দিল্লিতে ইপিএফওর অছি পরিষদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রয়োজনের ভিত্তিতে নিজের ইপিএফ তহবিলে সঞ্চিত অর্থের ৭৫ শতাংশ কার্যত বিনা নথিপত্রেই তুলে নিতে পারবেন গ্রাহক। কিন্তু ন্যূনতম ব্যালান্স হিসেবে ২৫ শতাংশ অর্থ রেখে দিতে হবে। ফলে সঞ্চিত অর্থের উপর যেমন সুদ পাবেন ইপিএফ গ্রাহকরা, তেমনই ইপিএফ তহবিলের অর্থ একধাক্কায় অনেকটাই কমে যাবে না। যদিও মোদি সরকারের এহেন সিদ্ধান্তে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিতর্ক এড়ানোর জন্যই এই সংক্রান্ত কিছু পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে ইপিএফওর পক্ষ থেকে।
যদিও শ্রমমন্ত্রকের ব্যাখ্যা, ন্যূনতম ব্যালান্স হিসেবে ২৫ শতাংশ অর্থ রাখতে হবে ঠিকই। কিন্তু ৭৫ শতাংশ অর্থ তুলে নেওয়ার এক বছর পর শর্তসাপেক্ষে বাকি ২৫ শতাংশ টাকাও তুলে নিতে পারবেন সংশ্লিষ্ট গ্রাহক। ‘ফাইনাল সেটলমেন্টে’র ক্ষেত্রে একবারে পুরো টাকা তুলে নেওয়া যাবে। এক্ষেত্রে শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, ৫৫ বছরের কর্মজীবন শেষে অবসর গ্রহণ, স্বেচ্ছাবসর নেওয়া, স্থায়ী শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে কাজ করতে অক্ষম হয়ে পড়া, চাকরি থেকে ছাঁটাই বা পাকাপাকিভাবে দেশের বাইরে চলে যাওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট ইপিএফ গ্রাহকরা একবারেই পুরো টাকা তুলে নিতে পারবেন।
সর্বভারতীয় শ্রমিক সংগঠন এআইটিইউসি বৃহস্পতিবারই অভিযোগ করেছে, ইপিএফ তহবিলে ২৫ শতাংশ ন্যূনতম ব্যালান্স রাখা সংক্রান্ত মোদি সরকারের এই সিদ্ধান্ত শ্রমিক-স্বার্থবিরোধী। তাই অবিলম্বে এটি প্রত্যাহার করতে হবে। যদিও শ্রমমন্ত্রকের ব্যাখ্যা, গ্রাহকদের কোনও টাকাই আটকে রাখা হচ্ছে না।