নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: নিম্নচাপের ভ্রুকুটিও দমাতে পারছে না উৎসবমুখর বাঙালিকে। কলকাতা সহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। কোথাও ঝেঁপে বৃষ্টি, কোথাও ঝিরঝিরে। তা সত্ত্বেও মানুষের ঢল নামল মণ্ডপে মণ্ডপে। এছাড়া বহু পুজোর উদ্বোধনও হয়েছে শুক্রবার। আবার, হাওয়া ও বৃষ্টির জেরে আলোর গেট ভেঙে বিপত্তি ঘটল বারাসতে।
সন্ধ্যায় আকাশ পরিষ্কার হওয়ায় বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে দর্শনার্থীরা রাস্তায় নামেন। ইছাপুরের আনন্দমঠের পুজো মণ্ডপ উদ্বোধন হয়। চতুর্থীর সন্ধ্যায় কাঁচরাপাড়া, নৈহাটির একাধিক পুজো উদ্বোধন করেন সাংসদ পার্থ ভৌমিক। পানশিলা ঠাকুরবাড়ি দুর্গা মণ্ডপের উদ্বোধন করেন স্থানীয় বিধায়ক তথা কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বারাকপুরে সুকান্ত সরণির তালবাগান, চন্দনপুকুর ও চিড়িয়ামোড়ের মণ্ডপে ভিড় উপচে পড়ে। কাঁচরাপাড়ায় বিভিন্ন পুজোর মধ্যে বিশেষ করে বিশ্বনাথ সমাজস্মৃতি সংঘ, ষোলোর পল্লি, নবাঙ্কুর ক্লাব নজর কেড়েছে। বরানগরের সিঁথির মোড়ে বন্ধুদল স্পোটিং ক্লাব, লোল্যান্ড, দাদাভাই সংঘের পুজোয় দর্শনার্থীদের ঢল নামে। দমদমের হনুমান মন্দির লাগোয়া জপুর জয়শ্রীর থিমের মণ্ডপেও ভালো ভিড় হয়। একই চিত্র দেখা গিয়েছে, কামারহাটি, পানিহাটি ও নিউ বারাকপুরের বিভিন্ন মণ্ডপে। তবে দফায় দফায় বৃষ্টি বহু পুজো কমিটিকে বিপাকে ফেলেছে। এখনও অনেক মণ্ডপের কাজ শেষ করতে পারেননি শিল্পীরা।
হাওড়া গ্রামীণ জেলার একাধিক পুজো উদ্বোধন হওয়ামাত্র মণ্ডপে কালো মাথার ভিড় দেখা গিয়েছে। উলুবেড়িয়া, বাউড়িয়া, শ্যামপুর, আমতা, বাগনান, উদয়নারায়ণপুরে একের পর এক পুজোর উদ্বোধন হয়ে চলেছে। বাগনানের খালোড় যুব সংঘ সহ বিভিন্ন পুজো উদ্বোধন করেন মন্ত্রী পুলক রায়। উলুবেড়িয়া শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালীবাড়ির দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করেন তিনি। নাতির হাত ধরে মণ্ডপে এসেছিলেন, খালোড়ের অবিনাশ বন্দ্যোপাধ্যায়। বললেন, এমন আবহাওয়ার জন্যই আগেভাগে ঠাকুর দেখে নিচ্ছি।
গত কয়েকদিন হাওড়ার বাজারগুলিতে সেভাবে ভিড় দেখা যায়নি। তবে শুক্রবার বিকেলের পর থেকেই হাওড়া ময়দান চত্বরে কেনাকাটা করতে মানুষের ভিড় হয়েছে। পাশাপাশি শিবপুর বাজার, জি টি রোডের বাজারগুলিতেও পা ফেলা দায়। ক্রেতাদের ভিড় দেখে হাসি ফুটেছে দোকানিদের মুখেও। রেডিমেড পোশাক বিক্রেতা শ্যামল সমাদ্দার বলেন, ‘বৃষ্টিতে বাজারটাও মার খেল। আশা করছি, এই দু’তিন দিন ভালো বিক্রি হবে।’ তবে, সকালে বৃষ্টির পর সন্ধ্যা নামতেই হুগলি থেকে ডানকুনি, শ্রীরামপুর থেকে বলাগড়ের মণ্ডপে মানুষের ঢল নামে। রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, তপন দাশগুপ্ত, সুবীর মুখোপাধ্যায়রা পুজোর উদ্বোধন করেছেন। চুঁচুড়ার মার্কণ্ডগলি সর্বজনীন, ডানকুনির একাধিক ক্লাব, শ্রীরামপুরের মাহেশ কলোনি সর্বজনীনে ভিড় দেখা গিয়েছে। এবার শতবর্ষ হওয়ায় চুঁচুড়া জেলাখানার পুজোয় ভিড়ের দাপট ছিল শুক্রবার দুপুর থেকে ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি শুরু হয় বারাসতে। দমকা হাওয়ার জেরে দুর্গাপুজোর আলোর ওভারহেড গেট ভেঙে যানজটের সৃষ্টি হয় বারাসত-টাকি রোড। বারাসত থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। পাশাপাশি ডেকরেটার্স সংস্থার এক কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনাটি বারাসতের ঘোলা কাজিপাড়ার।