Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নথি সংশোধনের জন্য এফিডেভিট করাতে ভিড় বারাসত আদালতে, এসআইআরে কাজে লাগবে না, বলছেন আইনজীবীরা

এসআইআরের জন্য আজ থেকে শুরু হচ্ছে বিএলওদের বাড়ি বাড়ি যাওয়ার পর্ব। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে বিভিন্ন জায়গায় ক্যাম্প করবে তৃণমূল সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।

নথি সংশোধনের জন্য এফিডেভিট করাতে ভিড় বারাসত আদালতে, এসআইআরে কাজে লাগবে না, বলছেন আইনজীবীরা
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: এসআইআরের জন্য আজ থেকে শুরু হচ্ছে বিএলওদের বাড়ি বাড়ি যাওয়ার পর্ব। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে বিভিন্ন জায়গায় ক্যাম্প করবে তৃণমূল সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। এই আবহে বারাসত জেলা আদালতে সপ্তাহখানেক ধরে মানুষের ভিড় দেখা যাচ্ছে। উদ্দেশ্য এফিডেভিট করিয়ে নামের বানান ঠিক বা জন্মের তারিখ সহ বিভিন্ন নথি সংশোধন। কাগজ সংগ্রহ করতে তুমুল হুড়োহুড়ি দেখা যাচ্ছে আদালত চত্বরে। তবে আইনজীবীরা বলছেন, এই ধরনের এফিডেভিট এসআইআর-এ কোনও কাজে লাগবে না। 

Advertisement

ভোটার তালিকায় নাম সংশোধন, নতুন নাম অন্তর্ভুক্তি, জন্মের প্রমাণ সংক্রান্ত নথিপত্রের জন্য সবাই এফিডেভিট করাতে আদালত চত্বরে ভিড় জমাচ্ছেন। সোমবারও বারাসত আদালত চত্বরে দেখা গেল ভালোরকম ভিড়। আইনজীবীরা বলছেন, গত কয়েকদিনে এমন ভিড় বহুদিন দেখা যায়নি। অনেকেই বিভ্রান্ত। কেউ ভাবছেন এটি নাগরিকত্ব যাচাইয়ের বিষয়। কেউ আবার মনে করছেন, ভবিষ্যতে নথি লাগতে পারে। তাই আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখছেন। নির্বাচন কমিশনের তরফে অবশ্য জানানো হয়েছে, এসআইআর ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া। এর সঙ্গে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের কোনও সম্পর্ক নেই। এই প্রক্রিয়া চলবে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে, কোর্টের এফিডেভিট করানোর ধুম স্রেফ অজ্ঞতার কারণে বলেই মনে করছেন আইনজীবীদের বড় অংশ। সূত্রের খবর, আগে যেখানে ১০০টি মতো এফিডেভিট জমা পড়ত, এখন সেই সংখ্যাটা প্রতিদিন ৫০০ ছুঁইছুঁই। 
এদিন হাবড়া রাজীবপুর থেকে আদালতে এসেছিলেন রহিমা বিবি। তিনি বলেন, ‘এসআইআর হচ্ছে তো। সব কাগজ আছে। তবে আমার ভোটার কার্ডে জন্মের তারিখ ছিল না। কেবল সালটাই ছিল। তাই এফিডেভিট করিয়ে রাখলাম। তাছাড়া আমার ব্যাংকেও এর জন্য এফিডেভিট করতে বলেছিল।’ দেগঙ্গার রাখাল দাস বলছিলেন, ‘আমি তিন দিন আগে এফিডেভিট করাতে দিয়েছি। ফাইনাল কাগজ নিতে এসেছি। ভোটার কার্ড ও আধার কার্ডের নাম আলাদা হয়ে আছে। তাই এফিডেভিট করিয়ে রাখলাম।’ বারাসত আদালতের আইনজীবী ভাস্কর রায় বলেন, ‘এসআইআর মূলত ভোটার তালিকার। এর সঙ্গে নাগরিকত্বের কোনও ব্যাপার নেই। তাছাড়া নির্বাচন কমিশন যে সমস্ত কাগজের কথা বলেছে, তার মধ্যে কোনও এফিডেভিট নেই। মূলত মানুষের অজ্ঞতার কারণেই এটা হচ্ছে। আইনজীবীদেরই উচিত, মানুষকে বিষয়টি বোঝানো।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ