Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দু’সপ্তাহের আগে মিলছে না সিটিস্ক্যানের রিপোর্ট, শুরু করা যাচ্ছে না চিকিৎসা, অব্যবস্থা উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে

দু’সপ্তাহের আগে মিলছে না সিটিস্ক্যানের রিপোর্ট, শুরু করা যাচ্ছে না চিকিৎসা, অব্যবস্থা উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে
  • ৬ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিলিগুড়ি: চার-পাঁচ দিন বাদে রিপোর্ট দেওয়ার কথা বলা হলেও তা হাতে পেতে পেতে দেড় থেকে দু’সপ্তাহ। তার আগে মিলছে না রিপোর্ট। উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সিটিস্ক্যানের রিপোর্ট পেতে এভাবেই হয়রান হচ্ছেন রোগীরা। তার থেকেও বড় সমস্যা, রিপোর্ট দ্রুত না পাওয়ায় রোগ নির্ণয়ে দেরি হচ্ছে। ফলে সময়মতো সঠিক চিকিৎসা শুরু করা যাচ্ছে না। এতে রোগীর অবস্থা খারাপ হচ্ছে। 

Advertisement

কারও বা অস্ত্রোপচারের জায়গায় সংক্রমণ দেখা দিয়েছে, ঝরছে পুঁজরক্ত, কেউ বা পেটে অসহ্য যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। ডাক্তারের পরামর্শে মেডিক্যাল থেকে সিটিস্ক্যান করালেও ১০ থেকে ১৪ দিনের আগে রিপোর্ট না পাওয়ায় সেই অসুস্থতা আরও বেড়ে যাচ্ছে। সোমবার হাসপাতালের অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারের ঘরে গিয়ে সরাসরি এই অভিযোগ করলেন একাধিক রোগী ও  পরিবারের সদস্যরা। কেউ এসেছেন চটহাট থেকে, কেউ শিলিগুড়ি লাগোয়া শান্তিনগর, মাটিগাড়া থেকে। কেউ গোঁসাইপুর, খড়িবাড়ি থেকে। 
২২ বছরের বধূ অপর্ণা সরকার পেটে ব্যথা নিয়ে প্রসূতি বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন। চিকিৎসকরা তাকে জরুরি ভিত্তিতে সিটিস্ক্যান করতে বলেন। তিনি সিটিস্ক্যান করান। কিন্তু এদিন পর্যন্ত সেই রিপোর্ট তিনি পাননি। পেটে ব্যথা কমলেও শারীরিক অসুস্থতা কি কারণে হচ্ছে তা নির্ণয় করে চিকিৎসাই শুরু হয়নি। গোঁসাইপুরের ৩৯ বছরের রতন দাস অধিকারীর পায়ে অস্ত্রোপচার হয়েছে। বাড়িতে যাওয়ার পর সেই জায়গায় সংক্রমণ দেখা দেয়। পুঁজরক্ত ঝরছে। যন্ত্রণায় টিকতে পারছেন না। এদিনটা তাঁর স্ত্রী একথা জানিয়ে বলেন, সার্জারি বিভাগের ডাক্তারদের গিয়ে সমস্যা জানিয়েছি। দ্রুত সমস্যা নির্ণয়ে তাঁরা জরুরি ভিত্তিতে সিটিস্ক্যান করার কথা লিখে দেন। কিন্তু সিটিস্ক্যানের রিপোর্ট না পেলে চিকিৎসা শুরু করা যাচ্ছে না। 
১৬ বছর বয়সের দীপিকা বর্মন তলপেটে ব্যথা নিয়ে ভর্তি হন। এদিন তার মা বলেন, আজ দশ দিন হয়ে গেল আলট্রাসনোগ্রাফি করা হয়েছে। কিন্তু রিপোর্ট না পাওয়ায় ডাক্তাররা কিছুই করতে পারছেন না। তাই  বাধ্য হয়ে অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারের অফিসে এসে সাহায্য চাইছি। এদিনের একগুচ্ছ অভিযোগে সিটিস্ক্যান বিভাগের চূড়ান্ত অব্যবস্থার দিকটি সামনে চলে এসেছে।  রেডিওলজির প্রধান ডাঃ নারায়ণ পণ্ডিত এই অভিযোগ মানতে নারাজ। তবে কেন রিপোর্ট পেতে দেরি হচ্ছে তার সদুত্তরও তিনি দিতে পারেননি। একবার বলেন, সময়মতো রিপোর্ট নিতে আসতে পারেনি বলেই এই সমস্যা। আবার বলেন, কিছু রিপোর্টের ক্ষেত্রে রোগীদের অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট, ডাক্তারের কাগজপত্র দরকার হয়। সেগুলোর অপেক্ষায় থাকতে গিয়েই রিপোর্ট দিতে দেরি হচ্ছে। কিন্তু নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতেই এই বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে বলে সাফ জানিয়েছেন রোগীর পরিবারের লোকেরা। 
তাঁরা বলেন, তাই যদি হবে তাহলে সিটিস্ক্যান করানোর সময় কাউন্টার থেকে আমাদের সেকথা জানায়নি কেন? - ফাইল চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ