সংবাদদাতা, করিমপুর: ইন্টারনেটের সমস্যায় ভুগছেন করিমপুর-১ ব্লকের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার রেশন ডিলাররা। অনলাইনে আঙুলের ছাপ দিতে না পারায় রেশনের মাল তুলতে সমস্যায় পড়ছেন এলাকার গ্রাহকরাও। ইন্টারনেট সমস্যার কারণে প্রত্যন্ত এই এলাকার কয়েকটি গ্রামের প্রায় হাজার পাঁচেক মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। রেশন ডিলারদের অনেকে জানান, মধুগাড়ী, শিকারপুর কিংবা হোগলবেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বিভিন্ন গ্রামে কয়েক হাজার মানুষ বসবাস করেন।
বিগত কয়েক বছর ধরে রেশন ব্যবস্থায় ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এখন রেশনের চাল, গম বা আটা পেতে গেলে গ্রাহকদের পরিবারের একজন সদস্যের আঙুলের ছাপ দেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু এই সীমান্ত এলাকায় প্রায়ই ইন্টারনেটের সমস্যা থাকায় আঙুলের ছাপ দিতে কিংবা রেশন তুলতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। হোগলবেড়িয়ার রেশন ডিলার ব্রজেন মণ্ডল বলেন, এখন রেশন তুলতে অনলাইন ব্যবস্থা চালু হয়েছে। তারপর থেকে এই এলাকার বিভিন্ন গ্রামের উপভোক্তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রতি মাসে তাঁদের আঙুলের ছাপ নিতে হয়। সীমান্ত এলাকা হওয়ায় বেশিরভাগ সময় সব জায়গায় ঠিকঠাকভাবে ইন্টারনেট সিগন্যাল পাওয়া যায় না। ফলে ৫০জনের জায়গায় অর্ধেক গ্রাহকের ছাপ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। কখনও আবার গ্রাহকের বাড়ির ভিতরে ইন্টারনেট সংযোগ পাওয়া যায় না। তখন কারও বাড়ির ছাদে কিংবা বাইরে রাস্তায় এসে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। ইন্টারনেট সিগন্যাল পেলে সেদিন কাজ হয়, নাহলে আবার অন্যদিন যেতে হয়। এভাবেই মানুষকে পরিষেবা দিতে হয়। এখন তো আবার মাঝেমধ্যে ইন্টারনেটই থাকছে না। ফলে ডিলার থেকে উপভোক্তা সকলেই সমস্যায় পড়েছেন। একই কথা জানান শিকারপুরের রেশন ডিলার অনিমেষ মণ্ডল। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষকে রেশন বিলি করতে গিয়ে আমাদের হয়রান হতে হচ্ছে। উপভোক্তারাও ঠিকঠাক রেশন পরিষেবা পাচ্ছেন না। বেশ কিছুদিন থেকে বেশিরভাগ সময়ই ইন্টারনেট সংযোগ ঠিকঠাক কাজ করছে না। এখন এই সমস্যা কবে ঠিক হবে, তা নিয়েও সকলে চরম দুশ্চিন্তায় আছি। এব্যাপারে ডিলারদের পক্ষ থেকে ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের জানানো হয়েছে। এলাকার গ্রাহকদের অভিযোগ, ইন্টারনেটের সমস্যা থাকায় আমাদের রেশন তুলতে চরম ঝামেলার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। আঙুলের ছাপ দেওয়ার নিয়ম চালু হওয়ার পর থেকে রেশন ডিলার কখনও গ্রামে গ্রামে যান। আবার কখনও গ্রাহকদের রেশন দোকানে যেতে হয়। নেট পরিষেবা খারাপ থাকলে বহুবার চেষ্টা করার পরে ছাপ দেওয়া সম্ভব হয় এবং রেশনের মাল তুলতে পারি। করিমপুর-১ বিডিও দেবদত্ত চক্রবর্তী জানান, এই সমস্যা সমাধানের জন্য বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।