Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

আনন্দে ঘুম নেই দেড় লক্ষ কুরাসাওবাসীর

বিশ্বকাপে খেলার আনন্দে দেড় লক্ষ কুরাসাওবাসীর ঘুম উড়েছে। ফুটবলার তাহিথ চোংয়ের অভিজ্ঞতা ও দেশের গর্ব নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন।

আনন্দে ঘুম নেই দেড় লক্ষ কুরাসাওবাসীর
  • ১০ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিউ ইয়র্ক: দক্ষিণ ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের ছোটো একটি দ্বীপরাষ্ট্র কুরাসাও। আয়তন মাত্র ৪৪৪ বর্গকিলোমিটার। আর জনসংখ্যা? মাত্র দেড় লক্ষ! কলকাতার কোনো একটি পুরসভাতেও এর চেয়ে অনেক বেশি লোক বাস করেন। এবারের বিশ্বকাপে ক্ষুদ্রতম দেশ হিসেবে মূলপর্বে খেলতে দেখা যাবে সেই ছোট্ট কুরাসাওকে। সেই আনন্দে ঘুম উড়েছে ফুটবলারদের। ঘোর যেন কাটতে চাইছে না। বিশ্বাস হচ্ছে না যে, আর ক’দিন বাদেই বিশ্বমঞ্চে দেশের জাতীয় সংগীত গাইবেন তাঁরা। এমনই সব অভিজ্ঞতার কথা ফিফার ওয়েবসাইটে তুলে ধরলেন দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ফুটবলার তাহিথ চোং।

Advertisement

ফুটবল কেরিয়ারের সিংহভাগ নেদারল্যান্ডসে কাটিয়েছেন এই মিডিও। ডাচদের হয়ে বয়সভিত্তিক পর্যায়ে প্রতিনিধিত্বও করেন তিনি। তবে পরবর্তী সময়ে বাবার স্বপ্নপূরণে নেদারল্যান্ডস ছেড়ে জন্মভিটে কুরাসাওয়ে ফিরে আসেন। ২০২৫ সালে দেশের হয়ে অভিষেক ঘটে ২৬ বছর বয়সি চোংয়ের। জাতীয় দলের হয়ে অভিষেকেই নজর কাড়েন তিনি। বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে বারমুডার বিরুদ্ধে জালও কাঁপান। কোয়ালিফায়িং রাউন্ডে অপরাজিত থেকে মূলপর্বের টিকিট নিশ্চিত হতেই আনন্দে আত্মহারা দেশবাসী। এই প্রসঙ্গে চোংয়ের মন্তব্য, ‘যোগ্যতা অর্জনের পর প্রায় পাঁচ মাস কেটে গিয়েছে। তবে বিশ্বকাপে খেলার আনন্দে ঘুম উড়েছে কুরাসাওবাসীর। একটাই স্বপ্ন, বিশ্বমঞ্চে উদ্ভাসিত হোক দেশের নাম। সত্যি বলতে, এখনও অনেকেই কুরাসাওয়ের নাম জানেন না। তবে আমরা যে যোগ্য হিসেবেই এখানে পৌঁছেছি, তা প্রমাণ করতে দলের সবাই মরিয়া।’
২০০৬ জার্মানি বিশ্বকাপের সময় প্রথম ফুটবল দেখা শুরু চোংয়ের। কাকতালীয়ভাবে আসন্ন বিশ্বকাপে সেই জার্মানদের বিরুদ্ধেই অভিযান শুরু করবে কুরাসাও। তাঁর কথায়, এই ম্যাচ দিয়ে আমার ফুটবল কেরিয়ারের একটি বৃত্ত সম্পূর্ণ হবে। একই সঙ্গে ঠাকুমার স্বপ্নপূরণও করতে চান তিনি। বললেন, ‘বাবা কুরাসাওয়ের হয়ে খেলতেন। তবে আমার কখনও ফুটবলের প্রতি বিশেষ ঝোঁক ছিল না। তবে জানি না কেন, ২০০৬ বিশ্বকাপ দেখে খুব কেঁদেছিলাম। ফাইনালে ফ্রান্সের হার মেনে নেওয়া কঠিন ছিল। বিশেষত জিনেদিন জিদানকে ওভাবে হেড-বাট করতে দেখে খুব খারাপ লেগেছিল। সেদিনই বাবাকে বলেছিলাম, ফুটবলার হতে চাই। সেই থেকে লড়াই শুরু। এই পর্বে ঠাকুমা ছিলেন আমার অন্যতম সমর্থক। গত বছর ঘরের মাঠে একটি ম্যাচে আমার খেলা দেখতে গ্যালারিতে হাজিরও ছিলেন তিনি। ৯৬ বছর বয়সে স্টেডিয়ামে বসে পুরো ম্যাচ দেখেন। দুঃখের বিষয় হল, তার দু’মাস বাদেই তিনি মারা যান।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ