নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: বড়ঞার বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা এখনও জেলে। তাঁর কিছুটা প্রভাব এলাকায় পড়েছে। গত লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে তৃণমূলকে ছাপিয়ে গিয়েছে বিজেপি। ৫৫৮ ভোট বেশি পেয়ে বিজেপি এখান থেকে লিড নেয়। তাই আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে সমস্ত অঙ্ক কষেই এখানে ঝাঁপাচ্ছে তৃণমূল শিবির। এখানে প্রার্থীপদে নতুন মুখের খোঁজ চলছে। বড়ঞার দু’টি ব্লকে তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল আছে। তবে নির্বাচনী কোর কমিটি ঘোষণায় দু’টি ব্লকের তৃণমূলের সভাপতিকে প্রাধান্য দিয়েছে দল। তাদের কাঁধে ভোট বৈতরণী পার করার দায়িত্ব পড়বে। কারণ সংরক্ষিত এই আসনে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে নতুন কাউকে এনে এক ঢিলে দুই পাখি মারতে চায় শাসকশিবির। কারণ শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তৃণমূল বিধায়কের কীর্তিতে শাসক দলের মুখ পুড়েছে। তাই এখানে ভোট ক্রমশ কমছে। অপরদিকে বিজেপি নিজেদের ভোটব্যাঙ্ক ক্রমশ মজবুত করেছে। গত লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে বিজেপি প্রথম স্থানে আছে। তারপর থেকে বড়ঞা নিয়ে শাসক শিবিরের মাথাব্যথা ক্রমশ বাড়ে। তবে প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়ক প্রতিমা রজককে দলে নিয়ে তৃণমূল একটি মাস্টার স্ট্রোক দেয়। দলের একাংশের আলোচনায় তাঁকেই টিকিট দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে। পাশাপাশি ওই বিধানসভার বাইরে থেকে কোনো নতুন মুখকে প্রার্থী করা হতে পারে বলেও জল্পনা বাড়ছে। কারণ এই আসনে পার্টির পাশাপাশি প্রার্থীর ব্যক্তিগত ক্যারিশমা কিছুটা হলেও কাজ করবে। তবে বাম-কংগ্রেস নিজেদের ভোট এখানে সেভাবে ধরে রাখতে পারছে না। লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে, বিজেপি এই আসনে ৬৩ হাজার ৪৭৬ ভোট পায়। তৃণমূল প্রার্থী ৬২ হাজার ৯১৮ ভোট পেয়েছে। অপরদিকে কংগ্রেস মাত্র ৩৯ হাজার ৬৪ ভোট পায়। ফলে এই আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বিজেপির সঙ্গে শাসকদলের। বিজেপির জয়ের সম্ভাবনা দেখা দিতেই, সাংগঠনিক নেতারা এই আসনে টিকিট পেতে হুড়োহুড়ি শুরু করে দিয়েছেন। তৃণমূলের দু’-একজন নেতা শাসক শিবির ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেছেন। তবে ভোটে সেসবের কোনো প্রভাব পড়বে না বলেই দাবি শাসক দলের নেতাদের।



