Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রবিবার

মেক্সিকোর ক্রিস্টাল কেভস

আমাদের এই পৃথিবী সত্যিই এক বিচিত্র জায়গা। এখানে এমন অনেক কিছুই রয়েছে যার ব্যাখ্যা মেলা কঠিন। তেমনই কিছু জায়গার সঙ্গে তোমাদের পরিচয় করাচ্ছেন কমলিনী চক্রবর্তী।

মেক্সিকোর ক্রিস্টাল কেভস
  • ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

আমাদের এই পৃথিবী সত্যিই এক বিচিত্র জায়গা। এখানে এমন অনেক কিছুই রয়েছে যার ব্যাখ্যা মেলা কঠিন। তেমনই কিছু জায়গার সঙ্গে তোমাদের পরিচয় করাচ্ছেন কমলিনী চক্রবর্তী।

Advertisement

মধ্যপ্রদেশ যারা গিয়েছ, তারা চুনাপাথর জমে জমে স্ট্যালাকটাইট ও স্ট্যালাগমাইটের গুহা অবশ্যই দেখেছ। এমনই একটি গুহা অন্ধ্রপ্রদেশের বোরা কেভস। এবার তেমনই অন্য একটা গুহার গল্প বলি তোমাদের। এই গুহাটিতে আলো ঠিকরে ওঠে সারাক্ষণ। রাতেও আলো পড়লে চারদিক উজ্জ্বল হয়ে যায়। ভাবছ এ আবার কেমন গুহা যা রাতেও জ্বলজ্বল করে? পুরো গল্পটা বলি শোনো। মেক্সিকোর চিহুয়াহুয়া অঞ্চল এই গুহার ঠিকানা। এখানে দেখতে পাবে গুহা ভর্তি ক্রিস্টাল। পর্যটকদের কাছে গুহাটি ‘ক্রিস্টাল কেভস’ নামেই পরিচিত। ১১ মিটার দৈর্ঘ্যের এই গুহাটিতে এলোমেলো ছড়িয়ে রয়েছে ক্রিস্টাল। গুহার ছাদ থেকে নেমেছে কিছু, কিছু আবার উঠেছে মাটি ফুঁড়ে। উপর নীচের ক্রিস্টালগুলো একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ভেঙেও গিয়েছে অনেক জায়গায়। তারপর তা ছড়িয়ে পড়েছে মেঝের উপর। কিছু ক্ষেত্রে আবার ক্রিস্টালের গায়ে ক্রিস্টাল লেগে তৈরি হয়েছে ফুলের পাপড়ির মতো জিনিসপত্র। কোথাও আবার সেটা প্রদীপের আকার ধারণ করেছে। 
বহু স্তর বিশিষ্ট চকচকে এই ক্রিস্টালের উপর আলো পড়লে মনে হয় যেন গোটা গুহাটাই জ্বলছে। সাদা আলো ছড়িয়ে পড়ে গুহার ভেতর থেকে বাইরে পর্যন্ত। আবার অনেক সময় রঙের ছটাও দেখা যায় এখানে। ক্রিস্টালের গায়ে বিভিন্ন রঙের আলো পড়লে প্রতিফলিত হয়ে তা ঠিকরে পড়ে এবং চর্তুদিকে ছড়িয়ে যায়। এক্ষেত্রেও তাই হয়। এখন প্রশ্ন হল এত ক্রিস্টাল একটা গুহার ভেতর এল কীভাবে? এটা কিন্তু একদিনে হয়নি। হাজার হাজার বছর ধরে ক্রমশ জিপসাম জমতে জমতে তা ঝুলে পড়েছে গুহার ছাদ থেকে। আবার কিছু উঠেছে মাটি ফুঁড়ে। আর সেই জিপসামই একসঙ্গে জমাট বেঁধে তৈরি করেছে ক্রিস্টাল। এই গুহা দেখলে চোখের পলক পড়তে চায় না। কিন্তু এখানে আসা খুব সহজ নয়। জিপসাম ডিপোজিটের কারণে খুবই বেশি তাপমাত্রা এই গুহার ভেতর ও আশপাশের এলাকায়। মোটামুটি সব সময়ই ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে তাপমাত্রা থাকে। ফলে এই গুহার ভেতরে ঢুকতে গেলে বডি কুলিং স্যুট পরে নিতে হয়। সেই স্যুট ভাড়া পাওয়া যায়। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় এই স্যুট পরার পরেও পর্যটকদের ভীষণ কষ্ট হয় এই অঞ্চলে এলে। গায়ে র‌্যাশ বেরয়, পুড়ে যায়, লাল হয়ে যায়। ফলে আসার আগে খুব ভেবেচিন্তে আসা উচিত। শুধু তাপমাত্রাই নয়, এখানে আর্দ্রতাও ভীষণ বেশি। বাতাসে অপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ মোটামুটি ১০০ শতাংশ। এর ফলে এখানে বেড়াতে এলেও বেশিক্ষণ সময় কাটানো যায় না। তাই খুব অল্পক্ষণের স্লট ভাগ করে দেওয়া হয়েছে পর্যটকদের জন্য। এছাড়াও আছে হেলথ চেকআপের ব্যবস্থা। সব ঠিকঠাক থাকলে তবেই আসা যায় ক্রিস্টাল কেভস-এ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ