নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: মোদি সরকার ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো ডিজিটাল লেনদেনে ৩০ শতাংশ কর বসিয়েছে। তাতে কোষাগার ভরলেও জালিয়াতির ঝুঁকি কমেনি। বিষয়টি নিয়ে এবার সংসদীয় কমিটির সামনে উদ্বেগ প্রকাশ করল রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই)। জানিয়ে দিল, এ ধরনের ভার্চুয়াল ডিজিটাল অ্যাসেট বা ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনে রয়েছে প্রবল ঝুঁকি। গ্রাহকের টাকা জালিয়াতি যেমন হতে পারে, একইভাবে হতে পারে আর্থিক তছরুপ ও সন্ত্রাসে আর্থিক মদতের মতো ঘটনা। তাই ক্রিপ্টোকারেন্সির লেনদেন একেবারেই হওয়া উচিত নয় বলেই সতর্ক করল আরবিআই।
বৃহস্পতিবার ছিল অর্থ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক। বিজেপি সাংসদ ভর্তৃহরি মহতাবের সভাপতিত্বে এই বৈঠকে যোগ দিয়ে এই উদ্বেগের কথা জানান আরবিআইয়ের ডেপুটি গভর্নরের মতো উচ্চ পদাধিকারীরা। তা শুনে সৌগত রায়, এন কে প্রেমচন্দ্রনের মতো বিরোধী সাংসদদের মন্তব্য, তাহলে কেন বিষয়টি সম্পূর্ণ বন্ধ করার জন্য সরকারকে উদ্যোগ নিতে বলছে না আরবিআই? আরবিআই যাকে অবৈধ, ঝুঁকিপূর্ণ বলে উদ্বেগ প্রকাশ করছে, সেখানে সরকার কী করে সেই লেনদেনে ৩০ শতাংশ কর নিতে পারে? এব্যাপারে অর্থমন্ত্রকের বক্তব্যও দাবি করেছেন বিরোধী দলের সাংসদরা।
জানা গিয়েছে, বৈঠকে ‘ভার্চুয়াল ডিজিটাল অ্যাসেট এবং ভবিষ্যতের পথ’ নামে ২৭ পাতার একটি গোপন নোট জমা দিয়েছে আরবিআই। সেখানেই বলা হয়েছে, চীন, সৌদি আরবের মতো দেশ এ ধরনের কারেন্সির অনুমোদন করে না। সিঙ্গাপুর, জাপান নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার করে। ব্রিটেনও তাই। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ক্রিপ্টো বাজারের মূল্য ছিল প্রায় ২ লক্ষ ৮ হাজার কোটি ডলার। ভারতে ফিনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট ইন্ডিয়ার সঙ্গে ৫৪টি ক্রিপ্টোপরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা রেজিস্টার করেছে। সেগুলির ৩.৯৩ কোটি কেওয়াইসি ভেরিফায়েড হয়েছে। লেনদেন হয়েছে ২০,৪৩৬ কোটির। আরবিআই জানিয়েছে, ২০২৫ সালে অবৈধ ক্রিপ্টো লেনদেন বিশ্বজুড়ে ১৫৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। কিন্তু এই লেনদেন বাঞ্ছনীয় নয়।