Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রাম বিজয়ার শোভাযাত্রাকে ঘিরে জনস্রোত মধ্য হাওড়ায়, পা মেলালেন লক্ষাধিক ভক্ত

সকাল থেকেই আকাশের মুখ ভার। মাঝেমধ্যে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি। সেই বৃষ্টি মাথায় করেই শ্রাবণের শেষ রবিবার রাম ঠাকুরের বিসর্জনকে ঘিরে মধ্য হাওড়ায় উপচে পড়ল জনস্রোত।

রাম বিজয়ার শোভাযাত্রাকে ঘিরে জনস্রোত মধ্য হাওড়ায়, পা মেলালেন লক্ষাধিক ভক্ত
  • ১৮ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: সকাল থেকেই আকাশের মুখ ভার। মাঝেমধ্যে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি। সেই বৃষ্টি মাথায় করেই শ্রাবণের শেষ রবিবার রাম ঠাকুরের বিসর্জনকে ঘিরে মধ্য হাওড়ায় উপচে পড়ল জনস্রোত। ৩০০ বছরের প্রাচীন রামরাজাতলার ঐতিহ্যবাহী রাম বিজয়ায় এই ভিড় প্রতি বছরই যেন অভিনব রূপ নেয়। নেতাজি সুভাষ রোড ধরে রামকৃষ্ণপুর ঘাট পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ শোভাযাত্রা সামলাতে এদিন হাওড়া সিটি পুলিস একাধিক ব্যবস্থা নিয়েছিল।

Advertisement

এই শোভাযাত্রাকে ঘিরে সকাল থেকেই মধ্য হাওড়ার বিভিন্ন রাস্তা সেজে উঠেছে নানা রঙে। তৈরি হয়েছে একাধিক জলসত্র। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মধ্য হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়। দুপুরের মধ্যেই রামচরণ শেঠ রোড, শাস্ত্রী নরেন্দ্র গাঙ্গুলি রোড, মহেন্দ্র ভট্টাচার্য রোড, নেতাজি সুভাষ রোডে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয় পুলিস। বছরের পর বছর ধরে চলে আসা এই শোভাযাত্রায় নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে দুপুর ১২টা নাগাদ ইছাপুরের দেবী সৌম্যচণ্ডীকে সাঁতরাগাছি মোড়ে নিয়ে আসা হয়। এরপর বাকসাড়া থেকে একে একে আসেন ছোট নবনারী ও বড় নবনারী। সবশেষে থাকে রামরাজার বিরাট শোভাযাত্রা। সারিবদ্ধ হয়ে গোটা শোভাযাত্রাটি নতুন রাস্তার মোড়, চক্রবেড়িয়া, নেতাজি সুভাষ রোড, মল্লিক ফটক, পি কে ব্যানার্জি রোড হয়ে বিসর্জনের জন্য রামকৃষ্ণপুর ঘাটে পৌঁছয়। আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা বাদ্যযন্ত্র সহ রাম, হনুমান, বামনাবতারের ছোট ছোট পুজো কমিটিগুলিও অংশ নেয়। শোভাযাত্রা চলাকালীন এই রুটে বিদ্যুৎ সংযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। হাওড়া সিটি পুলিসের এক পদস্থ কর্তা বলেন, ‘এই রুটে একাধিক থানার কয়েকশো পুলিস মোতায়েন করা হয়েছিল। বিকল্প রাস্তায় যাতে যানজট না হয়, সেজন্য অতিরিক্ত সিভিক ভলান্টিয়ারও ছিল। অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সেকারণে ড্রোনের মাধ্যমেও নজরদারি চালানো হয়েছে।’
১৭৫০ সাল নাগাদ উত্তরপ্রদেশের কনৌজি ব্রাহ্মণ পরিবারের হাত ধরে নোনাপুকুরে শুরু হয়েছিল রামরাজার পুজো। রাজা মদন ঘোষের বংশধর রাজা অযোধ্যা রাম চৌধুরী নাকি স্বপ্নাদেশে এই পুজো শুরুর বিধান পেয়েছিলেন। কয়েক বছর পর সেই পুজো চলে আসে তৎকালীন শখেরবাজার, অধুনা রামরাজাতলার মন্দিরে। রামনবমীতে ২৬ ফুট উচ্চতার যে রাম এখানে পূজিত হন, তাঁর গাত্রবর্ণ সবুজ। রাজবেশে গোঁফধারী এই রাম ভক্তদের কাছে রামরাজা। রামের সঙ্গেই একই কাঠামোতে পূজিত হন সীতা। সঙ্গে পুজো হয় ব্রহ্মা, মহাদেব, সরস্বতী সহ পঁচিশ দেব-দেবীর। রামনবমী থেকে চার মাস পুজো চলার পর শ্রাবণের শেষ রবিবার হয় বিসর্জন। শোনা যায়, ব্রিটিশ আমলে এই শোভাযাত্রা চলাকালীন বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছিল। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলা হয়ে ওঠে প্রিভি কাউন্সিলে। তারপরেই সিদ্ধান্ত হয়, রামরাজার উচ্চতা অনুযায়ী শোভাযাত্রার রাস্তায় বিদ্যুতের খুঁটির উচ্চতা বাড়ানো হবে। আজও দেখা যায়, রামরাজাতলা থেকে গঙ্গার ঘাট পর্যন্ত বিদ্যুতের খুঁটিগুলির উচ্চতা অন্যান্য জায়গার তুলনায় বেশ খানিকটা বেশি। - নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ