নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইডেনের বাইশ গজ নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। মঙ্গলবার লখনউ সুপার জায়ান্টসের কাছে ৪ রানে পরাজয়ের পর পিচ নিয়ে ফের প্রশ্ন তোলেন অজিঙ্কা রাহানে। বল ঘুরছে না— মন্তব্য ছিল নাইট রাইডার্স ক্যাপ্টেনের। এর বেশি কিছু বললে নাকি ইডেনের কিউরেটর বেশি প্রচার পেয়ে যাবেন! ইডেনের কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায় অবশ্য এই অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন। তিনি বলেন, ‘ম্যাচের তো রেকর্ডিং আছে। বল একদমই ঘোরেনি কিনা, সেটা দেখলেই স্পষ্ট হবে। বরুণ চক্রবর্তী, দিগবেশ রাঠিরা তো ভালো বলও করেছে। পিচ যে টি-২০ ক্রিকেটের জন্য আদর্শ ছিল, সেটা দুটো দলের ২৩০ প্লাস ইনিংসেই পরিষ্কার। শেষ ওভার পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা — ক্রিকেটপ্রেমীরা এমন ম্যাচই দেখতে চান।’
লখনউ ম্যাচের আগে কেকেআরের সিইও ভেঙ্কি মাইসোর, কোচ চন্দ্রকান্ত পণ্ডিত লম্বা সময় ধরে কথা বলছিলেন কিউরেটরের সঙ্গে। তাঁরা কি ঘূর্ণি পিচ তৈরির অনুরোধ জানিয়েছিলেন? সুজনের উত্তর, ‘সরকারিভাবে কেউ কিছু বলেনি। তবে রসিকতার মেজাজে পিচে বল ঘুরলে ভালো হয় বলে জানানো হয়েছিল। কিন্তু পিচ তৈরির সময় বোর্ডের গাইডলাইন মাথায় রাখতে হয় আমাকে। আর সিএবি প্রেসিডেন্ট স্নেহাশিস গাঙ্গুলিও তো পিচ দেখে খুশি। ম্যাচের পর বলল, গুড উইকেট।’
একই কথা অবশ্য মাঠে পুরস্কার বিতরণের মঞ্চে রাহানেও বলেছিলেন। ব্যাটিংয়ের জন্য ‘গ্রেট উইকেট’ বলেই পিচকে চিহ্নিত করেন বেগুনি-সোনালি জার্সির নেতা। মিডিয়ার সামনে যদিও বদলে যায় সুর। তখন বলেন, ‘বল ঘুরছে না। তবে আমি কিছু বলব না। তাহলেই শোরগোল পড়ে যাবে।’ প্রশ্ন হল, এই দ্বিচারিতা কেন? নাকি কিউরেটর খুব ‘সফট টার্গেট’? ম্যাচ হারলেই পিচ আর কিউরেটরের দিকে আঙুল তোলা যায় সহজে? রাহানের জানা উচিত, একটা আঙুল কারও দিকে তুললে অন্যগুলো কিন্তু নিজের দিকেই থাকে!