Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রকমারি নাম আর গড়নের কার্তিকের সমাবেশ, পুজোর প্রথম দিনেই বাঁশবেড়িয়ায় মানুষের ঢল

বাঁশবেড়িয়ার ঐতিহ্যের অন্যতম স্মারক কার্তিক পুজো। সময়ের সঙ্গে পুজোর গায়ে লেগেছে থিমের বাহার, এসেছে আলোকসজ্জার অনবদ্য ঝলক।

রকমারি নাম আর গড়নের কার্তিকের সমাবেশ, পুজোর প্রথম দিনেই বাঁশবেড়িয়ায় মানুষের ঢল
  • ১৭ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: বাঁশবেড়িয়ার ঐতিহ্যের অন্যতম স্মারক কার্তিক পুজো। সময়ের সঙ্গে পুজোর গায়ে লেগেছে থিমের বাহার, এসেছে আলোকসজ্জার অনবদ্য ঝলক। কিন্তু সেই সুদূর কাল থেকে রয়ে গিয়েছে নানা আকারের, অদ্ভুত নামের কার্তিক পুজোর রেওয়াজ। প্রতি বছরের মতো রবিবার পুজোর প্রথম দিনেই রকমারি কার্তিক দেখতে মণ্ডপে মানুষ ভিড় জমিয়েছিলেন। কোথাও জ্যাংড়া কার্তিক, তো কোথাও মণ্ডপ আলো করেছিল রাজা কার্তিক। আবার কোথাও ষড়ানন কার্তিকের মহিমা, কীর্তনের সঙ্গে জুড়ে গিয়েছে ধুমো কার্তিক, জামাই কার্তিকের বাহার।

Advertisement

মূলত, বাঁশবেড়িয়ার সাবেক ও বর্তমান মিলিয়ে সাত-আট রকমের কার্তিক প্রতিমা দেখা যায়। কোথাও জ্যাংড়া কার্তিক, ধুমো কার্তিক, জামাই কার্তিক, অর্জুন কার্তিক, সিপাহি কার্তিক, ষড়ানন কার্তিক, ধেড়ে কার্তিক নামে পরিচিত রাজা বা দেব সেনাপতি কার্তিক। পৌরাণিকভাবে দেব সেনাপতি কার্তিক এবং ষড়ানন কার্তিকের পরিচয় মেলা কঠিন নয়। কিন্তু ধুমো, জ্যাংড়া, জামাই, নামগুলি লৌকিক জীবন থেকে জুড়েছে বলে গবেষকরা মনে করেন। জনশ্রুতি অনুসারে পুত্র সন্তানের চাহিদা থেকেই কার্তিক পুজোর চল শুরু হয়েছিল। তাই মা যেমন কার্তিকের মতো ছেলে চেয়েছেন, শাশুড়ি মা তেমনই চেয়েছেন কার্তিকের মতো জামাই। আর তরুণী চেয়েছেন নবকার্তিক, যে হবে অর্জুনের মতো পারদর্শী, বীর। দীর্ঘদিন ধরে এই পুজোর সঙ্গে জুড়ে আছেন বাঁশবেড়িয়া পুরসভার কাউন্সিলার অমিত ঘোষ। তিনি বলেন, বিচিত্র নামে আমাদের কার্তিকরা পুজিত হন কিন্তু সবগুলির সঙ্গেই জড়িয়ে আছে ভক্তের ভালোবাসা। দেবতা এখানে ঘরের মানুষ। তাই তাঁকে সন্তানতুল্য করে ডাকা বা আরাধনা করা হয়।
বাঁশবেড়িয়ায় বেশ কিছু জায়গায় ধুমো কার্তিকের পুজো হয়। বেশ বড় আকারের কার্তিক, হেঁটো ধুতি পরে পুজো নেন। অনেকের দাবি, ধুমো আসলে ধুমসো শব্দের অপভ্রংশ। যার অর্থ বড়সড়, কিন্তু বয়সের তুলনায় অপরিণত বুদ্ধি। ধেড়ে শব্দটিও গ্রামবাংলায় সুপরিচিত। সেই কার্তিকও কতটা ধুমো কার্তিকের মতোই। এখানে কিছুটা পৃথক জ্যাংড়া কার্তিক বা জিলিপি কার্তিক। 
জ্যাংড়া শব্দটির অর্থ ঘোড়সওয়ার। মজার কথা, এই কার্তিক ময়ূরের উপরে বসে থাকলেও তাঁর পায়ের ভঙ্গি ঘোড়সওয়ারের মতো। এই কার্তিককে জিলিপি ভোগ দিতেই হয়। তাই তাঁর অন্য নাম জিলিপি কার্তিক। পুরাণ অনুসারে কার্তিক দেব সেনাপতি। কিন্তু সেনাপতি হওয়ার আগে তো সৈন্য হতে হয়। সেখান থেকেই হয়তো সিপাহি কার্তিকের নাম এসেছে। বর্তমানে আদলে বদল এসেছে। কিন্তু শুরুর দিকে এই কার্তিক ইংরেজ সেপাইয়ের বেশে পুজো নিতেন। ছ’মাথার কার্তিক দেব সেনাপতির পৌরাণিক রূপ। আবার দেবতাকে রাজা সাজিয়ে রাখা বাঙালির পুরনো রেওয়াজ। যদিও পৌরাণিকভাবে কার্তিকের অস্ত্র তীর-ধনুক নয়, কিন্তু ধনুর্ধারী কার্তিক আকছার দেখা যায় বাঁশবেড়িয়ায়। মহাকাব্যের অর্জুনের সঙ্গে সেই কার্তিককে জুড়ে অর্জুন কার্তিকের নাম এসেছে। পুজো শুরু হয়েছে রবিবার। থিম আর আলোর বাহারের মধ্যে অভিনব কার্তিকের সমাবেশ দেখতে ছুটির দিনে ভক্তের ঢল নেমেছিল বাঁশবেড়িয়ায়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ