নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: ১০২ বছর আগের কথা। ভবেশ চক্রবর্তী স্বপ্নাদেশ পেয়ে শুরু করেছিলেন বড়োমার পুজো। তখন লুকোমুখে ছিল—‘ভবেশ কালী’। আজ সেই দেবীই লক্ষ লক্ষ মানুষের ‘বড়োমা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। যে বড়োমাকে পুজো দেওয়ার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাজার হাজার মানুষ অপেক্ষা করে থাকেন। এবারও প্রতিমাশিল্পী রাজু দাস ২২ ফুটের বড়োমার প্রতিমা তৈরি করেছেন। পরম্পরা মেনে অরবিন্দ রোডের উপর তাঁরই পুজো চলছে। ৫০ ভরি সোনা এবং ১০০ কেজি রুপোর গয়নায় বড়োমাকে সাজানো হয়েছে। ভক্তদের দণ্ডি কাটা শুরু হয়েছে গত শনিবার থেকে। পুলিশের হিসেবে, সোমবার ভোর হতেই ৪০ হাজারের বেশি মানুষ দণ্ডি কেটেছেন। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে বড়োমার কাছে প্রার্থনা করছেন। অঝোরে কাঁদতে দেখা গিয়েছে বহু ভক্তকে। আর সেইসব ভক্তকে সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পুলিশকে। গোটা এলাকা সিসি ক্যামেরায় মুড়ে ফেলা হয়েছে। প্রতি ঘণ্টায় ড্রোন দিয়ে নজরদারি চলছে। এসপি পদমর্যাদার অফিসার রাহুল গোস্বামী পুরোটার নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন। এক হাজার পুলিশ কর্মী মোতায়ন রয়েছে বড়োমার মন্দিরকে ঘিরে।
কালীপুজোর সন্ধ্যায় নৈহাটি জুড়ে রীতিমতো মানুষের ঢল নেমেছে। সামলাতে পুলিশ কমিশনার মুরলীধর শর্মা নিজে বড়োমার মন্দিরে কন্ট্রোল রুম করে নজরদারি করছেন। যেকোনও প্রয়োজনে ১০০ নম্বর ডায়ালে ফোন করার জন্য দর্শনার্থীদের অনুরোধ করা হচ্ছে। ব্যস্ততম আরবিসি রোডে সমস্ত গাড়ি যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রাত ১২টায় বড়োমার পুজো শুরু হয়েছে। রাতভর পুজো হয়। আড়াইটায় শুরু হয় অঞ্জলি। শুধু বড়োমা নয়, নৈহাটি স্টেশনের পূর্বপাড়ে ৭ নম্বর বিজয়নগর কাঠগোলা পূজা কমিটি, হকার ইউনিয়নের বিষ্ণু মন্দির, নিউ স্টার ক্লাবের স্বর্ণ অলংকার পরিহিত মাকালীকে দর্শন করতে ভিড় জমাচ্ছেন মানুষ। নদীয়া জুটমিল থেকে সমস্ত গাড়ি ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। রীতিমতো জনজোয়ার নৈহাটি জুড়ে।
বড়োমা মন্দির ট্রাস্ট কমিটির সভাপতি তথা নৈহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান অশোক চট্টোপাধ্যায় বলেন, এদিন লক্ষাধিক মানুষ দণ্ডি কেটেছেন। বড়োমাকে ঘিরে মানুষের আবেগ তৈরি হয়েছে। আজ মঙ্গলবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বড়োমাকে পুজো দিতে আসছেন। তাঁর জন্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও জোর কড়াকড়ি করা হয়েছে।
বারাকপুরের পুলিশ কমিশনার মুরলীধর শর্মা বলেন, বড়োমার পুজোয় যে হারে ভিড় বাড়ছে, তার জন্য বড়ো মাপের পরিকল্পনা করা দরকার। গঙ্গারঘাট আরও বড়ো করতে হবে। আমরা গোটা এলাকা সিসি ক্যামেরায় মুড়ে দিয়েছি। কলকাতায় বড়ো বড়ো পুজোয় প্রতিমা দর্শন করে দর্শনার্থীরা বেরিয়ে যান। কিন্তু এখানে মানুষ যেভাবে দণ্ডি কাটেন, তাতেই সময় লেগে যায় অনেক বেশি। অঞ্জলি দিতে বহু মানুষ রাস্তায় বসে থাকেন। নিরাপদে নিশ্চিন্তে সকলের পুজো দেওয়ার ব্যবস্থা করছেন এক হাজার পুলিশ কর্মী। এসপি পদমর্যাদার অফিসার দায়িত্বে আছেন। ভিড় টানায় রাজ্যের অন্যান্য মন্দিরকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন বড়োমা। দাবি বড়োমা মন্দির কমিটির কর্তাব্যক্তিদের। নিজস্ব চিত্র