নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: ক’ দিন আগে রানাঘাট ২ ব্লকে বিজেপির মিছিলের রুটেই পদযাত্রা করল তৃণমূল। জেলা সভাপতি বাদে কোনও বড় নেতা ছাড়াই আয়োজিত সেই মিছিলে উপচে পড়ে ভিড়। মূলত বিদেশে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মকাণ্ড তুলে ধরতেই এই পদযাত্রার আয়োজন। যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মিছিল ছিল বিজেপির পাল্টা রাজনৈতিক পদক্ষেপ। মূলত ভোটের আগে উত্তর-পূর্ব বিধানসভা এলাকায় নিজেদের জমি কতটা মজবুত তার বার্তা গেরুয়া শিবিরের কাছে পৌঁছে দিতেই এই মিছিলের আয়োজন। পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসবাদী হামলার পর কেন্দ্রীয় স্তরে শাসক-বিরোধী ঐক্যের মাধ্যমে পাকিস্তানকে উচিত জবাব দিতে পদক্ষেপ করে ভারত। পরবর্তীতে পাকিস্তানের মাটিতে বেড়ে ওঠা সন্ত্রাসবাদ এবং পাকিস্তানের ন্যক্কারজনক ভূমিকা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে একাধিক সংসদীয় দল। তারই মধ্যে একটি দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কী কী বক্তব্য বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরছেন তৃণমূলের সেনাপতি, তা সাধারণ মানুষ পর্যন্ত পৌঁছে দিতে পদযাত্রার আয়োজন করে রানাঘাট সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও রাজনীতি সচেতন মানুষের মতে, রানাঘাট ২ ব্লকের ন›পাড়া থেকে পানিখালি পর্যন্ত আয়োজিত সেই মিছিলের মূল উদ্দেশ্যই ছিল বিজেপির পাল্টা মহামিছিল। সেইসঙ্গে রানাঘাট উত্তর-পূর্ব বিধানসভার মাটিতে নিজেদের শক্ত জমির বার্তা বিরোধীদের দুয়ার পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া। ক›দিন আগেই এই পথেই পদযাত্রা করেছেন বিজেপির রাজ্য নেতারা। মঙ্গলবার বিকেলে তৃণমূলের মিছিলে উপচে পড়ে ভিড়। রানাঘাট ২ এ এবং বি উভয় ব্লকের তরফেই কর্মী সমর্থকরা অংশ নেন পদযাত্রায়। যার নেতৃত্বে ছিলেন রানাঘাট সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায় এবং রানাঘাট উত্তর-পূর্ব বিধানসভার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সমীর পোদ্দার। বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ নওপাড়া থেকে শুরু হওয়া মিছিল পানিখালি পৌঁছতে বেজে যায় সন্ধ্যা ছ’টা। আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল সাংগঠনিকভাবে কতটা প্রস্তুত তার ঝলক দেখা যায় এদিনের মিছিলের জনসমাগম থেকেই। পানিখালিতে পদযাত্রা শেষ হওয়ার পর জনসভাও করেন জেলা সভাপতি এবং প্রাক্তন বিধায়ক। সেখান থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যাকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি কড়া আক্রমণ করা হয় বিজেপিকে। জেলা সভাপতি দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, আমাদের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে সারা বিশ্বে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করছেন তা অত্যন্ত গর্বের। আমরা সাধারণ মানুষের কাছে তা পৌঁছে দিতে চাই। আর বিজেপিকে নিয়ে আমরা ভাবছি না। কারণ আমরা এগিয়ে রয়েছি তাদের থেকে। আমাদের মিছিলের ভিড় থেকেই তাদের কাছে বার্তা চলে গিয়েছে। আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচনে রানাঘাটে তৃণমূল স্বমহিমায় ফিরবে।



